way of living

ঘুমের আগে

দিনের পর দিন , দিনের দৈর্ঘ্য যেন বেড়েই চলেছে , মানে আমাদের কাজের যেন কোনো কমতি হচ্ছে না , কোন দিকে যে সময় চলে যাচ্ছে বুঝাই যাচ্ছে না । কিন্তু এতসব কাজের মধ্য দিয়ে জড়ো হচ্ছে মনের মধ্যে একরাশ এঞ্জাইটি মানে উদ্বেগ । ফলস্বরূপ , অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলেও , বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ, ঘুম আসবো আসবো করেও আসে না । এদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে মেসেজে জেনে গেছি যে ৭থেকে ৯ ঘন্টা ঘুম খুবই দরকারি আমাদের শরীরের জন্য । তাহলে উপায় ? বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় কিন্তু রয়েছে এই অসুবিধা দূর করতে তবে সেগুলির জন্য একটাই সময় , ” শোবার আগে “। দেখি চলো সেগুলো কি………..

১) গরম দুধ

গভীর ঘুমের জন্য অন্যতম সেরা পানীয় গরম দুধ । এর মধ্যে রয়েছে ট্রিপ্টোফ্যান যা আমাদের মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ক্ষরণকে বাড়িয়ে তোলে । ফলে আমরা খুশি হয়ে যাই ,ভালো লাগে । আর এই অবস্থায় মেলাটোনিন হরমোন ও বেশি বেশি ক্ষরিত হয় যার ফলে আমাদের ঘুম এসে যায় । তাই যারা দীর্ঘ্যদিন অনিদ্রা রোগে ভোগে তাদের জন্য এই উপায়টি খুবই উপকারী ।

) পুদিনা চা

পুদিনা চা আমাদের পাকস্থলীর জন্য খুবই ভালো কারণ এর মধ্যে রয়েছে আন্টি -ইনফ্লামেটরি উপাদান । এটি আমাদের শরীরের মাশলগুলিকে রিলাক্স হতে সাহায্য করে । ছাত্র-ছাত্রীরা যারা রাত জেগে পড়াশুনা করছে , তাদের ঘুম আনার জন্য এই পানীয়টি খুবই ভালো ।

৩) চেরি জুস্

দুধের মতোই এতে রয়েছে ট্রিপটোফেন যা মেলাটোনিন হরমোনকে ক্ষরিত হতে সাহায্য করে । তাই ঘুম না এলে যদি এক গ্লাস চেরি জুস্ খেয়ে নাও তবে ঘুম তো আসবেই আর বেশ অনেক্ষন ধরেই ঘুম হবে , শরীরের-মনের ক্লান্তি ও কেটে যাবে ।

৪) নারকেলের দুধ

নারকেলের দুধের মধ্যে থাকে সোডিয়াম আর পটাসিয়াম , এই দুটি আমাদের মাশলগুলিকে রিলাক্স হতে সাহায্য করে ফলে সহজেই ক্লান্তি দূর হয় । সাথে সাথে আমাদের শরীরের রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে দেয়, কিডনির কার্যকারিতাও ঠিক রাখে । এছাড়াও এর মধ্যে প্রচুর পরিমানে থাকা ইলেক্ট্রোল্যাটস আমাদের শরীরকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে আর এরজন্য ঘুম ও খুব ভালো হয় ।

৫) কলা আর আমন্ড দুধ

কলার মধ্যে রয়েছে পটাসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম আর তার সাথে রয়েছে ট্রিপটোফেন । এই ফলটি আমাদের শরীর শান্ত রাখতে সাহায্য করে । এর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট আর আমন্ড দুধের মধ্যে থাকা প্রোটিন মিলে শরীরের অনেক অপুষ্টি দূর করে দেয় । এতে মন ও খুশিখুশি হয়ে যায় যা আমাদের ঘুমের জন্য দরকারি ।

৬) গ্রিন টি

এই পানীয়টি যখন খুশি খাওয়া যায় , সকালে -বিকালে খাওয়া খুব ভালো , কারণ এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । কিন্তু শোবার আগে খেলে আমাদের খেতে হবে ডিক্যাফিনেটেড গ্রিন টি । কারণ এর মধ্যে থাকা থিয়ানাইন আমাদের শরীরকে আরাম দেয় ,শারীরিক ক্লান্তি কমিয়ে দেয় আর ফলে আমরা লম্বা সময় ধরে ঘুমাতে পারি ।

৭) ক্যামোমিল টি

ক্যামোমিল টি প্রধানত ব্যবহার হয় আমাদের পাকস্থলীর সমস্যা দূর করতে । স্টমাক পেন হলে এই পানীয়টি খুব উপকারী । হজমের গোলমাল দূর করে , শরীরের ভিতরের সমস্যা কমিয়ে দেয় । তাই শোবার আগে এটি পান করলে শরীরের স্ট্রেসঘটিত নানা সমস্যা দূর হয়ে যায় আর সাথে সাথে দূর হয়ে যায় অনিদ্রা , উদ্বেগ ।

৮) ভালেরিয়ান রুট টি

এই পানীয়টি শরীরের-মনের উদ্বেগ কমাতে খুব সাহায্য করে কারণ এর মধ্যে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট আর ভালেরনিক আসিড । মেয়েদের জন্য , বিশেষ করে পঞ্চাশের উপর বয়স হলে , এই পানীয়টি খুবই উপকারী ।

এইসব পানীয় গুলো এমনকিছু দামি না , আর এগুলোর সাইড-এফেক্ট ও কম থাকে তাই তেমন কিছু চিন্তা-ভাবনা না করে এগুলিকে নিজেদের বন্ধু করে তোলাই যায় , কি বোলো ? আমি এর মধ্যে দুটো পানীয়র বেশ ভক্ত , কোন দুটো ? না , সেটা আর বলছি না এখানে , আপাতত এইটুকু ই ।

Tagged

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →