gypsy mind

চলো ভাইজাগ ৩

আরাকু ভ্যালি যাওয়া-আসার ক্লান্তি কাটিয়ে ভোরবেলায় উঠে পড়লাম আজ শুধুমাত্র সূর্যোদয় দেখার লোভে | রামকৃষ্ণ বিচে শান্ত সমুদ্র , ঠান্ডা হাওয়া আর নরম সূর্যের আলোর গল্প শুনে হোটেলে ফিরে এসে রেডি হয়ে একটা ক্যাব নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সিমহাচলাম দেখতে | পাহাড়ের উপর এই নামের মন্দিরটিও আছে ,এই বিখ্যাত মন্দিরের বিগ্রহ হলেন লর্ড বরাহ লক্ষ্মীনারাসিম্হা | জনশ্রুতি এই যে , এই ভগবান স্বভাবে বেশ রাগী তাই ওনাকে সর্বদা চন্দনের প্রলেপ মাখিয়ে ঠান্ডা রাখা হয় | জগন্নাথের স্নানযাত্রার মতো এই দেবতার ” চন্দন যাত্রা ” হয় বছরের কোনো একদিন আর তখন বিগ্রহের ভালোভাবে দর্শন হয় | মন্দির থেকে চারিদিকে তাকিয়ে দৃশ্য উপভোগ করা যায় |

এই জায়গার কাছাকাছি আছে ঋষিকোন্ডা বিচ , বেশ নির্জন আর সুন্দর | চুপচাপ বসে সময় উপভোগ করার জন্য পারফেক্ট | সমুদ্রস্নানের জন্য ও ভালো জায়গা |
আর আছে ” ফিশিং হারবার “, যেখানে বোটিং করা যায় সমুদ্রের মধ্যে যদিও আমরা যায়নি , কিছুটা সময়ের অভাবে আর কিছুটা অশান্ত ঢেউয়ের ভয়ে |

লাঞ্চের পর আমরা গেলাম ” ইন্দিরা গান্ধী জুলোজিকাল পার্ক “, ৬২৫ একর জায়গায় তৈরী এই পার্কে রয়েছে নানা ধরণের প্রাণী ,পাখি আর সবই খোলা জায়গায় | রাতের প্রাণীদের জন্য ও রাখা আছে একটা অন্ধকার গুহা , বাচ্ছাদের কাছে বেশ উপভোগ্য অভিজ্ঞতা |

এখানে অল্প সময় কাটিয়ে আমরা চললাম কৈলাসগিরি পাহাড়ের উদ্দেশ্যে , ১৩০ মিটার উঁচু এই পার্ক আসলে বিশাখাপত্নম আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তৈরী করেছেন টুরিস্ট আকর্ষণ বাড়াতে | নতুন একটা রোপওয়ে হয়েছে বলে শুনেছি , নিচে থেকে উপরে যাবার জন্য কিন্তু আমরা তখন কার এ করেই গিয়েছিলাম | পাহাড়ের মাথায় উঠে ভাইজাগ শহর, সমুদ্র আর পাহাড়ের প্যানারোমিক ভিউ দেখা যায় | পার্কের মধ্যে একটা টয় ট্রেন আছে , পুরো পার্কটা ঘুরিয়ে দেয় | আছে বিশাল আকৃতির শিব-পার্বতীর মূর্তি | সব কিছু দেখতে ২-৩ ঘন্টা কখন কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না |

শেষে গেলাম “মৎস্যদর্শিনী” নামের একুরিয়ামে | নানান প্রজাতির মাছের বর্ণনা আর তাদের চলন-বলন দেখে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে , নামি রেস্টুরেন্টে বিশেষ নামের দোসা খেয়ে ভাইজাগ ট্যুর শেষ করলাম | ৩ দিন সময়টা একটু কম , ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয় তাই উপদেশ দিতে পারি অন্তত ৫ দিন হাতে থাকলে সময় নিয়ে উপভোগ করা যাবে আরো ভালো করে |

যাবার ভালো সময় – নভেম্বর থেকে জানুয়ারী |

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →