kids

বাচ্চা ও দশটি কাজ

ছোট্টবেলায় বাচ্ছারা স্পঞ্জের মতো থাকে, চারপাশের সবকিছু ই যেন জল টানার মতো শুষে নেয় । পরে আবার এই সব কাজগুলো তাদের বড়ো হতে সাহায্য করে । ছোটতেই , ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজেদের শরীরের , নিজেদের মনের, নিজেদের ভাষার এমনকি নিজেদের ও ভীত তৈরী করে । কিন্তু বড়ো হওয়ার পথটা বেশ জটিল , তাই এমন কিছু কাজ তাদের অবশ্যই করতে যাতে তাদের গোঁড়া আরো মজবুত হয়ে যায় । দেখা যাক সেগুলি কি কি

১) সাঁতার – প্রথমেই নিজেদের শরীরের ব্যাপারে সচেতন করতে হবে তাই সাঁতার শেখা, অভ্যাস করা খুবই দরকার । ছোটবেলায় আমাদের শরীর হালকা থাকে ,তাই শেখাও যাই তাড়াতাড়ি । এই কাজে দক্ষ হয়ে গেলে , তাদেরকে যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মনে বল যোগাবে । কারণ এখনকার অনেক রিসার্চ জানাচ্ছে , সাঁতার শুধু শরীর নয় , মস্তিষ্কের ও দক্ষতা বাড়ায় ।

২) বাদ্যযন্ত্র শেখা – বাচ্ছাদের যে কোনো একটা ইনস্ট্রুমেন্ট মানে বাদ্যযন্ত্র শেখা খুবই দরকার । নানা রিসার্চ জানাচ্ছে যে , বাচ্ছার অওডিটরি স্কিল বাড়ায় , আর বয়স বাড়ার সময় বাচাদের স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে । এছাড়াও যখন বাচ্ছারা বাদ্যযন্ত্র বাজায় তখন তাদের মটর স্কিল , অনুভব করার স্কিল খুব ভালো হয় । বয়সের সাথে সাথে তাদের কমিউনিকেট করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । এছাড়াও এই কাজটা তাদের একটা ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে যুক্ত করে রাখে ।

৩) নাচ – নতুন রিসার্চ জানাচ্ছে নাচটা বাচ্ছাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে যেসব বাছা বেশ হাইপার । কারণ নাচের মাধ্যমে তারা নিজেদের এক্সপ্রেস করতে পারে সহজেই ।মিউজিকের সাথে নাচটা তাদের উৎসাহিত করে , ক্রিয়েটিভ করে, সোশ্যাল স্কিল , মটর স্কিল তৈরিতে সাহায্য করে আর এতে বাড়ে তাদের আত্মমর্যাদাবোধ । শুধু এই গুলোই না, নানা সংস্কৃতির , নানা নাচ শিখলে তারা মুক্তমনা হয় , নিজের শরীরের প্রতি ও যত্নবান হয় ।

৪) পরিষ্কার করা – পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যে কোনো মানুষের জন্যই ভালো । আর এটা যদি ছোটবেলা থেকে শেখা যায় তো খুবই ভালো হয় । সুস্থ্য শরীর বাচ্ছাদের সংগঠিত করে রাখে । এইজন্য জাপানে , স্কুলে নিজের ক্লাসরুম ,স্কুল চত্বর পরিষ্কার করা শিক্ষার অন্যতম পার্ট ।

৫) রান্না – অনেকে হয়তো ভ্রূ কোঁচকাবে কিন্তু ঠিক কথা এটা যে , বাচাদের নানা কাজের মধ্যে রান্না করা শেখানোটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ । এতে তাদের খাবারের সাথে সম্পর্ক মজবুত হয় , খাবার নষ্ট কম করে , জাঙ্ক ফুড কম খায় । অবশ্য পাশে থেকে তাদের গাইড করতে হবে যাতে কোনো একসিডেন্ট না হয় । আস্তে আস্তে তারা অনেক কিছুই শিখে যাবে কারণ আজকালকার বাচ্ছারা খুবই স্মার্ট ।

৬) পুনর্ব্যবহার – যে পৃথিবীতে তারা বাস করছে তার ও যে সুস্থ থাকা দরকার এইটা বাচ্ছাদের অবশ্যই বোঝাতে হবে । তাই নিজেদের ব্যবহার করা জিনিস ,ফেলে না দিয়ে , কেমন করে অন্যভাবে কাজে লাগানো যায় যাতে দূষণ কম হয় , তা তাদের বোঝাতে হবে । ইউরোপ অনেক দেশেই , স্কুলে এই কাজটি করার জন্য বাচাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যেটা এখনকার দিনে খুবই দরকার ।

৭ ) দিকচিহ্ন – ছোট থেকেই বাচ্ছাদের দিক নির্দেশ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা ভালো । মস্তিষ্কের এই পার্ট যদি সক্রিয় হয়ে ওঠে তবে ভবিষতে অনেক বিপদ থেকেই মুক্তি পাবে সে ।আসলে মস্তিষ্কে সকলের ই একটা করে জি.পি.এস থাকে ,আর এটা পরে আমাদের ডিসিশন নিতেও সাহায্য করে ।

৮) দ্বিতীয় ভাষা – রিসার্চাররা জানাচ্ছেন , বাচ্চা বয়সে যারা তাড়াতাড়ি আর একটা ভাষা শিখে নিতে পারবে তারা বড়ো হয়ে যে কোনো পরিবর্তনের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে । এতে তাদের স্মৃতিশক্তি ও বাড়বে , আর অন্য কোনো পেশার জন্য ও অনেক অপশন পাবে । এমনকি বেশি ভাষা জানা আমাদের আলজাইমার রোগ সারাতে ও সাহায্য করে ।

৯) অর্থ দক্ষতা – বাচ্ছারা বড়ো হতে থাকলে টাকা-পয়সা সামলানো ব্যাপারটা ক্রমেই চলে আসে । আর তার জন্য ছোট থেকেই তাদের এই ব্যাপারে সচেতন করে তোলাই ভালো যে অর্থ পুরস্কার নয় , একটা খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস বেঁচে থাকার জন্য । তাই এর জন্য শুধু পয়সা বাঁচিয়ে চললেই হবে না , খরচ করার সময় ও ভেবেচিন্তে করতে হবে । কোনটা চাও আর কোনটা দরকার সেটা ছোট থেকেই তাদের ভালো করে বুঝিয়ে দিতে হবে ।

১০ ) অনুভূতি – বাচ্ছারা যদি নিজেদের দুঃখ-কষ্ট-আনন্দ-ভালোবাসাকে সহজেই বলতে পারে তবে তার থেকে আনন্দের কিছুই হয় না । ছোট থেকে এই বিষয়ে বাচ্ছাদের সচেতন করলে তাদের সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা খুব ভালো হয় । এমনকি জটিল অবস্থায় ও তারা অটল থাকে ।

এই তো গেলো দশটি খুবই গুরুত্বের কাজ যা বাচাদের শেখা দরকার । কিন্তু পিত-মাতার , তোমাদের ও একটা জিনিস অবশ্যই জানা দরকার । সেটা হলো , স্কুল ,এতো সব কাজ
, প্রতিযোগিতা ,এইসবের মধ্যে ছোট্ট বাচ্ছাটাকে কি করে হালকা মুডে রাখা যায় যাতে তারা ঠিকঠাক বিশ্রাম পায় । এতে তাদের শরীরে ও মনে স্ট্রেস কম হবে যেটা সবথেকে বেশি দরকার ।

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →