useful things

চুলের ভ্রান্তি

মাথার উপর এই কালো রঙের বস্তুটির জন্য আমরা কত কিছুই না করি | নিজে ঘরোয়া পদ্ধতিতে যত্ন নেয়া, পার্লারে যাওয়া কিংবা অনেক অনেক টাকা খরচ করে নামি-দামি ব্রান্ডের জিনিস কেনা সবই আছে এর মধ্যে | চুল নিয়ে নানা কিছু জানার মধ্যে তাই লুকিয়ে থাকে অনেক ভ্রান্তি | সেরকমই কিছু কিছু জানা যাক ..

১) চুল পড়া খারাপ– প্রতিদিন ১০০-২০০ চুল উঠতেই পারে | বছরের দুটি সময় , হেমন্ত আর বসন্তের সময় মাথার চুল একটা সময় দিয়ে যায় যার নাম “টেলোজেন” , এইসময় মাথার ফলিকল বিশ্রাম নেয় | এই জন্য চুল বেশি করে ঝরে পরে | এর পর আসে “আনাজেন ” স্টেট আর তখন আবার নতুন করে চুল গজায় | তাই এই সময় গুলো চুল পড়াতে উদগ্রীব না হয়ে এক মাস মতো অপেক্ষা করতে হয় | তবে তাতেও যদি না কমে তখন ডাক্তার দেখাতে হয় |

২) চুল তাড়াতাড়ি বাড়বে– টিভিতে বিভিন্ন অ্যাড এ কত কিছু কেমিকাল প্রোডাক্ট দেখায় যেগুলো নাকি ব্যবহার করলে চুল খুব তাড়াতাড়ি অনেকটা লম্বা হয়ে যাবে | বাস্তবে এটা হওয়া সম্ভব ই না | এমনকি হরমোনাল ওষুধ খেলেও তা হয়না | আসলে জেনেটিক প্রদ্ধতি তে আমাদের চুল এক মাসে এক সেন্টি মিটার বাড়তে পারে |

৩) শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার – এই দুটি জিনিসের ব্যবহার করার পদ্ধতি নিয়ে সবথেকে বেশি আমরা গুলিয়ে ফেলি | প্রথমে আসি শ্যাম্পুর কথায়, মাথার চুল পরিষ্কার রাখার অর্থ হলো মাথার স্কিন পরিষ্কার রাখা | তাই শ্যাম্পু কেবল মাত্র মাথার স্কিনেই দেয়া ঠিক আর এরপর চুল যখন ধোয়া হবে তখন বাকি শ্যাম্পু আর জলে পুরো চুলই পরিষ্কার হয়ে যাবে |

আর শ্যাম্পু ব্যবহারের উল্টো পদ্ধতি হলো কন্ডিশনার | কন্ডিশনার পুরো চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হয় | চুলের গোঁড়া এমনিতে বেশ শক্ত আর এখানে কন্ডিশনার লাগালে মাথার স্কিন বেশি তেলতেলে হয়ে যায় | যাতে পরবর্তীকালে খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে |

৪) হেয়ার ড্রায়ার – হেয়ার ড্রায়ার কিংবা হেয়ার আইরন এই ধরণের জিনিস ব্যবহার করতে অনেকেই মানা করে কারণ এতে নাকি চুলের ক্ষতি হয় | কিন্তু এই কথাগুলো আংশিক সত্যি | চুলের জন্য কিছু থার্মাল প্রটেকশন ক্রিম পাওয়া যায় বাজারে, সেগুলো লাগিয়ে এগুলো ব্যবহার করলে সুন্দর স্টাইল করা যায় চুল নিয়ে |

৫) চুল কাটলে চুল বাড়ে – প্রতি মাসে একটু করে হলেও চুল কাটলে চুলের বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয় | যারা চুল লম্বা করতে তারা অনেক সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও কিন্তু বাস্তবে তা সত্যি নয় | আসলে চুল বাড়ে গোঁড়া থেকে , ডগা থেকে নয় | এমনকি মাথা নেড়া করে চুল ঘন করার উপায় ও প্রমাণিত নয় | জেনেটিক উপায়ে মাথায় যার যতটা চুল থাকার ততটাই থাকে |

৬) মাথা ন্যাড়া বাচ্চা – জন্মানোর পর বাচ্ছাদের মাথার চুল খুবই নরম হয় | একবার মাথা ন্যাড়া করে দেবার পর যে চুল বেরোয় সেটা অনেকটা বড়োদের মতো মোটা আর তখনি এই ভ্রম তৈরী হয় যে অনেক চুল বেরিয়েছে |আসলে কিন্তু মাথার চুলের গোঁড়া কিন্তু একই থাকে |

৭) কেরাটিন ডায়েট – বছরের পর বছর কেরাটিন ফর্মুলা ব্যবহার করে চুলের গোঁড়া শক্ত করতে কেরাটিন ব্যবহার করা হচ্ছে | আগেতে অটপসি করতে এই কেমিকাল কাজে লাগতো | তাই এর বেশি বেশি ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকারক |

৮) ব্লন্ড চুল কম থাকে – বিজ্ঞনীরা আবিষ্কার করেছে ব্লন্ড চুলের মালিকদের মাথায় আসলে কালো চুলের মালিকদের থেকে বেশি চুল থাকে |কিন্তু ব্লন্ড চুল খুব ই পাতলা হয় আর কালো চুল হয় মোটা ঐজন্য অনেক পরিমাণে দেখতে লাগে |

৯) পনিটেল বাঁধলে চুল পড়ে– পনিটেল কিংবা খোঁপা বাঁধা চুলের ক্ষতি করে না বরং চুলকে রক্ষা করে ড্যামেজের হাত থেকে | তবে শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোঁড়ায় চাপ পড়ে |

১০ ) ড্যানড্রাফ ছোয়াঁচে – মাথার স্কিনের সেবাস্টিয়াস গ্ল্যান্ডের অতিরিক্ত কাজের ফলে মাথার মড়া চামড়া ঝরে পড়ে আর একেই ড্যানড্রাফ বলে | কিন্তু অন্যের চিরুনি , তোয়ালে ব্যবহার করলে যে ড্যানড্রাফ হয়ে যাবে এটা ঠিক নয় | হ্যাঁ, নিজের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত |

১১ ) ছেলের-মেয়ের চুল আলাদা– ছেলেদের আর মেয়েদের মাথায় চুলের পরিমাণে ও একই থাকে | ছেলেদের চুল ছোট থাকে আর মেয়েদের চুল তুলনায় লম্বা থাকে | মেয়েরা চুল নিয়ে নানা রকম স্টাইলিং করে আর ছেলেরা সেই রকম কিছু করে না | মেয়েদের চুল এই জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ছেলেদের চুল স্বাস্থ্যবান দেখতে লাগে |

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →