kids

বাচ্চা আর টাকা

কিছুদিন আগে এক মনোবিদের লেখায় পড়লাম তিনি জীবনে এক জনের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ যিনি তাদের স্কুলে এসে বাচ্ছাদের শিখিয়েছিলেন কেমন করে ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলতে হয় আর এটি তিনি শিখেছিলেন ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময়েই। এইজন্য তিনি এখন সকল পিতামাতাকেই উৎসাহিত করেন বাচ্ছাকে খুব তাড়াতাড়ি এইসব বিষয়ে জানিয়ে দেবার জন্য। কেমন করে হতে পারে সেটা ?

ডক্টর ডরোথি সিঙ্গার বলছেন , বাচ্ছাদের ৩-৪ বছর বয়সের মধ্যে খেলার ছলে চিনিয়ে দিতে হবে কোনটি কি কয়েন , টাকা কি রকম ইত্যাদি। ছবি দেখিয়ে , শেপ বুঝিয়ে এই সময় এগুলো নিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে।মাঝে মাঝেই তাদের প্রশ্ন করে জেনে নিতে হবে আর মজা করে শপিং সংক্রান্ত খেলা খেলতে হবে তাহলেই সে কোনটি কি সে ব্যাপারে ভালো বুঝে যাবে।
বাচ্চা যখন ৪-৫ বছরের হয় তখন দোকান -দোকান খেলা বেশ ভালো হয় যাতে বাড়িতে বসেই তুমি বাজার আর অর্থ সংক্রান্ত নানা তথ্য তাকে জানিয়ে দিতে পারবে। এইসময় হিসাব করে তাদের সাথে অর্থ বিনিময় করো , কুপন ব্যাপারটি নিয়ে বোঝাও আর সেল নিয়েও কথা বলো মজার ছলে। এইভাবে তাদের মস্তিস্ক আর মন দুটোই আগ্রহী হয়ে উঠবে এই অর্থ বিষয়টি নিয়ে জানতে।
বাচ্চা যখন ৫-৬ বছর বয়সের , তখন নিজেরা যখন বাজার যাচ্ছ তখন বাচ্ছাকে ও সাথে নিয়ে যাও। কোথায় কি কুপন রয়েছে , সেল রয়েছে এই সব ব্যাপারে জানতে বাচ্চার সাহায্য নাও। সে ও যেন বুঝতে পারে ব্যাপারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সে খুশি ও হবে তোমাকে সাহায্য করতে পেরে আবার জেনেও যাবে বিষয়টি।

আরো একটা উপায় করা যেতে পারে যেমন ঘরের মধ্যে রেস্টুরেন্ট বানিয়ে খেলা। কোন খাবারের কত বিল , কেমন করে দিতে হয় , ওয়েটারদের কেমন টিপ্ দিতে হয় আর সাথে কোন খাবারের জন্য কেমন খরচ করা উচিত এইসব নিয়ে বাচ্ছারা খুব সহজেই জেনে যাবে এইভাবে।

৬-৭ বছরের বাচ্ছাদের শেখাতে হবে অপেক্ষা করার বিষয়ে। যে কোনো জিনিস চাইলাম আর পেয়ে গেলাম এই ব্যাপারটা তাদের ভবিষ্যতের জন্য সাংঘাতিক। তাই অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে ধৈর্য্য একটি গুরুত্বের বিষয়। কিভাবে করবে ? একটা একটু দামি খেলনা বাছো যেটি বাচ্চার খুব পছন্দের। তার পর তাকে বুঝিয়ে বলুন ওটি কিনতে অর্থ জমা করতে হবে আর এরপর থেকে বাচ্ছাকে প্রতি সপ্তাহে কিছু করে টাকা দাও যতদিন না খেলনাটা কেনা যায়। বাচ্চা এইভাবে সঞ্চয়ের ব্যাপারটি ও বুঝে যাবে। এটি করার সাথে সাথে ভালো করে বুঝিয়ে বলো যে এইভাবে অপেক্ষা করাটা জীবনের ও শিক্ষা।

বাচ্চা যখন ৭-৯ বছরের বাচ্ছাকে শেখাতে হবে কেমন বিভিন্ন ভাবে আমরা সঞ্চয় করে থাকি। এরজন্য তাকে পিগিব্যাংক কিনে দিতে হবে , দরকারে আলাদা আলাদা। তারা এতে কোনোটায় খেলনার জন্য , কোনটায় স্কুলের জন্য , কোনোটায় পোষ্যের জন্য অর্থ জমাতে পারবে। এইভাবে বুঝিয়ে দেয়া যাবে যে ব্যাংকে আমরা কিভাবে অর্থ জমাই। ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে সেখানে কিরকম কাজ হয় সেটি ও বুঝিয়ে বলতে পারো। মিউজিয়াম নিয়ে গিয়ে অর্থ বিষয়ে ইতিহাস জানাতে পারো , নানা ডকুমেন্টারি দেখাতে পারো।

৯ থেকে ১২ বছরের বাচ্ছাকে নিজের শপিংয়ে পুরোপুরি যোগ করিয়ে নেবার চেষ্টা করো। নানা জিনিসের দাম কেমন , কোন জায়গায় কত সস্তা , জিনিসটির গুণমান কেমন এইসব নিয়ে তার সাথে খুঁটিয়ে আলোচনা করো। তার কথাও বোঝার -শোনার চেষ্টা করো, মাঝে মাঝে তার সিদ্ধান্ত ও মেনে নাও। ভুল করলে ও সেটা থেকে শিখবে সে। এইভাবে দায়িত্ব নেয়াও শিখবে সে তবে এই সময় অবশ্যই ছোট কোনো জিনিস কেনা নিয়ে এগুতে হবে , বেশি চাপ দেয়া চলবে না।

১৩ থেকে ১৫ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্থসংক্রান্ত বিষয়টি ভালোভাবে জানার জন্য। সেই সাথে ইনভেস্টমেন্ট করার বিষয়েও। তাই এই সময় শেয়ার , বন্ড ইত্যাদি কেনাবেচা নিয়ে বাচ্ছাকে জানিয়ে দাও। সেই সম্পর্কে খবর রাখার ব্যাপারে উৎসাহী করে তোলো তাকে। নানা ব্যবসা থেকে কেমন করে লাভ করা যায় সে বিষয়েও তাকে জানাও , সেই সাথে কেমন করে ক্ষতি ও হতে পারে সেটাও বলো। তার সাথে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আলোচনা করো তবে সহজ ভাবে। আর অবশ্যই জানাও অর্থ তখনি খরচ করা দরকার যখন জিনিসটি তার প্রয়োজন , চাহিদা নয়।

Tagged

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply