kids

গুগুল দেখো

যারাই প্রথম বার বাচ্ছার জন্ম দিয়েছে ,তারাই জানে যে যখন রাত ২ টো , চোখে ঘুম জড়িয়ে আসছে , শরীর আর দিচ্ছে না অথচ তোমার পাশে ছোট্ট বাচ্ছাটা চোখ খুলে কুটুস-কুটুস করে তাকিয়ে আছে , ঠিক তখন তোমার কেমন অনুভূতি হয় ।
ঠিক তখন মনে হয় , ” ইস , বাচ্ছাটা যদি কথা বলতে পারতো , যদি বলে দিতে পারতো কি জন্য ও জেগে বসে আছে , জানিয়ে দিতে পারতো কি করলে ও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরবে , তাহলে বেশ হয় “।

কিন্তু এখন তো লোক ভরসার থেকে বড়ো উপায় হলো ইন্টারনেট মানে গুগুল , তাই শুধু এই কথাটা , ” বাচ্ছা ঘুমাচ্ছে না “, লিখে সার্চ করলেই কম-বেশি প্রায় ৪৭২ লক্ষ উত্তর আসবে ।

এইরকম ই এক সমীক্ষায় জানা গেছে , গুগুলে সার্চ করা সবথেকে বেশি কিছু প্রশ্ন যেগুলো বাচ্ছাদের নিয়ে করা । সমীক্ষা তো সব সময় ই হচ্ছে নানা বিষয়ে কিন্তু এই বিষয়টা আমার কাছে বেশ কৌতুহলের হয়েছে কারণ প্রশ্নগুলো সব ই মধ্যরাতে করা , মানে মায়েরা রাতজেগে ,ক্লান্ত চোখে সার্চ করেছে আর পড়েছে আর করেছে সবটাই শুধু বাচ্ছার জন্য ।নতুন মা যে ।
এখন দেখি সবথেকে জনপ্রিয় প্রশ্ন গুলো কি কি

১) ” বাচ্ছার মলের রং এরকম কেন ?”

নিজের অতীত ঘেঁটে দেখো তো , সত্যি ই কি কোনোদিন স্বপ্নে ও ভেবেছিলে যে এই বিষয় নিয়ে সার্চ করতে হবে ? কিছু করার নেই , এটাই হয় আর তোমার সাথী অনেকেই আছে যারা এটা নিয়ে সার্চ করেছে ।

এক নতুন মায়ের কথায় ,” বাচ্ছা জন্মানোর পর পর বেশ কয়েক মাস আমি মলের ব্যাপারে অনেক সার্চ করেছি , খোঁজ-খবর রেখেছি , রিসার্চ করে প্রায় ডক্টরেট হয়ে গেছি বলা যায় । তার আগে কে জানতো , এতো রকমের রং ও হয় ।” কি , পড়ে হাসি পাচ্ছে ? কিন্তু আমি জানি , নতুন মায়েরা অবশ্যই হাসবে না ।

কিন্তু প্রযুক্তি এখন আমাদের সাথে সাথে ই চলে তাই নানা রকমের মোবাইল আপ বেরিয়ে গেছে যেগুলো তে তুমি বাচ্ছা নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে পারবে । তাই কোনো রকম পরিবর্তনে সহজে ভয় পাবে না । এক দিন আগে কি এক মাস আগে কি হয়েছিল তা সহজেই জানিয়ে দেবে এই আপগুলো । আর সত্যি ই যদি খুব অস্বাভাবিক কিছু দেখো , তবে সব কিছু জানিয়ে ডক্টরকে ও বলতে পারবে ।

নতুন মা দের জন্য এইরকম ই কিছু জরুরি মোবাইলে আপ হলো : ” বেবি কানেক্ট “, ” ফিড বেবি “, ” ইট স্লীপ ” আর ” স্প্রাউট ” ।

২) ” টামি টাইম ” জিনিসটা ঠিক কি ?

বাচ্ছা জন্মানোর আগে নানা জার্নালে পড়ে পড়ে তুমি হয়তো জেনে গেছো ঠিক ব্যাপারটা কি কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ? আসলে বাচাদের জন্য ” টামি টাইম” খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এইসময় বাচ্ছাদের মাসল তৈরী হয় যা তাদের হামা দিতে , হাঁটতে , বসতে সাহায্য করে যখন তারা বড়ো হয় । তাই এই সময়টা বেশ নজরদারি দিয়ে করতে হয়, এমনকি যখন ঘুমায় তখন ও । কিন্তু আসলে কি হয় ?

এক নতুন মায়ের বক্তব্য ছিল যে , ” আমার কেন জানি না মনে ,আমার বাচ্ছা এই সময়টাকে ঘৃণা করে । যখন ই তাকে নানা রকম করে জাগাই তখনি এমন করে যেন আমি কি ভুল টাই না করেছি । শুধু এই জিনিসটার পিছনে অনেক সময় লাগে ।”

কিন্তু ডাক্তাররা এই কাজটা খুবই প্রয়োজনীয় বলে ভাবেন তাই সবাইকে করতে জোর দেন তা অল্প কিছুক্ষনের জন্য হলেও । যে কোনো সময় ই করা যায় তবে সবচেয়ে ভালো সময় হলো যখন বাচ্ছা ঘুম থেকে ওঠে আর ডিয়াপার চেঞ্জ করার পরে । কারণ এই সময়গুলো বাচ্ছারা বেশ নিশ্চিন্ত থাকে । আর উপায় হলো কিছু খেলনা দিয়ে ব্যাপারটা একটু মজাদার করা যাতে বাচ্ছা ও সহজেই আগ্রহী হয়ে ওঠে । আজকে না হলে আগামীদিন ও চেষ্টা করো , ধৈর্য্য হারিয়ো না ।

৩) ” বাচ্ছা যদি না ঘুমায় , কি করবো ” ?

বাচ্চাকে কাঁদতে দেখতে কার ই বা ভালো লাগে ? যখন তুমি কাছাকছি আছো আর তখন সে কাঁদছে , তাহলে তো আর কথাই নেই । কিন্তু বাচ্ছাদের কাঁদার পিছনে অন্যতম কারণ হলো , ঘুম ঠিকঠাক না হওয়া । তাইতো এখন কত বাচ্ছাদের ডাক্তার আছে শুধু ঘুম- বিশেষজ্ঞ মানে “চিলড্রেন স্লীপ স্পেশালিস্ট “।
এমন ই এক ডাক্তার জানিয়েছেন , ” মোটামুটি ৬ মাস হয়ে গেলে , বাচ্ছারা আর রাতে খাবার জন্য জেগে উঠে কাঁদে না তবে ২৫% বাচ্ছা সেরকম হয় না ।তাই তোমার বাচ্ছা ও রাতে কাঁদে খিদে পেয়েছে বলে তবে তুমি একা নয় , এটা জেনে রেখো ।এই সমস্যাটা আসে-যায় ।”

এটা তো গেলো ডাক্তারের কথা, এবার এক নতুন-মা এর কথা শুনি । সে বলেছে , ” এই জিনিসটা এতটাই বাস্তব যে আমি ক্লান্ত -পরিশ্রান্ত হয়ে আমার যত বন্ধু আছে, পরিবারের লোকেদের কাছে এমনকি গুগুল সার্চ করে নানা ব্লগ পড়ে উপদেশ খুঁজে বেড়িয়েছি ।যে যা বলেছে করেছি , কোনটা আমাদের জন্য কাজ করবে তার জন্য অপেক্ষা করে গেছি । শেষে বুঝেছি , সবের মাঝে যেটা যথাযথ সেটা করে ভালো ।”

ডাক্তার ও তাই উপদেশ দিচ্ছেন , ” অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে , এমন একটা রুটিন তৈরি করুন যা পরিবারের সকলের জন্যই ভালো । এতে ই বাচ্ছা ও আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে । দরকার হলে নিজের বিশ্রামের ব্যাপারেও অবহেলা করবেন না ।”

কি বোঝা গেলো ? মায়েরা যখন নতুন -মা হয়েছো তখন ব্যাপারটাকে সহজ ভাবেই নাও । যদিও কাজটা বেশ ই কঠিন আর সেই সাথে পৃথিবীর সবথেকে ভালো কাজ তবুও এটা সর্বদা মনে রাখবে যে তোমার বাচ্ছার জন্য তুমি ই যথেষ্ট ।

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →