cooking

ফেলবেন না প্লিজ

মায়েদের হাতের রান্না যখন খেতাম তখন কতই না বিচার করতাম , “এমনি বানিয়েছো কেন ? কাল্কেরটা ভালো হয়েছিল , আমার পছন্দের টেস্ট হয়নি , বেড়ে গেলে কিন্তু আমি খাবো না , আজকেও আবার ওই তরকারিটাই “, এমনি সব চলতেই থাকতো | তবে নিখাদ বাঙালি হিসাবে দুধভাত -আলুভাতেও প্রিয় খাবার ছিল কিন্তু প্রতিদিন তো আর সেটা খেয়ে কাটানো যাবে না | সবজি-ডাল-মাছ-মাংস না খেলে দেহের পুষ্টি আসবে কোথা থেকে? বিয়ের পর যখন নিজে রাঁধুনি হলাম , হাড়ে -হাড়ে বুঝতে পারলাম রান্নার মর্ম , একটা ডিশ বানাতে কত পরিশ্রম লাগে | সেই সবজি কাটা , মসলার ঠিকঠাক পরিমান , নুন-মিষ্টির ব্যালেন্স , বারবার দেখতে থাকা কতটা হলো, কিরকম হলো ,এইসব আর কি | এইরকম করে মন দিয়ে করে রান্না করার পর ভালো রান্নার তারিফ তো পেলাম কিন্তু ডিশটা যদি পরিমানে বেশি হয়ে যায় আর সেটা যদি বাড়ির লোক না খেতে চায় তখন মন যে আর আনন্দিত থাকে না সেটা বলাই বাহুল্য | বিশেষত বাড়িতে অতিথি এলে এই সমস্যা তো প্রায় সকলেরই হয় , তাই না ?প্রথম প্রথম ফ্রিজে রেখে নিজেই কষ্ট করে খাবার চেষ্টা করতাম আর মাকে বলা কথাগুলো মনে করতাম | কিন্তু সময় বিচক্ষণতা দেয় , সেটা পেয়ে এখন করি কি ওই সমস্ত বেঁচে যাওয়া খাবার গুলো দিয়ে নতুন ধরণের পদ বানানোর চেষ্টা করি | বাড়ির লোক ও খুশি থাকে আবার একটা নতুন রান্না পেয়ে আর আমিও কারণ বেড়ে যাওয়া রান্না ফেলতে যে বড্ডো কষ্ট লাগে আবার অপচয় ও হয় |
দেখুন তো আইডিয়াগুলো আপনাদের কোনো কাজে লাগে কি না …..

১) ব্রেকফাস্টে করা ওটমিল পরিমানে বেশি হয়ে গেছে ? ওই সেদ্ধ ওটমিলের মধ্যে কিছুটা দুধ , একটা ডিম্ ভেঙে মাখিয়ে নিন | সাথে একটু তেল , চিনি , কিসমিস এইসব দিয়ে ভালো করে পেস্ট বানিয়ে নিন | এই মিক্সচার দিয়ে মাইক্রোওয়েভে বেক করে কিংবা ওভেনে দিয়ে খুব সুন্দর কুকিজ আর মুফিন বানানো যাবে যা স্বাস্থকর ও |

২) ভাত বেড়ে গেছে ? সাদা ভাতের মণ্ড দিয়ে রসগোল্লা বানিয়ে খেয়ে নিন | অবাক হচ্ছেন ? আমার বাড়ির লোক ও হয়েছিল | পদ্ধতি হলো , প্রথমে ভাত ভালো ভাবে পেস্ট করে নন মিক্সিতে দিয়ে | এরপর ওর সাথে কিছুটা বেসন , কিছুটা ময়দা দিয়ে ডোলে নিন ভালো করে |( রেশিও : ১ কাপ ভাত , ১ চামচ করে বেসন আর ময়দা )
চিনির রস ফুটন্ত করে তার মধ্যে ওই ভাতের মণ্ড ছোট ছোট করে ফেলে ১৫-২০ মিনিট ফোটালেই গরম রসগোল্লা রেডি |
এছাড়াও বেড়ে যাওয়া ভাত দিয়ে লেমন রাইস, টামারিন্ড রাইস ,ফ্রাইড রাইস ও বানিয়ে নেয়া যায় |

৩) পাউরুটি পুরানো হয়ে গেছে ? মানে ডেট পার হবো হবো অথচ অনেক গুলো আছে ? ছোট ছোট স্লাইস করে উপরে অলিভ অয়েল কিংবা বাটার লাগিয়ে বেক করে নিন | পরে সুপের সাথে এগুলো খেতে মন্দ লাগবে না কিংবা গুঁড়ো করে ব্রেডস্ক্র্যাম্ব হিসাবে ও অন্য রান্নায় ব্যবহার করা যাবে |
আবার ব্রেড গুলোকে টুকরো করে বিনস , আলু, মটরশুঁটি , কাজু, কিসমিস দিয়ে প্যানে নেড়ে ছেড়ে পাঁউরুটির হচপচ ও বানানো যেতে পারে |

৪)ফ্রিজে বেশ কিছু পুরানো সবজি আছে যেগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে যেমন মাশরুম, টমেটো, অলিভ সেগুলো না ফেলে পিজা বানিয়ে খেয়ে নিন | ময়দা আর ইস্ট দিয়ে বেকিং ডো বানিয়ে নিন | টমেটো গরম জলে ফুটিয়ে নিয়ে স্কিন ছাড়িয়ে পেস্ট করে নিন , সস রেডি | এরপর ওই বেকিং ডো তে সস মাখিয়ে , তার উপর মাশরুম, অলিভ ঐসবের টপিং দিলে আর উপরে অল্প করে চীজ ছড়িয়ে দিলে স্ন্যাকসের জন্য পিৎজা রেডি |

৫) মাংসের ঝোল কিংবা চিকেনের ঝোল বেড়ে গেলে সোয়াবিন দিয়ে একটু তরকারি রান্না করে তার মধ্যে ওই ঝোল দিয়ে দিলে সবাই চেটেপুটে খেয়ে নেবে |
আবার আর একটু বেশি করে আলু-পেঁয়াজ ভেজে ওই বেঁচে যাওয়া ঝোল মিশিয়ে শুকনো শুকনো করে নিয়ে ব্রেডের মাঝে দিয়ে দারুন স্বাদের স্যান্ডউইচ বানানো যেতে পারে |

৬) কাবলি ছোলার ডাল অনেকটা বেড়ে গেছে ? চিন্তা না করে হাতের কাছে থাকা পাস্তার প্যাকেট সেদ্ধ করে নিন | এরপর ওই ছোলার কারি পাস্তার সাথে মিশিয়ে নিলে , উপর থেকে একটু লেবু, ধনেপাতা,কুচি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিলে আবার একটা নতুন ডিশ |

৭) চানা ডাল মানে ছোলার ডাল, মুগের ডাল এইসব বেড়ে গেলে এইসব দিয়ে অনেক কিছুই করতে পৰ যায় | প্যানে ঘি দিয়ে অনেক পেঁয়াজ ভেজে এই ডাল দিয়ে নাড়তে নাড়তে শুকনো করে অনেকটা আলুভাতের মতো খাওয়া যেতে পারে | আবার সেই শুকনো মণ্ড তা পুর হিসাবে ব্যবহার করে চটজলদি পরোটা ও বানিয়ে নিতে পারেন |
আর বিড়ি কলাইয়ের ডাল বাড়লে ওই একই ভাবে শুকনো করে রাধাবলভির পুর হিসাবে ব্যবহার করে নিতে পারেন |

৮) রুটি বেড়ে গেলে ওই রুটি গুলো মাইক্রোওভেনে কিংবা ওভেনে হাই হিট দিয়ে ৩মিনিট রেখে পাঁপরের মতো করে নিন | সেটা মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিয়ে একটা প্যানে তার সাথে দুধ, এলাচ পাউডার, মিষ্টি দিয়ে মোটা মতো পেস্ট করে নিন এরপর এর সাথে কুচি করে কাটা আপেল, কলা মিশিয়ে আর উপরে কিছু ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে গার্নিশ করে ফ্রিজে রেখে দিন | নতুন রকমের ডেজার্ট হয়ে যাবে |

৯) ইডলি অনেক বেঁচে গেছে ? প্যানে তেল দিয়ে ইডলি গুলো হালকা করে ফ্রাই করে নিন , পরে টুকরো করে নিন আধা করে | ক্যাপসিকাম , পেঁয়াজ, টমেটো দিয়ে শুকনো কারি করুন আর তাতে কিছুটা সয় সস দিয়ে মিক্স করে তার সাথে ইডলি গুলো ভালো করে মিশিয়ে নিলেই চিলি ইডলি হয়ে যাবে |

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →