my experience

আমেরিকায় মতিগতি

একজন ভারতীয় হিসাবে আমেরিকার মাটিতে পা দিয়েই জীবনের বেশ কিছু নতুন দিক পাওয়া যায় | সেগুলো যে কি , কেমন , কোথায়  তা ক্রমশ প্রকাশ্য …

এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল যাবার পথে , মানে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা …

১) আরে লোকজন সব গেলো কোথায় ?
২)রাস্তাগুলো কি সুন্দররররর !!!
৩) কত গাড়ি কিন্তু কোনো জ্যাম নেই |

প্রথম দশদিন হোটেল এ থেকে অভিজ্ঞতা …

১) লাঞ্চ এ খাবার এর পরিমান দেখে চক্ষু স্থির , “মাত্র এইটুকু? পেট ভরবে ?”
২)১৩ ডলার লাগলো মানে ৭০০ টাকা শুধু আমার খেতে, নাহ বাড়িতেই রান্না করতে হবে বেশি বেশি |
৩)একজন ভারতীয় পেলাম, কি সুন্দর মিশলো যেন কতদিনের বন্ধু |
৪)এদেশীয়রা কি মিষ্টি হাসি দিয়ে অভ্যর্থনা করছে |

প্রথম তিন সপ্তাহ – হোটেল থেকে আপার্টমেন্ট যাওয়া …

১) আপার্টমেন্ট এ  থাকা নিয়ে চুক্তি, ইলেকট্রিসিটি র সংযোগ , সাথে ইন্টারনেট আর মোবাইল | এজেন্ট দের সাথে আমার হাজব্যান্ড খুব বেশি দরাদরি না করতে পেরে একটু অখুশী |
২) অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই ভারী ব্যাগ-পত্তর নিয়ে টানাটানি , শুধু সান্ত্বনা চোরের উৎপাত নেই |
৩) গাড়ি ছাড়া তো একেবারে অচল অবস্থা!!!..পুরানো গাড়ি কিনতে হবে ???

প্রথম ২ মাস …

১) ওহঃ, ইন্টারনেট এর কি স্পিড ! কত মুভি দেখা যায় অনলাইন এ সঙ্গে নেটফ্লিক্স , হুলু , ইউটুব
তো আছেই |
২) ভারতীয় রেটুরেন্ট আর মুদি স্টোরে ভর্তি , যা খেতে ইচ্ছা সব খাওয়া যাবে |
৩) অফিস এরই অন্য ভারতীয় সঙ্গীদের সাথে সপ্তাহান্তে পার্টি যা চলে রাত ২ তো পর্যন্ত, খাবার-দাবার আর কার্ডস খেলা সহযোগে |
৪) শপিং মল এ সবসময় এ সেল চলছে..যাপিইইইই
৫) রাস্তায় তো ট্রাফিক এর চিহ্ন নেই |
৬) হাজব্যান্ড পেলো তার অনেক অপেক্ষার স্যালারি যেটা পাওয়া গেলো আমেরিকার ডলার এ আর সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভারতীয় মুদ্রায় কত হবে তার হিসাব করে নিলো চোখ বড়ো বড়ো করে |
৭) গুগল এ সার্চ করে বের করা হলো ভারতে টাকা পাঠানোর ভালো ব্যাঙ্ক |
৮)নতুন নতুন কিছু রান্না শিখলাম..খারাপ কিছু বানাচ্ছি না অন্তত যারা খায় তারা ভালোই বলে |

৪ মাস হয়ে গেলো…

১) পুরোনো কিন্তু আমাদের কাছে নতুন , একটা গাড়ি কেনা হলো |
২) লিখিত আর প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে হাজব্যান্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পেলো |
৩) দুঃখের কথা অনেক নিয়মের বেড়াজালে আটকে তিনি একটা ” টিকিট” ও খেলেন পুলিশ এর কাছ থেকে , যেটা কম কিছু না-ভারতের টাকায় ৫০০০ |
৪) হোমমেকার হিসাবে আমার হাতে প্রচুর সময় , তাই মায়ের সাথে , অন্য আত্মীয় দের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা | মা বলে, ” এখানে থাকতে তো অত ফোন হতো না!!”
৫) সপ্তাহ শেষে কি বাজার করতে হবে তার লিস্ট বানানো |
৬) হাজব্যান্ড দেখে ইন্টারনেট এ কিসের ভালো সব “ডিল” আছে |
৭) আমার পছন্দ হলো এখানে উইকেন্ড গুলোয় আসে পাশে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় তা ঠিক করা |
৮) সকলের কাছে থ্যাংক্সগিভিং/ ব্ল্যাক ফ্রাইডে নিয়ে খুব শুনছি, খুবই উৎসাহ হচ্ছে ব্যাপারটা দেখার জন্য | সঙ্গে লিস্ট ও হচ্ছে জিনিস কেনার যেমন ক্যামেরা, নতুন ল্যাপটপ |

৬ মাস হলো …
১) কাছাকাছি ৩টি রাজ্য দেখা হয়ে গেলো শুধু গাড়িতে গিয়ে গিয়ে |
২)বলা বাহুল্য , ফটো তুলে তুলে “ফেসবুক” সাইট এ নিজের পাতা ভর্তি |
৩)বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করার ইচ্ছা কমছে..”কত আর গল্প করি , আর  কত রান্না করি !!!”

১ বছর হয়ে গেলো …

১) প্রায়দিন ই ভারতে যাবার টিকিট দেখছি , ৩ মাস পর যাবার প্ল্যান করছি কিন্তু এখন থেকেই বুক করতে হবে তো |
২) টিকিট কেটে খুবই উত্তেজিত, কার জন্য কি গিফট নিয়ে যেতে হবে তার লিস্ট বানাচ্ছি |
৩) লম্বা লিস্ট নিয়ে অনেক দোকান ঘুরতে হচ্ছে আর প্যাকিং ও চলছে সাথে সাথে |

দেড় বছর হলো …

১) ভারতে গিয়ে ফিরে এসে আগের বারের থেকে মন বেশি খারাপ | মনে হচ্ছে ওখানে প্রতিটা দিন কত মজার আর এখানে একঘেঁয়েমি |
২) ওখানে এবার গিয়ে অনেক খাতির পেলাম, আমেরিকা থেকে গেছি বলে | সত্যি আমাদের নিজেদের লোকেরা কত ভালো |
৩) ধুর, আর পড়ো না , অনেক হয়েছে আর কিছু বলতে পারছি না | এবার হয়তো অভিজ্ঞতা গুলো সাইকেলের চাকার মতো ঘুরবে !!!

Tagged , , , , , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →