useful things

ঝগড়া

কি হে , শব্দটা শুনেই নাক সিঁটকাচ্ছ নাকি ? আমিও তাই করতাম যদি না জানতাম এই ছোট্ট নেগেটিভ শব্দটার কত বেশি পজিটিভ শক্তি আছে । জীবনে এই জিনিসটি হয়না , হয়নি এমন মানুষ কম ই আছে অন্তত কারোর না কারোর সাথে হয় । নতুন এক রিসার্চ বলছে , স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হওয়া ভালো-বিবাহের লক্ষণ অন্তত ৪০% বিবাহিত মানুষ ঝগড়া করে সপ্তাহে অন্তত একবার ।কিন্তু তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী আর সম্পর্ক ও সুস্থ আছে । অবাক হচ্ছ নাকি ? চলো দেখি এই ঝগড়ার সুফলগুলো ………………

১) পরিণতমনস্ক

যে কোনো সম্পর্কেই যদি তুমি ঝগড়া বা মনোমালিন্যকে এড়িয়ে চলো , মনের বিরুদ্ধে গিয়ে মিটমাট করে থাকো তবে তা কখনোই পরিণত বুদ্ধির পরিচয় না । কিন্তু যখন কোনো বিষয়ে তুমি তোমার মনের কথা খোলাখুলি বলতে পারলে , তর্ক করলে তখন সেই সম্পর্কের ভীত আরো মজবুত হয় । তাবলে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করোনা , চিৎকার-চেঁচামিচি ও করো না শুধুমাত্র নিজের যুক্তিগুলো বোলো ।

২) যত্ন নেয়া

কারোর সম্পর্কে কিছু দোষ দেখেও না বলা , এড়িয়ে চলা , অন্ধভাবে থাকা ব্যাপারটা মোটেই ভালো নয় । কিন্তু যত কষ্টই হোক তাকে সত্যি কথা বলে দোষ শুধরে দেয়ার মধ্যে রয়েছে আসল ভালোবাসার চিহ্ন । যত বেশি এই রকম হবে আর একে অন্যের মতকে গুরুত্ব দেবে তত বেশি যে কোনো সম্পর্ক মজবুত হবে ।

৩) সুন্দর বার্তালাপ

যে কোনো সম্পর্কের মূল হলো সহজ কথাবার্তা কেননা নীরবতা অনেক জটিলতা সৃষ্টি করে । তাই দরকারে যে কারোর সাথেই কথাবার্তা বোলো , তাদের প্রতিক্রিয়া খেয়াল রাখো আর তাদের মতামত ও শোনো । তর্ক-বিতর্ক যা ঝগড়ার অন্যরূপ, সেটিও একটি অন্যতম উপায় এই কথাবার্তা চালু রাখার । সাথে এটি সাহায্য করে মানুষদুটির মধ্যে বিশ্বাস আর অনুভূতির গভীরতা বাড়াতে ।তবে ঝগড়াকে অবশ্যই সৃষ্টিমূলক করে তুলতে হবে ।

৪) উন্নত সম্পর্ক

মনোবিদরা বলে থাকেন ঝগড়া ব্যাপারটা আসলে যে কোনো সম্পর্ক কত উন্নত তার আভাস দেয় ।এমনকি তাঁরা এ ও বলেন , স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি একেবারেই ঝগড়া না হয় তবে সেটা সন্দেহপূর্ণ , বুঝতে হবে কিছু একটা কম আছে যা ঠিক না । তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেলে যে কোনো সম্পর্ক নিজেদের মূল্য বুঝিয়ে দেয় সেটা মতামত দিয়েই হোক আর ঝগড়ার পরের মান-অভিমানের পর্ব দিয়েই হোক ।

৫) দৃঢ় সংযোগ

যখন তুমি কারোর সাথে ঝগড়া করো বিশেষ করে কাছের জনের সাথে তখন তাঁর সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বোঝা যায় তাঁর নানা কথাবার্তায় । এমনকি উল্টোদিকের মানুষের কথায় তুমি নিজেকেও ঠিকঠাক যাচাই করে নিতে পারো । এমনকি এই ব্যাপারটা আমাদের মানসিকভাবে শক্তপোক্ত ও করে তোলে । এইসব বাধাগুলো অতিক্রম করলে যে কোনো সম্পর্কেই কোনোদিন বিচ্ছেদ আসবে না ।

৬) অসন্তোষ দূর

যে কোনো সম্পর্কের মধ্যেই একটা লাইন থাকে , সীমা থাকে । মাঝে মাঝে সেটা অন্য কেউ অতিক্রম করলে নিজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরী হয় । নিজের কাছে যেটা গুরুত্বের সেই জিনিসটা অন্যজন অবহেলা করলে অসন্তুষ্টি তিক্ততায় পরিবর্তন হয় । কিন্তু যদি ঝগড়ার মধ্য দিয়ে এই অসন্তোষ বের করে দেয়া যায় তবে সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় আর অপরজন ও বুঝে যায় তার ভুল কোথায় ।

৭ ) একসাথে থাকা

কারোর ব্যাপারে বা কোনো কিছু নিয়ে নিজের মতামত না জানিয়ে চুপ করে থাকা যে কোনো সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে । সমস্যাটা কি আর তার সমাধান কি হতে পারে , এইসব জিনিস সুন্দরভাবে তর্ক করার মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসে । এইভাবে মানুষজন অনেকদিন ভালোভাবে একসাথে থাকে , দমবন্ধ অবস্থায় পরে পালিয়ে না গিয়ে ।

৮ ) একঘেঁয়েমীর মুক্তি

গঠনমূলক সমালোচনা , কথাবার্তা যা দেখতে অনেকটা ঝগড়ার মতো আসলে মানুষজনকে উত্তেজিত করে আর তাদের একঘেঁয়েমীর রাস্তা থেকে টেনে বের করে । আসলে সবসময় যদি আর একজন মানুষ তোমার কথায় সায় দিয়ে যায়, অন্য মত না জানায় তবে সবাই খুব সহজেই হাঁফিয়ে উঠবে বিরক্তিতে । আর এই বিরক্তি কাটাতে অবশ্যই দরকার ঝগড়ার ।

৯ ) ব্যক্তিত্ব প্রকাশ

যে কোনো সম্পর্কেই ঝগড়া সম্ভব যখন অন্য মানুষটির ও চিন্তা-ভাবনা আছে । আর এই চিন্তা-ভাবনার ক্রমবিকাশ গড়ে তোলে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ।

বুঝতে পারলে এবার ঝগড়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ তবে এর সাথে আমাদের বেশ কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে , তাহলো ……………..

ঝগড়া যেন অবশ্যই পজিটিভ ভাবে শেষ হয় ।

ঝগড়ার মধ্য দিয়ে যেন আমরা অন্য কাউকে অসম্মান না করি ।

ঝগড়ার পরে দরকারে ক্ষমা চেয়ে নেবার মানসিকতা ও যেন থাকে ।

ঝগড়ার কথা নিয়ে পরবর্তীকালে খুব বেশি অন্য লোকজনের সাথে গল্প করো না ।

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →