a thought

১০০ বছর আগে

উফফ , ১৭ ঘন্টা প্লেনে বসে থাকা , সময় কাটতেই চায়না । ঘুমিয়ে যে সময় কাটাবে সেটা তো তোমার হাতে নেই । তোমার হাতে মানে হাতের কাছে আছে যেটা , সেটা হলো একটা ভিডিও স্ক্রিন | যেখানে থাকা সিনেমা দেখে সময় কাটানো যেতে পারে । তা সেই মুভিরলিস্ট নাড়াচাড়া করতে গিয়ে দেখি প্রায় সবই দেখা অথবা যা আছে তা দেখার কোনো আগ্রহই হচ্ছে না । এমনি করতে করতে চোখে ভাসলো একটি মারাঠি মুভি , ” আনন্দী গোপাল” , ছবিটির বিষয়বস্তু দেখে নিয়ে পুরো মুভিটি দেখতে লাগলাম । বিশ্বাস করো , যদিও মারাঠি ভাষা নিয়ে কিছুই জানি না তবুও মুভিটি একটুখানি ও বোঝার বাইরে গেলো না । প্রথমত , এর সাথে থাকা সাবটাইটেল সাহায্য করলো বুঝতে , দ্বিতীয়ত , মুভিটি এমনভাবে বানানো যে দেখতে দেখতে এর সাথে মন আপনি একাত্মও হয়ে যাবে । কেন যে এরকম মুভি অস্কারের জন্য পাঠানো হয় না জানিনা ।
ছবিটির বিষয়বস্তু হলো মেয়েদের পড়াশুনা শেখা নিয়ে । শিক্ষা না দিয়ে ছোটবেলাতেই বিয়ে দিয়ে দেয়া এক বালিকা কেমন করে স্বামীর অনুপ্রেরণায় , জীবনের নানা বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে , একা একা আমেরিকায় গিয়ে ২১ বছর বয়সে ডাক্তারি ডিগ্রি অর্জন করেছিল তাই জানায় ‘ আনন্দী গোপাল ” ।মেয়েটির লড়াই দেখে নিজের মনে অনেক প্রশ্ন উঠলো , আজকের দিনে আমরা মেয়েরা কত সহজে এখন কত কিছুই করতে পারি । অথচ একসময় মেয়েদের সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য ও কত লড়াই করতে হয়েছে তা ভেবে শিউরে উঠতে হয় । সামান্য ১০০ বছর আগে ও মেয়েরা ঠিক কি কি করতে পারতো না তা জানা আছে কি ? চলো , বলি …………………………

১) মেয়েরা বাজারে যেতে পারতো না , তারা নিজেরা কিছু কিনতে পারতো না । এমনকি কোনো কোনো জায়গায় মেয়েরা একাকী ঢোকার ও অনুমতি পেতো না ।প্রায় সবসময়ই বাড়ির কোনো না কোনো পুরুষ তাদের সাথে নিয়ে যেত । পুরুষরা সাথে যেত মেয়েদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে ।

২) আমরা আজকাল তো কত সহজেই প্যান্ট-জিন্স পরে ঘুরি কিন্তু একসময় মানে এই ১০০ বছরের মধ্যেই , মেয়েরা স্কার্ট ছাড়া কিছু পরতে পেতো না । প্যান্ট পরা তো প্রায় আইনবিরুদ্ধ ছিল আর এর অমান্যতা করলে তা বিদ্রোহের চোখে দেখা হতো ।

৩) মেয়েদের ভোটার হিসাবে দেখায় হতো না । পুরুষরা বিশ্বাস করতো মেয়েদের মস্তিষ্কে চিন্তাভাবনা করার মতো কোনো ক্ষমতা নেই তাই তাদের ভোট দেবার কোনো অধিকার ও নেই ।এরজন্য মহিলাদের রাজনীতিতে যোগ দেয়াও নিষিদ্ধ ছিল ।

৪) মেয়েরা নিজেদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলতে পারতো না কারণ সেই অনুমতি অনেক দেশেই ছিল না । কোনো পুরুষের সাথে ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলতে হতো । এখনকার মতো মেয়েরা নিজেরা কোনো ক্রেডিট কার্ড এর লোন ও পেতো না তাই আর্থিক ভাবে অন্যের উপর নির্ভর করে চলা ছাড়া উপায় ছিল না তাদের ।

৫) সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেবার ব্যাপারে ও অনেক সমস্যা ছিল । যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজন হলে তবেই মেয়েদের অনুমতি দেয়া হতো । তবে গুপ্তচরের কাজে অনেক মেয়েদের ব্যবহার করা হতো ।

৬) বিচারক হিসাবে ও মেয়েদের কথা ভাবা হতো না কারণ তারা নাকি নরম মনের তাই সঠিক বিচার করতে পারবে না এরকমটি ভাবা হতো । আইন পড়লেও তাদের প্রাকটিস করার অনুমতি ছিল না ।

৭) মেয়েরা নিজেদের ইচ্ছামতো জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাহায্য নিতে পারতো না , আইনের নিষেধ ছিল । বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এ সম্পর্কে মেয়েদের অনুমতি দেয়া হয় । প্রথমে বিবাহিতদের , পরে একা থাকা মেয়েরাও এর সাহায্য নেবার অনুমতি পান ।

৮) মেয়েরা তাদের পাসপোর্ট করতে পারতো না ।কেবলমাত্র স্বামীর সাথে জয়েন্ট পাসপোর্ট করানোর অনুমতি ছিল কারণ দেশের বাইরে যাবার অনুমতি তখনি দেয়া হতো যখন সে স্বামীর সাথে যাচ্ছে ।

৯) মেয়েরা যদি সন্তানসম্ভবা হতো তবে তাদের চাকরি দেয়া তো হতোই না এমনকি চাকরি থেকে যে কোনো মুহূর্তেই ছাঁটাই করে দেয়া হতো । আমেরিকার মতো উন্নত দেশে ও মেয়েরা ১৯৭৮ সালে এই অনুমতি লড়াই করে আদায় করেন যে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ও তারা কাজ করতে পারবেন ।

আচ্ছা , এতক্ষন তো জানলে , বুঝতে পারলে ,আমরা মেয়েরা আজকের দিনে যা সুবিধা ভোগ করে চলেছি তা আমাদের অতীত জনেরা কত লড়াই করে তা আমাদের পাইয়ে দিয়েছে । এস , মনে মনে তাদের সকলকে আমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাই ।

Tagged

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →