my experience, useful things

দূর যাত্রা

“দূরে কোথাও , আরো দূরে “…হুন হুন বাবা , এমনি করে গান গাওয়া খুব সোজা কিন্তু যাওয়া ? সেটা যদি আবার বিমানে হয় তো ? কি , আমি কি বলতে চাইছি ? বলছি , বিমানে লম্বা যাত্রার কথা মানে ওই ধরো ১৬ ঘন্টা বসে আছো তোমার ওই ছোট্ট ইকোনমি ক্লাসের সিট দখল করে । প্রথমে তো ঘুমের মারপ্যাঁচ ,আসছে না এসে গেছে ভাবতে ভাবতে সময় আর কাটে না ,পেটের খিদের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন এয়ার হোস্টেসরা ,পছন্দসই খাবার পেয়ে আনন্দে মুখে তুলতেই কত কম খাওয়া যায় সেই চিন্তা কেননা স্বাদ অতি জঘন্য ,সাথে টয়লেটের সামনে লম্বা লাইন । ভয় পেয়ে গেলে নাকি ?

না , তোমাদের ভয় পাওয়াতে লিখছি না । সম্প্রতি এইরকমই এক বিমান যাত্রার নানা অভিজ্ঞতায় ভরপুর হয়ে তোমাদের জন্য কিছু টিপস নিয়ে বসেছি যাতে ” তোমার বিমানযাত্রা সুখের হয় ।” দেখো সেগুলো ..

১) খাবার – লম্বা বিমান যাত্রায় কখনোই ওদের খাবারের উপর ভরসা করা উচিত না বিশেষ করে যদি বাচ্চা থাকে তো আরোই নয় । বিমানে সাধারণত যা খাবার দেয় তাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে , প্রোটিন কম । আমরা নিজেদের সাথে কিছু প্রোটিন বার নিয়ে রাখতে পারি তাতে খিদে কম পাবে । জিপলকে কিছু শুকনো বাদাম , কলা, আপেল, এপ্রিকট এইসব রাখতেই পারি । বিস্কুট,কুকি ও মন্দ না ।

২) জামা-কাপড় – ঘন্টায় ঘন্টায় যেন তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় বিমানের মধ্যে । ভারী কিছু পরে থাকলে হঠাৎ করে গরম করে শুরু করলে সেটা খুলে রাখার জায়গা পাওয়া না । আবার ঠান্ডা লাগলে কোথা থেকে কি জড়াবো খুঁজে পাওয়া না । অনেকটা যেন ” হুন্ডি-সুন্দি ” র মতো ব্যাপার । তাই পোশাক পড়ুন পরতে পরতে মানে সোজা ইংরেজিতে লেয়ার্স এ । তাপমাত্রার হেরফেরে সমস্যা হবে না ।

৩) জলের বোতল – ডিহাইড্রেশন খুব বোরো একটা সমস্যা , আমার তো মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায় ।হয়তো অনেকেরই হয় , ক্লান্তি ও আসে তাড়াতাড়ি । আসলে বিমানের মধ্যে খুব শুক্ষ আবহাওয়া থাকে , মুরুভুমির থেকেও বেশি । তাই প্রতি এক ঘন্টায় ৮ আউন্স করে জল খেলে ভালো । বিমান সেবিকাদের বারে বারে বিরক্ত করার থেকে নিজেই একটা খালি বোতল সাথে রাখুন । বিমানে ওঠার আগে , সিকুরিটি চেকিংয়ের পরে , নিজের খালি বোতলটি এয়ারপোর্টে ভরে নিন । নামার আগে পর্যন্ত , বোতল শেষ করেই নামবেন ।

৪) বাথরুম – হঠাৎ করে পেলে কিছু করার নেই কিন্তু যদি একটু রয়ে-সয়ে থাকো তবে আমার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি ঠিক কখন বাথরুম অবশ্যই খালি পাবে । বিমানসেবিকার খবর দেয়ার ঠিক পরে পরে , মানে নিজের খাবারটা না হয় একটু পরেই খেলে ।চট-জলদি বাথরুম ঘুরে এলে তখন ফাঁকা থাকে । কিন্তু ভুলেও খাবার দেয়ার ৩০-৫০ মিনিটের মধ্যে যাবার কথা মাথায় রাখবে না ,লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবেই হবে , মনে রেখো ।

৫) ব্যাগ রাখা – নিজের জিনিস, ওষুধপত্র , টুকিটাকি যত কম রাখবেন ততই ভালো । দরকারে একেবারে ছোট্ট জিপলকে নিয়ে কাছে রাখুন , ব্যাগে নিয়ে পায়ের কাছে রাখাটা বোকামি । লম্বা যাত্রার সময় পা গুলো একটু বেশি নাড়াচাড়া করলে ভালো নাহলে পা ফুলে যাবে , ” ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস ” ও হতে পারে । তাই কেবিন এ ব্যাগ তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ ।

৬) দরকারি টুকিটাকি – একটা ছোট টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ,
ময়শ্চারাইজার , লিপবাম , ডিওডোরেন্ট এই জিনিসগুলো ছোট্ট ব্যাগ এ ভরে সাথে অবশ্যই রাখবেন । দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা আর তার সাথে নিজেদের স্বাস্থ্যের ঠিকঠাক খেয়াল না রাখাটা অপরাধের মতো হয়ে যায় আমাদের নিজেদের জন্য ।

৭) ঘুম – ঘুম ছাড়া এই বিমানযাত্রার কষ্টের মুক্তি পাওয়া অসম্ভব । তাই ঘুমের জন্য বেশ করে প্রস্তুতি নিয়েই উঠতে হবে বিমানে । আশেপাশের বাচ্চার কান্না ,লোকেদের কথা , বিমানের আওয়াজ এইসব যদি না শুনতে চান তবে সাথে রাখো ” নয়েজ -ক্যান্সেলিং ” হেডফোন কিংবা এয়ার-প্লাগ । আর বিমানের মধ্যেকার লাইট থেকে বাঁচতে রাখুন ” আই মাস্ক ” । এরপর আরাম করে ঢাকা দিয়ে শুয়ে পর কিন্তু সিটবেল্ট লাগিয়ে রাখো উপরের দিকে যাতে বিমানসেবিকারা এসে ঘুমের মধ্যে ডিসটার্ব না করতে পারে ।

আপাতত এই গুলোই বললাম , কেউ কেউ হয়তো বসে বসে যোগা করার কথা ভাবতে পারো শরীর সুস্থ রাখতে কিন্তু বিশ্বাস করো , আমি নিজে অনেক চেষ্টা করেও এটার জন্য এনার্জি পাইনি বিশেষ করে সুকুরিটি চেকিং এর ধকলে , কানেকটিং বিমানের চিন্তায় আর বেশ কিছু মজাদার মুভির ক্ষপুরে পরে । তা বলে তোমাদের মানা করছি না , কিছু হাত-পা নড়াচড়া করার ব্যায়াম নিজেদের জন্য করতেই পারো সিটে বসে ।

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →