knowledge

বইঘর

বইঘর কথাটা সত্যি আছে কি ? আমার জানা নেই , মনে হয় নেই কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে শব্দটা থাকলে মন্দ হতো না । আসলে আমি তোমাদের জানাতে চলেছি ” লাইব্রেরি ” নিয়ে আর সেটার বাংলা তর্জমা করলে হয় ” গ্রন্থাগার ” বা ” পাঠাগার ” । কিন্তু ” বইঘর ” বললাম কারণ একজন বইপ্রেমী হিসাবে আমি বইগুলোর সাথে জীবন্ত মানুষের মতোই ব্যবহার করি । বইয়ের যত্ন নিয়ে সচেতন থাকি ,একটু বইয়ের পাতা মুড়িয়ে গেলে ব্যাথা পাই , কোনো বই কি ম্যাগাজিন ফেলে দিতে মায়া হয় , দাদু-ঠাকুমা-পিসি-কাকু যার ই বই পাই তাই সংগ্রহ করতে ভালোবাসি আর বই পড়তে চেয়ে নিয়ে ফেরত না দিলে তাকে প্রায় শত্রূ বলেই ভেবে নিই ।

কিন্তু এতো হিজিবিজি না বকবক করে চলো যেটা জানাতে যাচ্ছিলাম সেটা বলি । এই পৃথিবীতে গ্রন্থাগারের সংখ্যা কম নেই কিন্তু তোমাদেরকে জানাতে চাই সবথেকে বড়ো কতকগুলি নাম

১) রাশিয়ান স্টেট্ লাইব্রেরি

১৮৬২ সালে গড়ে ওঠা এই বইঘর টি নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে ।প্রথম দিকে এটি একটি মিউজিয়াম ছিল , রুম্যান্টসেভ মুসিয়াম নাম ছিল যেখানে নানা বই , পুঁথি , জার্নাল , ম্যাপ এইসব সংরক্ষণ করা থাকতো । পরে এটি সেন্ট পিটসবার্গ থেকে মস্কো তে স্থানান্তরিত করা হয় আর নাম হয় পেস্কোভ হাউস । ১৯১৭ সালে নতুন বিল্ডিং করে আবার গ্রন্থাগারটির জায়গা পরিবর্তন হয় । ১৯২৪ সালে নতুন নামকরণ হয় ” লেলিন স্টেট্ লাইব্রেরি ” যা এখানকার লোকেরা ডাকে ” লেলিনকা ” বলে । ১৯৯২ সালে আবার নাম পরিবর্তন করে করা হয় ” রাশিয়ান স্টেট্ লাইব্রেরি “। এই বইঘরটিতে কত বই আছে এখন জানো ? মাত্র ৪.৪ কোটি , বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বইঘর এটি ।

২) লাইব্রেরি আর আর্কাইভ , কানাডা

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় রয়েছে এই বৃহৎ বইঘরটি । আসলে টো০৪ সালে ” লাইব্রেরি ” আর ” আর্কাইভ ” সংযুক্ত হয়ে কানাডার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে চেষ্টা করছে এটি । যারা এখানে সদস্য হতে চান তাদের অতীত সম্পর্কে নানা তথ্য যাচাই করে দেখে তবেই প্রবেশ অধিকার দেয়া হয় । কানাডার জনসংখ্যার ইতিহাস , অভিবাসন সম্পর্কে তথ্য , সেখানের মানুষদের পরিবারের নানা খবর এই লাইব্রেরিতে থাকা নানা বই , পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যাবে । এখানে রয়েছে প্রায় ৫.৪ কোটি বই , আর বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বইঘর এটি ।

৩ ) নেউয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি

প্রায় ৯২ টি লাইব্রেরি নিয়ে নিউয়র্কের এই লাইব্রেরি যা ছড়িয়ে রয়েছে ব্রনক্স , ম্যানহাটান আর স্টেটেন আইল্যান্ডে । এর মধ্যে ৪ তে বড়ো রিসার্চ লাইব্রেরি আছে আর প্রধান লাইব্রেরিটা আছে ম্যানহাটানে ।ব্র্যান্ট পার্কের কাছে থাকা এই লাইব্রেরি-বিল্ডিংটা স্থাপত্য নিদর্শন আর অন্যতম দেখার বস্তু । এখানে রয়েছে ম্যাপ, মিউজিক , বই , নানা ম্যাগাজিন আর মুভির সম্ভার । এমনকি মুভি দেখতে নিয়ে যেতে দেয়া হতো মেম্বারদের আর তাও সেটা ফ্রীতে । ১৯৬৫ সালে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিতে আছে ৫৫ কোটি বই । বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বইঘর এটি ।

৪) ব্রিটিশ লাইব্রেরি

ব্রিটেনের জাতীয় লাইব্রেরি , ব্রিটিশ লাইব্রেরি , খুবই আধুনিক আবার অনেক পুরানো এই দু রকম ঘরানার আশ্চর্য্য মিশেল । এখানে রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি নানা ধরণের জিনিস যেমন বই, স্ট্যাম্প, মিউজিকের সম্ভার , পুরানো সংবাদপত্র আর ম্যাপ ও । বিল্ডিঙের ৮০ ফুট নিচে রয়েছে বেসমেন্ট যেখানে তাপমাত্রা এতো ভালো থাকে যে ঐতিহাসিক জিনিসপত্র সহজেই সংরক্ষণ করা যায় । ইংল্যান্ডের রাজা-রানীদের নানা দুষ্প্রাপ্য লেখা , ইংরেজি সাহিত্যের নানা লেখক-লেখিকাদের মূল্যবান পাণ্ডুলিপি সব এখনো রাখা আছে এই লাইব্রেরিতে । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো , জিওফ্রে চসারের ” কান্তেরবাড়ি টেলস ” এর প্রথম কপি ; জেন অস্টেনের লেখা ” পারসুয়াসন ” বইয়ের পাণ্ডুলিপি ইত্যাদি । এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইঘর ।

৫ ) লাইব্রেরি অফ ইউ এস কংগ্রেস

এই লাইব্রেটি বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ , রয়েছে ১৬.৪ কোটি বই । ১৮০০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এডামস একটা বিল সাক্ষর করেন তা হলো আমেরিকার রাজধানী ফিলাফেলদিয়া থেকে ওয়াশিংটন দি. সি তে স্থানান্তরিত করা । সেই সময় ই তিনি এই লাইব্রেরি তৈরির অনুমোদন দেন আর ৫০০০ ডলার সরকারের কাজে লাগার মতো বই কিনতে দেন । সেই সময় ই জন্ম নেয় এই লাইব্রেরি যেখানে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নথি পত্র এমনকি আমেরিকার স্বাধীনতার দলিল ও । রয়েছে আরো নানা ধরণের অন্যান্য জিনিস যেমন আব্রাহাম লিঙ্কনের মৃত্যুর দিন তাঁর পকেটে থাকা জিনিসগুলি , রয়েছে রোজা পার্কের প্যানকেকের রেসিপি । এই লাইব্রেরি দেখতে হলে হাতে অনেক সময় রেখে যেতে হবে যদিও সব জায়গায় যেতে অনুমোদন দেয়া হয়না ।

ফটো : গুগুল

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →