knowledge

আশ্চর্য নয় সত্যি

আমি তো জেনে অবাক কিন্তু আবার ঠিক অবাক ও না ।। আসলে এটা জানি যে আমাদের সকলের ই একটা ধারণা আছে যে শিল্পী মানুষেরা তাদের শিল্পকে বাস্তব জীবন থেকেই খুঁজে নেয় আর রূপ-রং-কথা দেয় ।এখানেও সেই বিষয়েই কিছু জিনিস জানাতে চাই ।

” ট্রেজার আইল্যান্ড “

তোমরা কি ” ট্রেজার আইল্যান্ড ” পড়েছো ? পড়ে থাকলে সেখানে রয়েছে জন সিলভার নামের এক চরিত্র যে খুব সাহস ছিল , শক্তপোক্ত আবার হৃদয়বান ও । এই চরিত্রটি আসলে লেখক রবার্ট লুই স্টেভেনশনের বন্ধুর অনুকরণে তৈরী । বন্ধুটির নাম উইলিয়াম আর্নেস্ট হেনলে , যে ছোটবেলাতেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে একটা পা হারিয়েছিল । ফলে সারাজীবন একটা ক্রাচ নিয়েই কাটাতে হয় তাঁকে । একটু বদরাগী হয়ে পরে সে তাই কেউই তাকে পছন্দ করতো না ।কিন্তু স্টিভেনসন ছিল তাঁর একমাত্র বন্ধু যে কাছ থেকে তাঁর লড়াই দেখেছিলো , তাঁর মনের শক্তিকে দেখেছিলো । আর এই বন্ধুটিকেই তিনি সম্মান জানিয়ে বইয়ের চরিত্রটিকে গড়েছিলেন ।

” দা লেডি অফ দা ক্যামেলিয়াস “

আলেকজান্ডার দুমার বিখ্যাত বই , ” দা লেডি অফ দা ক্যামেলিয়াস ” পড়ে কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে কি যে কেন তিনি গোলাপ, লিলি ইত্যাদি সব ভালো ফুলের নাম ছেড়ে দিয়ে এই গন্ধহীন ফুলের নাম বইয়ের নাম রাখলেন । আসলে গল্পটির চরিত্র মার্গারিটা গুটিয়ের চরিত্রটির আদল ছিল লেখকের নিজের প্রেমিকার ধরণে । দুমার প্রেমিকা মারিই ডুপ্লেসিস ভীষণ ফুল ভালোবাসতেন কিন্তু এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে গন্ধযুক্ত ফুলের কাছাকছি থাকতে পারতেন না ।এরপর থেকে তিনি গন্ধহীন ফুল কামেলিয়াসের প্রতি অনুরক্ত হন আর এরই ছবি আমরা দেখতে পাই লেখকের বইটিতে ।

” দা গ্রেট গাটসবি “

ফ্রান্সিস স্কট ফিটজজেরাল্ড এর বিখ্যাত বই ,” দা গ্রেট গাটসবি “আর এর নায়িকা হলো ডেইজি বুকানন । গল্পটি আসলে অনেকটা লেখকের নিজের জীবন থেকেই নেয়া ।গিনেভরা কিং মেয়েটি ছিল শিকাগোর এক সম্পদশালী ব্যবসায়ীর মেয়ে । ১৬ বছরের গিনেভেরা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে এক ছেলের প্রেমে পড়েন । ১৮ বছর বয়সী ছেলেটি আর কেউ না , ফাঁসিস স্কট ফিটজেরাল্ড নিজে । এরপর তাদের সুন্দর প্রেমকাহিনী ২ বছর ধরে চলে । কিন্তু পরে ধনী ব্যবসায়ীর মেয়েটি বাবার বন্ধুর ছেলেকেই বিয়ে করেন আর ফ্রান্সিসকে চিঠি লিখে জানান । ফ্রান্সিসের মনে ও ধারণা বদ্ধমূল হয় যে গরিব ছেলেদের কখনোই ধনী ঘরের মেয়েদের বিয়ে করা উচিত না আর সে থেকেই এই জনপ্রিয় উপন্যাস ।

” দা ওল্ড ম্যান এন্ড দা সি “

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বিখ্যাত লেখক আর তাঁর অন্যতম বই হলো ” দা ওল্ড ম্যান এন্ড দা সি “। গ্রেগোরিও ফুয়েন্তেস ১৯২৮ সালে লেখকের সাথে পরিচিত হন এবং তাঁর সাথে সময় কাটাতে থাকেন । তাঁদের একটি বোট ছিল যেখানে দুজনে মাছ ধরতেন , ফুয়েন্তেস লেখকের জন্য রান্না করতেন । ফুয়েন্তেস খুব ভালো নাবিক ছিলেন আর মাছ ও ধরতেন খুব । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মান সাবমেরিন ও খুঁজে বের করেন । ফুয়েন্তেসের সাথে বন্ধুত্বের ২৪ বছর পর হেমিংওয়ে বন্ধুর আদলে যে চরিত্র তৈরী করেন তাঁর নাম হলো ” সান্তিয়াগো ” আর এই বইটির জন্য অনেক পুরস্কার পান তিনি ।

” টিনটিন “

১৯২৮ সালে জুল ভার্নের ১০০ তম জন্মদিন ছিল আর এই উপলক্ষ্যে ড্যানিশ সংবাদপত্র পলিটিকেন একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন শুধুমাত্র কিশোর দের জন্য । প্রিতিযোগিতার বিষয়টি ছিল একটু অন্যরকম । কিশোরদের ৪৬ দিন সময় দেয়া হয়েছিল আর এর মধ্যে যে সব থেকে বেশি দেশ ঘুরে আসবে সেই জিতবে ।অবশ্য ঘুরতে যাওয়ার খরচ জোগাবেন সংবাদপত্রের সংস্থা তবে বিমানে যাওয়া চলবে না এই ছিল শর্ত । প্রায় ১০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল আর জিতেছিল ১৫ বছর বয়সী পাল্লে হুড । মাত্র ৪৪ দিনে ছেলেটি জার্মানি , ব্রিটেন , পোল্যান্ড , রাশিয়া , চীন , কোরিয়া , জাপান , আর কানাডা ঘুরে আসে । কোপেনহেগেনে তাঁকে স্বাগত জানাতে ২০০০০ লোক জড়ো হয়েছিল তখনকার দিনে । টিনটিনের বই তাঁর এই এডভেঞ্চার নিয়েই গড়ে ওঠে যা প্রকাশিত হতে থাকে ১৯২৮ সাল থেকেই । আশ্চর্যের বিষয় হলো টিনটিনকে দেখতেও অনেকটা পাল্লে হুডের মতোই ।

” জ্যাজ ” ( চোয়াল )

পিটার বেঞ্চলেই বিখ্যাত বই ” জ্যাজ ” আর এর জন্য তিনি অনেকদিন ধরেই গল্পের উপাদান খুঁজছিলেন যা তাঁকে লিখতে সাহায্য করবে সার্কদের নিয়ে । বিশেষ করে বড়ো সার্ক নিয়ে গল্প । ১৯৬৪ সালে তিনি একটি সংবাদপত্রে একটি খবর দেখে চমকে ওঠেন । সেখানে ছিল ফ্রাঙ্ক মুন্ডু নামের এক মাছধরা লোক যে অনেক সার্ক শিকার করেছিল । ফ্রাঙ্কের শিকার করা সার্কের মধ্যে দুটির ওজন ছিল ২ টনের ও বেশি । এরপরের গল্প হলো , ফ্রান্স আর পিটারের বন্ধুত্ব , তাদের একসাথে সময় কাটানো আর পিটারের সার্ক নিয়ে লেখা বই ।পরে বইটি নিয়ে মুভি ও হয়েছিল যা আমাদের অবশ্যই দেখা দরকার ।

” ডোলোরেস “

ভ্লাদিমির নাবোকভ এর সুন্দর বই ” ডোলোরেস ” । ১৯৪৮ সালে ফ্লোরেন্সে স্যালি হরনের নামে এক আমেরিকান মেয়ে কিডন্যাপড হয় । তখন মেয়েটি ছিল মাত্র ১১ বছরের কিশোরী আর যে কিডন্যাপ করে সে ছিল একজন ৫০ বছরের লোক । লোকটি মেয়েটিকে কিডন্যাপ করার পর পুরো আমেরিকা ঘুরে বেড়ায় অনেকদিন ধরে । বইয়ের চরিত্রটি এই স্যালি হরেনের আদলে তৈরী ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply