knowledge

বোলো না এগুলো

এমনিতে আমরা বেশ কথা বলতেই পারি কিন্তু এমন কতকগুলি জায়গা , দেশ আছে যেখানে কয়েকগুলো কথা বলতে মানা । সে কথাগুলো বললে তোমার সম্পর্কে খারাপ ধারণা হবে আর শুধু তাই নয় , তোমার জেল ও হয়ে যেতে পারে । তবে বেশ কিছু বিষয় যে গুলো জেনে রাখলে এই রকম বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সেরকম কিছু এখানে জানাচ্ছি ।

ইতালি 

১) ইতালি খাবার নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে যেয়ো না , তাদের চোখের সামনে পাস্তা সস না ব্যবহার করে টমেটো কেচ আপ ব্যবহার করার পর তো নয় ই ।

২) ইতালির ড্রাইভিং রুল নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করো না , এই দেশে ব্যাপারটিকে সাধারণত খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না ।

৩) আমরা যেমন নমস্কার করি সেরকম ই ইতালিতে হাতে চুম্বন করার রীতি থাকে , এগুলোকে নিয়ে কোনো আলটপকা মন্তব্য করো না ।

 গ্রিস

১) গ্রিস দেশে গিয়ে ওখানের রেস্টুরেন্টে যদি খুব স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চাও , গ্লুটেন ফ্রি খাবার , ভেগান খাবার অর্ডার করতে যায় তবে ওয়েটার তোমাকে অবাক চোখে দেখবে । গ্রিকরা মনে করে থাকে তাদের খাবার খুবই বালান্সড তাই অন্য কোনো রকম ডায়েট তারা মানে না ।

২) গ্রিকদের নামগুলো বেশ বড়ো হয় তাই এগুলো নিয়ে হাসাহাসি করা , অন্যরকম মন্তব্য করো না ।

৩) গ্রিকদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা খুবই সমাজবিরুদ্ধ , তাই সতর্ক থেকো ।

 ফ্রান্স

১) বিশেষ কিছু খাবার যেমন ব্যাঙের পা- ঝিনুক ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা , জিজ্ঞাসা করা বেশ অস্বস্তিকর । ফ্রেঞ্চরা এবিষয়ে বিদেশিদের প্রশ্নে প্রশ্নে প্রায় তিতিবিরক্ত হয়ে গেছে ।

২) শ্যাম্পেন নামের পানীয় নিয়ে নিজের জ্ঞান জাহির করা আর বলা যে এটি ব্রিটিশদের তৈরী । ফ্রেঞ্চরা তোমাকে আর পাত্তাই দেবে না তখন । আসলে শ্যাম্পেন পানীয় নানা পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বে জনপ্রিয় করে ফ্রেঞ্চরা ।

ব্রাজিল

১) আর্জেন্টিনা নিয়ে কথা বলা শুরু করলে , মেসির কত ফ্যান না জানিয়ে পারলে না , তখনি যেন তুমি আর কোনো প্রশ্নের উত্তর পাবে না ব্রাজিলিয়ানদের কাছ থেকে । আসলে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা প্রায় শত্রুপক্ষ, তাই সাবধানে কথা বলাই ভালো ।

২) ব্রাজিলিয়ান সিনেমা বা টিভি সিরিজ কিছু দেখে থাকলে সেগুলো নিয়ে মন্তব্য করো না , কারণ সেখানের লোকজন মনে করে থাকে এগুলো তাদের নিয়ে ভুল ধারণা তৈরী করে দেয় ।

জাপান

১) ডিভোর্সের ব্যাপারে জাপানিরা খুবই সংবেদনশীল তাই এটা নিয়ে কথা না বলাই ভালো ।

২) এডপ্ট করা নিয়েও লোকজন পরিবারের বাইরে কোনো কথা বলতে চায় না , তাই এপ্রসঙ্গে ও কথা বোলো না ।

৩) রেস্টুরেন্টে টিপস দিয়ো না কারণ এই ব্যাপারটি জাপানিদের কাছে অবমাননাকর ।

৪) নিজের স্যালারি নিয়ে কথা বা অন্যের অর্থনৈতিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা , দুটোই জাপানিদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় ।

৫) সর্দিকাশি হলে কোথাও বেরুনোর আগে মাস্ক ব্যবহার করো , জাপানিরা ইনফেকশনের ভয় পায় খুব ।

ভারত

১) এখানকার কাস্ট সিস্টেম নিয়ে আলোচনা আর প্রশ্ন করা মানুষজনদের কাছে তোমাকে ছোট করে দেবে । কেউ ই উত্তর দিতে চাইবে না ।

২) এরেন্জেড বিবাহ নিয়ে সমালোচনা করা তোমাকে সকলের শত্রু বানিয়ে দেবে ।

৩) আবর্জনা ভর্তি জায়গার ফটো নেয়া আর সেটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নিলে তোমাকে সবাই এড়িয়ে চলবে ।

তুর্কি

১) এমন কাউকে দেখে অবাক হয়ে তার শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করা অথবা তাকে বলা যে সে মোটেই তুর্কি মানুষদের মতো দেখতে নয় , এরপর তোমার সাথে কেউ কথাই বলবে না ।

২) নিজের বাচ্ছাকে বকাঝকা করা সকলের সামনে , তাতে তোমাকেই দোষী ভাববে ।তুর্কিরা সাধারণত বাচ্ছাদের ভালোবাসে তাই বকুনি দেয়া পছন্দ করে না ।

ভিয়েতনাম

১) বাচ্ছাদের মাথায় হাত দিয়ে কখনো আদর করতে যেয়ো না , এখানের অভিবাসীরা মনে করেন যে ভালো জিনিসের অস্তিত্ব মাথায় থাকে ।তাই মাথায় হাত দেয়া তাঁরা একেবারেই পছন্দ করে না ।

২) এখানকার মানুষদের বিশ্বাস নিয়ে কোনো কথা বলতে যাবে না , তা সত্যি না মিথ্যা সেটা নিয়ে তর্ক করতে যেয়ো না ।

৩) ইতিহাস বেশি জেনে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা বিশেষ করে আমেরিকার সাথে যুদ্ধ নিয়ে একেবারেই কোনো কথা নয় ।

কানাডা

১) রয়েছো কানাডায় আর নানা বিষয়ে যদি আমেরিকার সাথে তুলনা করতে থাকো তবে সেখানে লোকজনের অপ্রিয় হয়ে যাবে তুমি । কানাডিয়ানরা নিজের দেশকে খুব ভালোবাসে ।

২) এস্কিমো নিয়ে বেশি মাতামাতি করবে না , এই শব্দটা কানাডিয়ানরা প্রায় গালাগালির মতো মনে করে থাকে ।

স্পেন

১) স্পেনের বুল- ফাইটিং নিয়ে কথা বলা , এটি এখনো সেখানে আছে কেন জানতে চাওয়া ।

২) তাদের পরিবারের থাকার ধরণ নিয়ে বিশেষ করে বাবা-মায়ের সাথে থাকার ব্যাপারে কথা বলা ।

গ্রেট ব্রিটেন

১) এখানে কখনোই এদের রাজপরিবার নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ো না ।

২) ওখানের কারো করা প্রশ্নে কখনো খুব বেশি উত্তর দিয়ো না ।

৩) সব ব্রিটেন অভিবাসীরাই ইংলিশ নন , এখানে কেউ স্কটিশ, কেউ আইরিশ, আবার কেউ ওয়েলস এর । তাই বুঝেশুনে কথা বোলো ।

৪) নিজে যা যেন বিশেষ করে বিজ্ঞানের ব্যাপার নিয়ে বেশি কথা বলতে যেয়ো না , তবে তাদের কাছে তুমি খুবই বোরিং মানুষ হবে ।

চীন

১) শরীর -স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি কিছু  জিজ্ঞাসা করো না ।

২) ফেসবুক নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ দেখিয়ো না কারণ চিনে ইন্টারনেটের ব্যবহার কম ।

৩) মাথা ঝুঁকিয়ে খুব বেশি নমস্কার করতে যেয়ো না কারণ এখানে সবাই বুদ্ধিস্ট না ।

৪) রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ো না ।

জার্মানি

১) দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ের ঘটনার চর্চা ভুলেও করতে যেয়ো না ।

২) তাদের কথার মাঝে কথা বলতে যেয়ো না , আগে শেষ করতে দাও তারপর নিজেরটা বোলো । জার্মানরা এই ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্ব দেয় ।

থাইল্যান্ড

১) এখানকার রাজার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলা একেবারেই চলে না , এর জন্য তোমাকে জেলে যেতে হতে পারে । তাই সাবধান ।

২) তাদের কীট-পতঙ্গ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করা যা আসলে তারা নিজেরাও পছন্দ করে না ।

নেদারল্যান্ড

১) দেশটাকে হল্যান্ড বলে উল্লেখ করা আর লোকজনদের হলান্ডিয়ান বলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এখানে ।

২) বেলজিয়ামের সাথে তুলনা করা , সেটাও ঠিক না । আসলে এক সময় এই দুটি একই দেশ ছিল তাই ভাষা আর অনেককিছুই বেশ মেলে । তবে সেটা বলাটা ঠিক না ।

ফিনল্যাণ্ড

১) সান্তা ক্লজ যে উত্তর মেরুর , সেটা নিয়ে কথা বলা তাদের পছন্দ নয় কারণ তারা মনে করেন যে সেখানের ই লোক হলেন সান্তা ।

২) জনসমক্ষে জোরে আর উত্তেজিতভাবে কথা বলা খুবই অস্বস্তিকর এদের দেশে তাই সাবধান ।

 ইজরায়েল

১) বাচ্ছা যদি অপছন্দ করে থাকো তবে এখানে সেটা নিয়ে বলতে যেয়ো না কারণ এখানে লোকজন পরিবারকে খুব গুরুত্ব দেয় ।

২) এখানে মিলিটারিতে সার্ভিস করা খুবই সম্মানজনক তাই এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করো না ।

৩) মাথায় টুপি পরা মানুষ দেখলে তা ধর্মীয় রীতি হিসাবে যেন তাই সহজে তাদের সাথে মিশতে যেয়ো না বিশেষ করে যদি বিপরীত লিঙ্গের হন ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply