knowledge

আর কিনবো না

আমাদের সময়ে একটা স্লোগান খুব চলতো , ” দ্রুত বাঁচো আর দ্রুততম কেনো” । তাই পথে-ঘাটে , টিভিতে , দোকানে এতো এডভার্টাইজমেন্ট, ডিসকাউন্ট , নতুন নতুন প্রোডাক্ট , কম যোগান দিয়ে চাহিদা বাড়ানোর চল । নানা ব্রান্ডের জিনিস ও বিক্রিতে করতে তারা এই ধরণের নানা সাহায্য নেয় যাতে জিনিসপত্র তাড়াতাড়ি বিক্রি হয় । কিন্তু মার্কেট রিসার্চের লোকজন জানাচ্ছেন মানুষজন ধীরে ধীরে এই অবিরাম কেনাকাটার বিরোধী হয়ে যাচ্ছে । জীবনের সমস্ত বিষয়ে , খাবার-পরিধেয় এমনকি জীবনের লক্ষ্য কি সে বিষয়ে ও মানুষজন সহজ-স্বাভাবিক হতে চাইছে ।

সেই ব্যাপারে একটু খোলাখুলি বলি এবার …………………………………………..

# কিনে ক্লান্ত

ফ্যাশন ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র , কাপড়ের ব্র্যান্ড নতুন নতুন ধরণের পোশাক তৈরী করে চলেছে ,স্মার্টফোনের ব্র্যান্ড এমনসব নতুন মডেল আনছে যে পুরানোকে আর মনেই ধরে না । একই দামের মধ্যে এতোরকমের জিনিস পাওয়া যায় যে ক্রেতারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় । জিনিসগুলোর মধ্যে পার্থক্য ও করা যায় না । ফোনের কোনো নতুন মডেল লঞ্চ হলে সেটি পেতে বিশাল লাইন লেগে যায় অথচ আমরা জানি যে খুবই অল্প দিনের জন্য ওই মডেলটি আকর্ষণীয় থাকবে । সবাই মিলে যেন বলতে চাইছে , ” কেনো আর ফেলো ” । কিন্তু এইভাবে চলতে পারে না তাই মানুষজনের মনের মধ্যে সন্তুষ্টির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে । তাই ২০১৯ সালে মোবাইলে ফোন বিক্রির সংখ্যা কমে গেছে । তাই অনেকে নতুন নতুন ভাবে বিক্রির পন্থা বের করছে ,এমনকি কেউ কেউ মোবাইল ফোন ভাড়া ও দিচ্ছে কিন্তু সত্যি ই ক্রেতারা ক্লান্ত ।

# এডভার্টাইজমেন্টে অবিশ্বাস

আমরা সাধারণত জিনিস কিনি এডভার্টাইজমেন্ট দেখে কিন্তু তাদের কথার নানা ফাঁকি দেখে আজকাল মানুষজন আর এগুলিকে বিশ্বাস করতে পারে না ।প্রতিদিন প্রায় আমরা ৪ থেকে ১০ হাজার এড দেখি যাতে আমরা এখন প্রায় বিরক্ত হয়ে উঠেছি । দোকানের বা ব্রান্ডের লোকজন ও বুঝে গেছেন মার্কেটিংয়ের ওপর ভরসা মানুষজনের কমে যাচ্ছে । তাই তারা চেষ্টা করছে ক্রেতাদের সাথে বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে উঠতে , তাদের মতামতের গুরুত্ব দিতে । তাই বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড শুধুমাত্র স্লিম চেহারার মডেল না , নানা চেহারার মডেলকে দিয়ে ও তাদের জিনিসের প্রচার করছেন ।

# নতুন ফ্যাশন

ফ্যাশন শুধুমাত্র পোশাক না , আসলে এটি সমাজের ভাষা ও বটে । এখনকার মানুষজন যে রকম পোশাকের ধরণ পছন্দ করছেন , তাকে বলে ” নরমকর ” , নরমাল আর হার্ডকোর কথা দুটি মিলিয়ে এই শব্দটি তৈরী আর তেমনি পোশাক ও । এই ধরণের পোশাক পরার মানে হলো তুমি অন্য সকলের মতোই , বিশেষ কেউ না । হঠাৎ করে এই ধরণের স্টাইল দেখলে মনে হবে হয়তো বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে যা হাতে উঠেছে তাই পরে বেরিয়ে পরেছে । তবে এই ধরণের পোশাকে আরামপ্রিয়তাকে খুব গুরুত্ব দেয়া । বিখ্যাত মানুষজন যেমন মার্ক জুকেরবার্গ , লেওনার্দো দি ক্যাপ্রিও সবাই এই ধরণের ফ্যাশনকে আপন করে নিয়েছে । নতুন প্রজন্মের কাছেও ও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ।

# কম ই বেশি

বেশ কিছু পোশাক বিক্রেতার ব্র্যান্ড বুঝে গেছেন যে মানুষজন এখন কম জামা কাপড় কিনছে আর কিনছে এমন জিনিস যা সব কিছুর সাথেই পরা যায় , সবকিছুর সাথেই মানিয়ে যায় ।মানুষজন যারা চাইতো খুবই নুতুন ধরণের কিছু তারাই এখন কেনে এমন কিছু যা কোনোদিন পুরানো হবে না ।যদি ও বেশ কিছু নতুনত্ব থাকছে পোশাকে কিন্তু পুরানো ঘরানার স্টাইল ও তারা সাথে রেখে দিচ্ছে যা হয়তো সব সময়েই চাহিদা থাকবে ।

# সচেতন ক্রেতা

কি কেমন ভাবে সচেনতন হচ্ছে কেনাকাটার বিষয়ে সেটা নিয়ে আলোচনা করাই যায় , যেমন কেউ আর টাকা খরচ করতে চায় না , কেউ ঘরের বোঝা কমাতে চায় , কেউ পরার সময় জামা-কাপড় বাছতে বাছতে ক্লান্ত হয়ে আর কেউ বা পরিবেশ সচেতন হয়ে । পরিবেশ সচেতনতা একটা মস্ত বড়ো বিষয় , একটা টি-শার্ট তৈরিতে ৭০০ গ্যালন জল লাগে , জিন্স তৈরিতে ১৮০০ গ্যালন । কিন্তু একজন মানুষের দৈনিক ৯০০ গ্যালন জল লাগে বেঁচে থাকতে আর পৃথিবীতে জলের দুর্ভিক্ষ যে শুরু হয়ে গেছে সেটা সবাই ই জানে । এছাড়া , জামা -কাপড় রং করতে ও নানা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার হয় যা পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর ।

# সবাই মিলে

নিজের সম্পত্তি শুধু নিজেই ভোগ করবো , এই চিন্তাধারা থেকে মানুষ বের হতে শুরু করেছে । তাই তারা নিজেদের বাড়ি , গাড়ি সব ভাগ করে ব্যবহার করতে চাইছে । একসাথে অনেক কিছু সম্পত্তি নিয়ে বসে থাকা আর ভালো জিনিস না , বরং ভাড়া দেয়া , অন্যের সাথে বিনিময় করা এসবের চল শুরু হয়েছে । তাই তো লোকজন হোটেলে না থেকে বেড়াতে গিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছে । এমনকি বেশ কিছু সেলিব্রেটি জানিয়েছেন তারা ও জামা-কাপড় ভাড়া নিয়ে পরছেন । দিনের পর দিন ইন্টারনেট এ নানা জিনিস ভাড়া দেয়ার তথ্য নিয়ে ওয়েবসাইট বেড়েই চলেছে ।

# সাবস্ক্রিপশনের সুযোগ

এখন মানুষজনের কাছে কম বই , মুভি সংগ্রহে থাকে আর বেশির ভাগ ই থাকে ডিজিটালে তাই লোকজন অনলাইনেই বেশি বেশি দেখে । এছাড়া নানা জায়গা থেকে সাবস্ক্রিপশনের অফার পাওয়াই যায় তাতে অর্থ ও বাঁচে । এমনি করে এখন নানা জিনিসে সাবস্ক্রিসনের বাজার তৈরী হচ্ছে , ফুড ডেলিভারি থেকে ওষুধের জন্য । এতে আমাদের সময় আর অর্থ দুটোই কম নষ্ট হচ্ছে আর আমরা অনেক বুঝে শুনে জিনিস নিতে পারছি ।

# সহজ স্থানান্তর

এখনকার মানুষ শুধুমাত্র এক জায়গায় থেকে যেতে চায় না , চাকরির ভালো অফার কিংবা পড়াশুনার সুন্দর সুযোগ যদি পেয়ে যায় তবে তারা এগিয়ে পরে । এক্ষত্রে নিজের কাছে থেকে বেশি জিনিস তাদের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । লোন নিয়ে কেনা নিজের বাড়ি-গাড়ির বদলে ভাড়া নিয়ে থাকলে,গাড়ি চালালেও কেউ দেখতে যাচ্ছে না কিন্তু লাভ হচ্ছে নিজের জন্য চিন্তামুক্ত জীবন । তাই এখনকার প্রজন্ম সহজ জীবন বেছে নিতে কম কেনার দিকে ঝুঁকছে ।

# চাই না প্রয়োজন

কেনাকাটা নিয়ে সচেনতনতা আমাদের দুটি বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছে , ঠিক কোনটা আমাদের চাই আর কোনটা আমাদের প্রয়োজন সেটা বুঝে নেয়া ।নিজেদেরকে বোঝানো ওতো সহজ না , কিন্তু অভ্যাস করতে পারলে নিজেদের ই লাভ । আমরা নিজেদের নানা ধরণের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি যা আমাদের কাজে লাগবে , অন্য কোনো সম্পদ কেনার পরিবর্তে । দামি স্মার্টফোনের বদলে নিজেদেরকে একটু অন্য আলোয় আলোকিত করতে পারি । এইভাবে এখন অনেকেই ভাবছেন আর এতে আরো একটা বিষয় হচ্ছে যে মানুষের মন থেকে ধনী-গরিব ভাবনা নিয়ে পার্থক্য মুছে যাচ্ছে ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →