knowledge

বাজে স্বভাব কিন্তু ভালো

আচ্ছা , আমরা যদি কারো বাজে স্বভাব নিয়ে চর্চা করি তবে কি কি বলে থাকি বলতে পারো ? এখানে বাজে স্বভাব মানে তার মানসিক স্বভাবকে বলছি না , তার কিছু কাজকর্মের ব্যাপারে বলতে চাইছি । এই যেমন ধরো , আওয়াজ করে খাওয়া, জোরে জোরে চিউইং গাম চিবানো , অনেক ক্ষণ ধরে গেম খেলা, স্নান না করা , অগোছালো থাকা এই সব আর কি । আসলে আপাতভাবে এই সব কাজ গুলোকে খুবই দৃষ্টিকটু লাগে , এমনকি আমাদের মনে বিরক্তি ও তৈরী করে । কিন্তু কোনো কাজের ই ফল খুব খারাপ হয় না । তাই বলা যায় , আপাত অসহ্য এই কাজগুলো মানুষের মন , মেজাজ আর মস্তিস্ক কে গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে । তবে হ্যাঁ , সব কাজগুলোই হতে হবে মাত্রার মধ্যে , তা ছাড়ালে অবশ্য কি হবে তা জানা নেই ।

১) চিউইং গাম চিবানো –

সাধারণত গাম চিবানো আমাদের শরীরের অনেক রকমের উপকার করে যেমন আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায় , মনোযোগ বাড়ায় , বাড়ায় ক্ষিপ্রতা আর সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা ।
রিসার্চ করে জানা গেছে যে পরীক্ষার সময় যারা গাম চিবায় তারা অন্যদের থেকে ২৫ % বেশি স্মৃতিশক্তি কার্যকরী করে থাকে ।
শুধু তা নয় , এই অভ্যাস আমাদের পরীক্ষার সময় যে স্ট্রেস হয় তা কম করতে সাহায্য করে কারণ এটি করটিসল হরমোনকে কম ক্ষরণ হতে বাধ্য করে ।

২) গেম খেলা –

নানা ভিডিও গেম খেলা আর দাবা খেলা , এই খেলা গুলি আমাদের শরীরের নানা নার্ভ কে উত্তেজিত করে রাখে । এই ধরণের খেলা যদি দিনের কিছু সময়ের জন্য খেলা হয় তবে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি আর আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া ও তাড়াতাড়ি হয় । তবে গেম গুলি যত তাড়াতাড়ি খেলা যায় ততই এই ফলাফল গুলো চোখে পরে ।

৩) শপথ নিয়ে বলছি

এই স্বভাবটা আমি অন্তত একেবারেই পছন্দ করি না কিন্তু এখন জেনে অবাক হয়েছি যে কতটা ভালো দিক রয়েছে এর । রিসার্চ বলছে , এই স্বভাব মানুষের স্ট্রেসকে কম করতে সাহায্য করে । এই স্বভাবের দ্বারা সহজেই হতাশা মুক্ত থাকা যায় ফলে মানুষটির কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা বেড়ে যায় । তবে এই কাজটি যদি বেশি বেশি করা হয় , তবে সহজেই অন্যেরা তোমাকে ” মিথ্যাবাদী ” উপাধি দিয়ে দিতে পারে । তাই বুঝেশুনে শপথ নিয়ো ।

৪) অগোছালো-

এই স্বভাবটি বোধহয় সব চেয়ে বেশি চোখে পরে আর মনকেও অস্থির করে দেয় । কিন্তু এখনকার মনোবিদরা জানাচ্ছেন , এটি আসলে খুবই সৃজনীমূলক মনোভাবের পরিচয় যা মানুষটির ভিতরে লুকিয়ে থাকে । ওনারা এক পরীক্ষায় দুটি গ্রূপ তৈরী করেন , একটায় থাকে অগোছালো লোকজনেরা আর অন্য দলে গোছানো লোকজন আর তাদের কিছু পিং-পং বল দেন যেগুলি দিয়ে তাদের কিছু নতুন জিনিস বানাতে হবে ।
দেখা যায় , অগোছালো মানুষজনেরা বেশি চিন্তা ভাবনা করে নতুন নতুন জিনিস তৈরী করতে পেরেছেন । তাই , অগোছালো মানুষদের আজ থেকে সম্মান করতে থাকো ।

৫) বেশি ঘুমানো –

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতেই চায় না , কিংবা দেরিতে ওঠা স্বভাব করে ফেলেছে । তাদের মনে হয় অলস , উদেশ্যহীন জীবন কাটানো কেউ ।অন্যদিকে অনেকেই সকালে উঠে এক্সারসাইজ ,নানা কাজ কর্ম করে থাকে । কিন্তু এখনকার রিসার্চ বলছে , সকালে ওঠা সব সময় শরীরের জন্য ভালো না । আমাদের শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় , আর্টারি ব্লক করে দেয় , হাইপার টেনশন ও তৈরী করে ।কারণ শরীরের পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের এই সব সমস্যা তৈরী করে দেয় ।

৬) গালগল্প –

সময়ের অপচয় করে অন্য কারোর সাথে গল্প করে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়া অনেকেই অবাক চোখে দেখে থাকেন । এমনকি এটাও ধরে নেয়া হয় যে , যারা এই স্বভাবে দোষী তাদেরকে সহজে বিশ্বাস করা যায় না মানে ওই কনভাঙানো গোছের বলে মনে করা হয় ।
কিন্তু এখনকার মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন , কম -সমে যদি এই স্বভাব ধরে রাখা যায় তবে সহজেই অন্যের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । আর এতে আমাদের স্ট্রেস লেভেল কমে যায় , উদ্বেগ ও কম হয় । এমনকি সমাজের খবর ও বেশি রাখে তাঁরা ।

৭) ঢেকুর –

জোর করে কিংবা একটু বেশি আওয়াজ করে ঢেকুর তোলা মানুষজনদের দিকে সকলেই আড়চোখে তাকায় আর হাসে । কিন্তু এই স্বভাব যাদের আছে তারা কিন্তু কিছুটা ভাগ্যবান । কারণ তাদের ঢেকুর , পাকস্থলীর অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে ফলে গ্যাস্ট্রিক ভালো থাকে । এই কারণে বদহজম হবার থেকে তারা নিস্ত্রান পান । তাই বলাই যায় , ” ভিতরে থাকার থেকে বাইরে ভালো ।”

৮) স্নান না করা –

স্নান না করা , ঘাবড়েও না , বলতে চাইছি মাঝে মাঝে স্নান না করার কথা , আসলে কিছু উপকার করে । আসলে স্নান করলে আমাদের ত্বকের তেল নষ্ট হয়ে যায় যেটা মাঝে মাঝে স্নানে ফাঁকি দিলে ঠিকঠাক থাকে । এতে আমাদের গায়ের চামড়া নরম আর চকচকে থাকে । আবার প্রায়ই যদি সাবান ব্যবহার করে স্নান করি তবে শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলো মরে যায় । স্নান না করলে এই গুলো বেঁচে থাকে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে ।

৯) ঠান্ডা জলে স্নান –

আমরা প্রায় সকলেই ঠান্ডা জলে স্নান করা এড়িয়ে চলি কারণ ঠান্ডা লেগে যাবার ভয় । কিন্তু আসলে ঠান্ডা জলে স্নান করলে আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় । তার ফলে আমাদের শরীরে উরিক এসিডের পরিমান কমে , ব্লাড প্রেসার কম হয় আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাড়ে । সাথে , কাঁপতে কাঁপতে স্নান করলে আমাদের ফ্যাট গলে আর ওজন ও কমতে থাকে ।

১০) সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন –

আজকাল হোয়াটস্যাপ , ফেসবুকের মতো আপ গুলোয় মানুষ দিনের অনেকখানি সময় ব্যায় করে মানে বলা যায় অপচয় করে । তবে যদি কম সময়ের মধ্যে করা যায় তবে তার অনেক উপকারী দিক আছে । লোকজনের সাথে সম্পর্ক রাখতে সাহায্য করে তাই নিজেকে কখনোই নিঃসঙ্গ মনে হবে না । মানসিক ভাবে ও উপকার পাওয়া যায় কিছু ভালো গ্রূপের সাথে জড়ালে । আবার অন্যের দেখাদেখি নিজে ও উৎসাহ সহকারে এগিয়ে যেতে পারবে জীবনের পথে ।

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →