knowledge

আরামের জন্য

আমরা যে পোশাক পরি তার ফেব্রিক মানে যে জিনিস দিয়ে সেটি তৈরী , সেই ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা ভালো । কারণ এই মেটেরিয়াল গুলোর সাথে অনেক রাসায়নিক মেশানো থাকে যা আমাদের চামড়ার ক্ষতি করতে পারে । কিভাবে ?

পলিস্টার

সব থেকে বেশি ব্যবহৃত আর বিক্রীত ফেব্রিক । এটি আসলে বেশ কিছু ফেব্রিক মিশিয়ে তৈরী করা হয় , যাতে কোনো ভাঁজ না পরে -সহজে ছিঁড়ে যা যায় । কিন্তু এই ফেব্রিকটি আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক কারণ এটি পরলে আমাদের ত্বকের দমবন্ধ অবস্থা তৈরী হয় । শরীরের মধ্যে হাওয়া না পৌঁছে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় । এই তাপমাত্রায় পোশাকটির মধ্যে থাকা কেমিক্যাল আমাদের ত্বকের সাথে মিশে যায় । ফলে স্কীনরাস , চুলকানি, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া এমনকি একজিমাও হয় । তাই এই মেটেরিয়ালের পোশাক না কেনাই ভালো ।

রেয়ন

রেয়ন যে জিনিসটি থেকে তৈরী তাকে বলে সেলুলোজ , যা বাঁশের আঁশ থেকে রাসায়নিক পক্রিয়ায় তৈরী হয় । এই ফেব্রিকটি পরা শুধু ক্ষতিকারক ই নয় , অস্বাস্থ্যকর ও বটে । এই ফেব্রিকে থাকা কেমিক্যাল গুলো আমাদের শরীরের টক্সিন বাড়িয়ে দেয় । তাতে মাথাব্যথা , বমি ভাব , অনিদ্রা, মাসল ব্যাথা ইত্যাদি হতে পারে । শুধু তাই নয় , এই ফেব্রিকটি তৈরির সময় ও পরিবেশ দূষিত হয় । তাই এর ব্যবহার কম করলেই ভালো ।

নাইলন

আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত মোজা, অন্তর্বাস ইত্যাদি তৈরী হয় বেশিরভাগ সময়েই নাইলন দিয়ে । আসলে এই ফ্রেব্রিকটা টেকসই হয় , অনেকদিন চলে আবার তৈরিতেও খরচ কম হয় তাই এর প্রচলন খুব । কিন্তু , আমাদের খালি ত্বকের উপর নাইলনের তৈরী কোনো জিনিসই ব্যবহার করা উচিত না । এর প্রধান কারণ হলো এটি ঘাম শুষে নিতে পারে না তাই ঘাম জমে বাজে গন্ধ তৈরী হয় , হয় ইনফেকশন ও । তাছাড়া এটি তৈরির সময় ও নানা রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় এগুলোর রঙের জন্য । পরে ঘামের সাথে সেই সব রাসায়নিকের মিশ্রনে আমাদের ত্বকের জ্বলুনি , চুলকানি হয় অস্বাভাবিক না ।

এক্রিলিক

এই ফেব্রিকটি এসেছে এক্র্যালোনিট্রাইলে থেকে যা দুটি জিনিস মিশিয়ে তৈরী হয় , কারসিনোজেন আর মুটাজেন ।এটির বেশি বেশি ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় । কারণ শরীরের মধ্যে এটির মধ্যে থাকা জিনিসগুলো আমাদের ত্বকের সাথে মিশে যায় । তাতে মাথাব্যথা , বমি , মাথাঘোরা এইসব অস্বস্তি তৈরী হয় শরীরে । এছাড়া এটার উৎপাদন আমাদের পরিবেশকে ও দূষিত করে ।

স্পান্ডেক্স-লাইক্রা

এই মেটেরিয়ালটি বেশ সহজেই বাড়ে তাই আমাদের ব্যবহৃত যোগা প্যান্ট , এক্সারসাইজ করার জন্য অন্য পোশাক , বিকিনি আর অন্য সব চেহারার সাথে লেগে থাকা পোশাক এই ফেব্রিকেই তৈরী হয় । এই জিনিসটি ও যখন তৈরী হয় তখন ক্ষতিকর কেমিক্যাল পল্যুরেথানে ব্যবহৃত হয় । তাই এর বেশি ব্যবহার আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে , ডার্মাটাইটিস এর মতো চর্মরোগ হয় ।

এতক্ষন তো গেলো কি ব্যবহার করবে না সেব্যাপারে আলোচনা । এগুলো জেনে আমরা তো একটু দুশ্চিন্তায় পরেই যাই যে তাহলে কি ধরণের পোশাক পরা যায় যাতে আমরা আরাম পাবো । জানাচ্ছি দেখো সেগুলো কি………………….

কটন – এটি নরম , আমাদের ত্বকের জন্য ভালো , গ্রীষ্মে গরম করা থেকে কমায় আর শীতে ঠান্ডা লাগা থেকে কমায় । ত্বকে এলার্জি হবার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে, খুবই আরামদায়ক আবার টেকসই ও ।

মেরিনো উল – এটি খুবই নরম , প্রাকৃতিক যা আমাদের ত্বকের তাপমাত্রা আর অভ্রটাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে । ভীষণ হালকা , সহজে ঢিলে হয়ে যায় না আবার সূর্যের ক্ষতিকর আলোকেও আটকে দেয় ।

কাশ্মীরি – এটা একটু দামি আর খুব সুন্দর ফেব্রিক । এটি তৈরিতে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় না তাই এর ব্যবহার আমাদের শরীরে খুবই আরামের অনুভূতি নিয়ে আসে ।

হেম্প– প্রায় হাজার বছর আগে থেকে এর প্রচলন । এর তৈরী জিনিস ও খুবই টেকসই হয় । সহজে ঢিলে হয়ে যায় না তাই অনেকদিন পরা যায় আর যত দিন যায় তত নরম হয় ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply