knowledge

সুন্দরী কেমন

লম্বা-ছোটোখাটো , রোগা-মোটা নানা চেহারার মেয়েরা রয়েছে এই পৃথিবীতে । কার চোখে ঠিক কাকে সুন্দর লাগে সেটা বলা বা বোঝা মুশকিল । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো , পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের সুন্দরী মেয়েদের সংজ্ঞা আলাদা আলাদা । এখানে এইরকমই কিছু দেশের ব্যাপারে আলোচনা করা হলো

১) আয়ারল্যান্ড

এই দেশের মেয়েরা নিজেদের রূপ নিয়ে বেশ গর্বিত থাকেন , তাদের থাকে সাদা রং, পাতলা ঠোঁটের ঘন ভ্রু । তবে এখানে সুন্দরী তাকেই মানা হয় যার আছে লাল চুল , সবুজ চোখ , চওড়া কপাল আর হালকা ছোপ যুক্ত মুখ । আইরিশ মানুষজন স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যকে খুব গুরুত্ব দেন তাই এখানের মেয়েরা প্লাস্টিক সার্জারি এড়িয়ে চলেন ।

২) জাপান

পাশ্চাত্য দেশে হাসিটিকে যেমন নিখুঁত হাসি হলে বেশি বাহবা দেয়া হয় , এই প্রাচ্যের দেশে ঠিক তার উল্টো । এখানে মেয়েদের গজদন্ত থাকলে , দাঁতের গঠন এলোমেলো থাকলে যে হাসি হয় তাকে খুব সুন্দর বলা হয় । এইরকমভাবে সুন্দরী হবার জন্য আজকাল জাপানি মেয়ে ডেন্টাল ক্লিনিকে ভিড় জমান । জাপানিদের কাছে এই রকম দাঁতের গঠনের মেয়ে মানে খুব পবিত্র আর যৌবনের প্রতীক ।

৩) ইরান

সুন্দর নাক এখানের  সুন্দরীদের জন্য আবশ্যক । নানা তথ্য সংগ্রহে দেখা গেছে যে পৃথিবীর সব থেকে বেশি নাকের সার্জারি হয় ইরানে । আসলে , এখানে মেয়েদের প্রায় সব কিছুই ঢেকে রাখতে হয় , মুখের কিছু অংশ ছাড়া । তাই নাকটিকে কি করে সুন্দর করে তোলা যায় তার জন্যই মেয়েদের চিন্তা বেশি । রহিনোপলসটি এমনিতে বেশ খরচ সাপেক্ষ , তাই যারা এটি করে থাকেন তারা বেশ ধনী পরিবারের । তবে অনেকে মিথ্যা করে নাকে ব্যান্ডেজ বেঁধে ও রাখে এটা বোঝাতে যে তারাও খুব ধনী মহিলা ।

৪) দক্ষিণ কোরিয়া

এই দেশের সুন্দরী মানে থাকতে হবে নিখুঁত সাদা গায়ের রং , ছোট্ট মুখ , টিকালো নাক আর বড়ো চোখ । তবে এর উপরেও যেটা দেখা হয় সেটা হলো মুখের আদল , তা যেন হার্টের আকৃতির মানে অনেকটা পানপাতার মতো হয় । এতে চিবুক থাকবে সরু আর কপালের দিকটা একটু চওড়া । আজকাল এই আদর্শ রূপ পেতে মেয়েরা প্লাস্টিক সার্জারি করতে পিছুপা হচ্ছেন না ।

৫) ফ্রান্স

এখানে মেয়েরা নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্যে বিশ্বাস করে , সবদিক দিয়েই সেটাকে রাখা করার চেষ্টা করে । তাই এখানে মেয়েরা মেকাপ ও কম ব্যবহার করেন , পারফিউম ও ব্যবহার করেন না আর গায়ের-হাতের লোম ও যেমন আছে তেমনি রাখেন । তাঁদের ধারণা মুখের ত্বকেই বোঝা যায় তুমি কত সুন্দর । তাই তারা নানা ক্রীম লাগিয়ে সৌন্দর্য চর্চা করে থাকেন সাথে খাওয়া দাওয়া ও ঠিকঠাক  করেন ।

৬) তাজাকিস্তান

এই দেশে মেয়েদের সুন্দর আর ঘন ভ্রুকে সুন্দর হিসাবে দেখা হয় । এমনকি ভ্রুগুলি যদি একে অন্যের সাথে জুড়ে থাকে তাহলে তো আরো ভালো । আসলে এখানে মানুষজনের বিশ্বাস এই যে যদি মেয়েদের ভ্রু জুড়ে থাকে তবে তাদের হাজব্যান্ড ও তাদের কাছাকাছি ই থাকে ।তাদের কাছে তাই  এই ধরণের ভ্রু পবিত্রতা আর সরলতার পরিচায়ক । সময়ের সাথে সাথে অনেককিছু পরিবর্তন হলেও , এখানের  মেয়েরা এখনো ভ্রু ঘন করতে নানা আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার করে ।

৭) সৌদি আরব

চোখের ভাষা খুবই সুন্দর হয়ে ওঠে যদি আমরা চোখ কে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারি । আর সৌদি আরবের মতো দেশে , যেখানে ধর্মের কারণে মেয়েদের  শরীরের অনেকটাই ঢেকে রাখতে হয় , সেখানে চোখ কে কত সুন্দর করা যায় তা শিক্ষণীয় । চোখের জন্য তারা নানা দামি মেকাপ , কাজল ব্যবহার করে থাকেন ।এর জন্য  পয়সা খরচ করতে পিছুপা হননা ।

৮) চীন

এখানে বরফের মতো সাদা, প্রায় বিবর্ণ রং ই সৌন্দর্য্যের মাপকাঠি । অতীতে সাধারণত গায়ের রং দিয়ে ধনী – গরিব বোঝা যেত , যারা রোদে পুড়ে কালো হয়ে থাকতো তারা গরিব । এখনকার মেয়েরা একেবারেই চায়না এই ভেদাভেদ রাখতে । তাই রোদে থাকা তো দূরে থাকে , নিজেকে সাদা কাগজের মতো দেখতে তারা নানা ক্রিমের সাহায্য নেয় । স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রীম এখানে খুব জনপ্রিয় ।

৯) মায়ানমার

এখানের মেয়েদের সৌন্দর্য্য দেখা হয় গলায় , যার গলা যত লম্বা সে মেয়ে তত সৌভাগ্যশালিনী আর সুন্দরী । মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই বাছা মেয়েদের গলায় রোল করা ব্রাশের কয়েল জড়ানো থাকে । বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কয়েলের সংখ্যা ও বাড়তে থাকে । বিয়ের আগে পর্যন্ত কয়েল জড়ানো থাকে আর এইভাবে রাখার ফলে গলার দৈর্ঘ্য ও বাড়তে থাকে । কয়েলের জন্য অনেকসময় মেয়েদের ঘর ফেরানো সমস্যা হয় কিন্তু তারা অভিযোগ করেন  না , আসলে সুন্দরী হতে গেলে ধৈর্য্য ও চাই যে ।

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply