kids, useful things

বাচ্চার ব্যবহার

বাচ্চাকে বড়ো করতে করতে বাবা -মায়েরা বুঝতে পারেন যে কাজটা কত কঠিন, কখনো কখনো তো বাবা- মায়েরাই দিশাহীন হয়ে যায় | এই দিশাহীনতার অন্যতম কারণ হলো বাচ্চার খারাপ ব্যবহার | সেটা অবশ্য একদিন-দুদিন হলে মেনে নেয়া যায় কিন্তু প্রায়ই সেটা হতে থাকলে পিতামাতাদের সতর্ক হয়ে যাওয়াই উচিত | তাদের সেই সমস্যার কারণ গুলো খুঁজে বের করে সমাধান করে ফেলা উচিত যাতে ভবিষ্যতে যেন আরো বড়ো কোনো বিপত্তি না বাধে | দেখা যাক বাচ্চাদের জরুরি সমস্যাগুলো কি কি …

১) কাউকে ক্ষমা করতে না পারা

হয়তো বাড়িতে পোষ্য কুকুরটা তার সাথে খেলছে না , সেটা সে রেগে যাচ্ছে , এমনকি কুকুরটাকে মারছে ও | আবার কখনো দেখা গেলো কোনো বন্ধু ওর কিছু কথা শোনেনি বলে তার সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছে – এমনি সব টুকটাক ঘটনা প্রায় ই ঘটতে থাকলে এগুলোকে হালকা ভেবে পাস্ কাটাবেন না |

কি করবেন

প্রথমে বোঝাতে চেষ্টা করবেন ” ক্ষমা” জিনিসটি কি , জীবনে তার কি মূল্য তবে খুবই হালকা করে যাতে বাচ্চার মনে ঢোকে | এমনি ভাবে বোঝান যে , অন্য প্রাণীটি , মানুষটি তার ব্যবহারে কতই না কষ্ট পাচ্ছে | নিজের ব্যবহার ও উপযুক্ত করে তুলুন | সাথে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন , সমস্যাগুলো কেমন করে সে কাটিয়ে উঠবে যেমন বোলো – কুকুরের উপর রাগ না করে তাকে একটু আদর করে দাও, তার মুড ভালো হয়ে যাবে,তখনই তোমার সাথে খেলবে |

২) দায়িত্ত্বজ্ঞানহীনতা

দায়িত্ব শব্দটা কথায় বেশ ছোট কিন্তু কাজে অনেক বড়ো | বাড়িতে বাচ্ছা সহজেই কিন্তু কোনো কাজের দায়িত্ব নিতে চায় না , খারাপ কাজ করে ফেললে চট করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চায় | দিনের পর দিন এটা করতে থাকলে সমস্যা বেশ গভীর হয়ে যাবে |

কি করবেন

চারিদিকের ঘেরাটোপ বাড়িয়ে বাচ্ছাকে একটু একটু করে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করুন , নিজের কাজ যেন নিজেই করে নিতে পারে | সমস্যা গুলো আর তার উপায় গুলো ও আগে থেকেই বলে সতর্ক করতে থাকুন | ধীরে ধীরে বাচ্ছা বেশ দায়িত্বশীল হয়ে যাবে |

৩) ভীষণ জেদি

আপনি হয়তো মানা করছেন , কিন্তু তারপর ও সে ইচ্ছা করেই সেই কাজ বারবার করে যাচ্ছে তাতে যত কষ্ট ই হোক | কারোর সাথে আপস করা যেন তার ধাতে নেই | দিনদিন এই অভ্যাস আবার বেড়েই চলেছে |

কি করবেন

এই সময়গুলো আপনাকে অনেক ধৈয্য ধরতে হবে , সঙ্গে অবশ্যই কারণ জানার ও চেষ্টা করুন | তর্ক,কান্নাকাটি, দোষ দেয়া , ঘুষ দেয়া এইসব থেকে দূরে থাকুন |ঠান্ডা মাথায় বাচ্চার আবদার সব সময় নাকচ না করে কখনো কখনো আপস করার চেষ্টা করুন | সে চকলেট খেতে চায় আর আপনি খেতে দিয়েছেন সুপ্ , ঠিক এই সময় জিদ করলে আপনি বলুন , সুপ্ খেয়ে চকোলেট খেতে পারো | একেবারে ই নিষেধ করবেন না সবসময় |

৪) বশে আনা

অনেক সময় বাচ্ছারা বাবা-মায়েদের দুর্বলতার জায়গাটা বুঝে ফেলে নানা ভাবে তার ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে | হয়তো কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সুপার মার্কেটে সকলের সামনেই জোর চিৎকারে কাঁদতে থাকলো আর আপনিও অস্বস্তিতে পরে সেটা কিনে দিলেন | কিন্তু এটা তো ঠিক নয় , তাকে বোঝানো দরকার যে এমনি করে কখনোই সে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না , পরিবারের মধ্যে , বন্ধুদের সঙ্গে |

কি করবেন

নিজে শান্ত থেকে বাচ্চার খেয়াল টাকে বোঝার চেষ্টা করুন , ঠিক কোন জিনিসের জন্য সে অমনি করছে সেটা নিয়ে ভাবুন | অনেক সময় বাচ্ছাকে যদি সময় দেয়া না হয় তবে সে যে কোনো ভাবে এটেনশন পাবার চেষ্টা করে | তাই তার সাথে সময় কাটান বেশি করে ,বোঝান , শক্ত কাজ হলেও ব্যাপারটা ক্রমে সহজ হয়ে যাবে |

৫) পরিবর্তনকে ভয়

পরিবর্তনকে তো আমরা বোড়োরাও বেশ ভয় করে চলি আর তার শিকড় থাকে অনেক গভীরে , ছোটবেলায় | বাচ্চারা অনেকেই যে কোনো পরিবর্তনকে সহজে গ্রহণ করতে পারে না | স্কুল চেঞ্জ , বাসস্থান পাল্টানো সবই তাদের মনে ভীষণ ছায়াপাত করে থাকে | কিন্তু এই আধুনিক যুগে প্রতিনিয়তই নানা কিছু পরিবর্তন হয়েই চলেছে | তাই বাচ্চাকে এটা নিয়ে সচেতন করে তুলতেই হবে |

কি করবেন

তুমি এগিয়ে এসে বাচ্চাকে আগেভাগেই বুঝিয়ে দিতে থাকলে যে সামনের দিনে কি কি পরিবর্তন হতে চলেছে জীবনে | তবে অবশ্যই নিজেকেও চিন্তা মুক্ত রাখুন , নাহলে বাচ্চা কিন্তু আপনার ফাঁকি ধরে ফেলবে | তাদের অনুভূতি গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করুন যাতে তারা বুঝতে পারে যে আপনি তাদের ব্যাপারে কতটা মনোযোগী | একটা কথা মাথায় রাখবেন , আমাদের কাছে যে সমস্যা খুবই সহজ লাগছে , সেটা একটা বাচ্চার কাছে পাহাড় প্রমান |

৬) তাড়াহুড়ো করা

বাচ্চারা এমনিতেই বেশ স্বতঃস্ফূর্ত হয় , কোনো কিছু চিন্তা না করেই কাজ করতে থাকে | কখনো কাদায় ঝাঁপিয়ে পড়লো , আবার কখনো গরম তাওয়া রাখলো প্লাস্টিকের জায়গার উপর | তাদের ঘটনাগুলো বেশ মজার কিন্তু আশেপাশের মানুষজনদের কাছে ঠিক ততটাই বিরতির | কোনো কিছু কাজ করার আগে চিন্তা করে নিয়ে করার উপায়গুলো পিতামাতাদের ই জানাতে হবে , আর কোনো উপায় নেই |

কি করবেন

নিজেকে শান্ত রাখুন , বাচ্ছাদের শেখান আত্ম-নিয়ন্ত্রণ | বাড়িতে কিছু নিয়ম-নীতির বেড়াজাল তৈরী করুন , দরকারে শাস্তি ও | আর হাঁ , নিজেকেও সেই শাস্তির আওতায় রাখবেন | নিয়ম মানতে থাকলে আবার মাঝে মাঝে তাদের প্রশংসা করে দিতেও ভুলবেন না যেন |

৭) নিজেকে আনন্দে না রাখা

রাশিয়ান চাইল্ড সাইকোলজিস্ট ক্যাটরিনা মুরসভা একটা এক্সপেরিমের্ন্ট করেন , প্রায় ৭০ জন কিশোর বয়সের বাচ্চাদের নিয়ে | তাদেরকে আট ঘন্টা আটকে রাখেন একা করে , মানে না ছিল তাদের কাছে কোনো বন্ধু , না কোনো গ্যাজেট , না কোনো বই | এতজনের মধ্যে মাত্র ৩ জন পুরো সময় কাটাতে পেরেছিলো , বাকিজনরা ব্যর্থ |

বাচ্চারা একটু বড়ো হতে থাকলে যদি নিজেকেই নিজে সহ্য করতে না পারে তবে বেশ চিন্তার | নিজেদের অনুভূতি গুলোকে নিয়ে তাদের যত্ন করতে শিখতে হবে নাহলে ভবিষতের যে কোনো ছোট বিষয় নিয়েই তারা অযথা উদ্বিগ্ন হয়ে পরবে |

কি করবেন

বাচ্চার সাথে নিজে যে সময়টুকু কাটান তা যেন যথেষ্ট গুণ মানের হয় | তাদের নিজেদের পছন্দের ব্যাপারে ভাবতে বলুন , কোনো শখ নিয়ে আগ্রহী করে তুলুন | গ্যাজেট দিলেও তার জন্য সময় বেছে দিন |

এখানে মাত্র কয়েকটি হাতে গোনা সমস্যার কথা বললাম , বাবা-মা জানেন তাদের আরো কত রকমের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় বাচ্চাদের নিয়ে | সবক্ষেত্রেই তাড়াতাড়ি সমাধানের আশা না করে , ধৈর্য্য নিয়ে , অবস্থা বুঝে , মনোযোগী হয়ে তবেই এগুতে হবে | তবে বাচ্চাদের মনের ভিত যদি সুন্দর করে গড়ে তুলতে চান তবে একটি বই অবসসই সাহায্য করবে , উইলিয়াম. যে. বেনেটের ” দা চিলড্রেন্স বুক অফ ভার্চু “, এই বইটি ওদেরকে পড়তে দিন আর নিজেরাও পড়ুন |

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →