gypsy mind

চলো ভাইজাগ ১

এই জায়গায় বেড়াতে যাওয়াটা হয়েছিল অনেক দিন আগে , প্রায় ১৩ বছর , তাই সেগুলো লিখতে গিয়ে অনেক স্মৃতিচারণ করার দরকার হয়ে পড়তো যদি না আমার কাছে ডায়েরি আর পুরানো অ্যালবাম টা না থাকতো | বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা এতটাই শেষ মুহূর্তে নেয়া হয়েছিল যে আমরা ভীষণ গোলমালের মধ্যে পরে গিয়েছিলাম | হোটেল পাওয়া যাচ্ছিলো তো ঘর মিলছিলো না আবার ঘর পাওয়া যাচ্ছিলো তো অত্যধিক ভাড়া কারণ সময়টাও ভীষণ দামি ছিল, খৃস্টমাসের ছুটি | যাই হোক শুধুমাত্র তেলেগু ভাষা বোঝা অটোচালক কে অনেক রকম করে অভিনয় করে , বুঝিয়ে একটা গেস্ট হাউস পাওয়া গিয়েছিলো আর আরো ভাগ্যক্রমে মালিক ছিলেন বাঙালি | ওই বাঙালি ভদ্রলোক অনেকদিন ওই জায়গার বাসিন্দা হওয়ায় আমরা পেয়ে গেলাম অযাচিত খোঁজ-খবর যা আমাদের খুব কাজে লেগেছিলো |তাঁরই উদ্যোগে আমরা ফোনে এ পি টি ডি সি থেকে আরাকু ভ্যালি আর বোরা কেভ যাবার ট্রেন আর বাস টিকিট পেয়ে গেলাম |ট্রেনে সকালে ভাইজাগ পৌঁছে , হোটেল খুঁজে , স্নান করে, লাঞ্চ করে খুশি খুশি যখন ঘুরতে বেরোলাম তখন সমুদ্রের গর্জন হাতছানি দিয়ে ডাকছে |

ভাইজাগ শহরটা হলো একটা পুরানো বন্দর শহর , এখন অবশ্য এখানে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও হয়ে গেছে | এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ হলো এটির মধ্যে একদিকে আছে পাহাড় আর একদিকে সমুদ্র | পূর্বঘাট পর্বতমালা আর বঙ্গোপসাগর বন্ধু হয়ে আছে এখানে | এর আরেকনাম হলো বিশাখাপত্তনম, পুরান অনুসারে কার্তিক ঠাকুরের অস্ত্রের নাম অনুসারে রাখা এটি | আবার ইতিহাস বলে খ্রিস্টের জন্মের পূর্বে রাজা বিশাল বার্মা রাজত্ব করতেন এখানে , তাই এই নাম | ঠিক -ভুল না ভেবে ঘুরে নেয়া যাক অন্ধ্র প্রদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শহর |

রাস্তায় যেতে যেতে প্রথমেই যেটা চোখে পড়লো তা হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা | বীচ রোড ধরে এগিয়ে চললাম , আসলে এই রাস্তাটা পুরো শহর কে সংযুক্ত করেছে | পৌছালাম রামকৃষ্ণ বীচে , যাকে সংক্ষেপে আর.কে বীচ ও বলে , পুরীর সেই বীচ থেকে এই জায়গাটা বেশ সুন্দর আর পরিছন্ন | শীতকালের দুপুরের রোদে , সূর্যের আলোর ঝলমলানিতে জায়গাটা খুব সুন্দর একটা ছবি আঁকা দৃশ্যের মতো লাগছিলো | সেই ফ্রেমের মধ্যে ছিল দূরে দেখা যাওয়া কিছু জাহাজ আর উঁচু হয়ে থাকা পাথরের পিলার | কল্পনা আর বাস্তব যেন মিশে গিয়েছিলো | বিশাল একটা পাথর ১৭৪ মিটার উঁচু আর সমুদ্র লেভেল থেকে প্রায় ৩৫৮ মিটার উঁচুতে থেকে সমুদ্রের জলের আর বাতাসের ঘর্ষণে নিজেকে ডলফিনের নাকের আকৃতি দিয়ে দিয়েছে আর লোকে বলেও তাই | এই ডলফিন নোজ , ভাইজাগ শহরের ল্যান্ডমার্ক | আর , কে বীচ অন্যতম টুরিস্ট প্লেস তাই জায়গাটার আস-পাস খুব সুন্দর করে সাজানো নানা রকমের মূর্তি দিয়ে |

রাস্তার ধরে নানা খাবারের দোকান , ভীষণ প্রিয় বানানা-মিল্কশেক খেয়ে চললাম আমরা গেলাম বীচ রোডের ধারেই থাকা সাবমেরিন মিউজিয়াম দেখতে | এটা ভারতের একমাত্র সাবমেরিন মিউজিয়াম নাম আই. এন.এস কুশুরা মিউজিয়াম | নানা যুদ্ধ যেগুলো ভাইজাগ শহরে হয়েছে , সেই দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আমল থেকে একাত্তরের বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় পর্যন্ত , অনেক জিনিস আর অনেক তথ্য রয়েছে এখানে | একাত্তরের যুদ্ধের সময় পাকিস্তান ও একটা সাবমেরিন পাঠিয়েছিল ভারতের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নষ্ট করতে | পি.এন.গাজী নামের সেই সাবমেরিনটা অবশ্য যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় আর তার অংশগুলো রয়েছে মিউজিয়ামে |

কিছুটা ক্লান্ত আমরা সন্ধ্যের দিকে গেলাম কালী মাতার মন্দির দেখতে | এটা ও বীচ রোডেই ছিল , রামকৃষ্ণ মিশন আর কালী মায়ের মন্দির যেটি দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরী | পূজা দিয়ে কিছুক্ষন বসে , চারিদিক দেখে আমরা আবার চলে এলাম সেই বীচে যেখানে সূর্যাস্ত পর্ব চলছিল | হাতে ঝালমুড়ির প্যাকেট নিয়ে , কিছু টকঝাল গল্প করতে করতে সন্ধ্যে গিয়ে পৌছালো রাতের কবলে | কাল সকাল সকাল উঠে আরাকু ভ্যালি যাবার তাড়া আছে তাই কাছেই একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেয়ে হোটেলেফিরে এলাম |
আর ভাইজাগের বাকি অন্যান্য দেখার জায়গা আর আরাকু ভ্যালি নিয়ে পরের লেখা গুলোয় বলবো |

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →