knowledge

খাদ্য ভ্রমণ

কখনো মনে হয় মানুষ প্রায়ই কিছু দেখতে এদিক – ওদিক ঘুরতে যায় , আচ্ছা এমন কখনো হয় কি শুধু কোনো পছন্দের জিনিস খেতে আমরা কোনো জায়গায় যাই ? হয় , হতেই পারে বিশেষ করে কোনো রেস্টুরেন্টে তো যাই ই | কেউ হয় তো বললো ওই ওখানের মাছের চপ টা দারুন তো ছুটলাম , কেউ বললো এখনো ওই জায়গার এগরোল ট্রাই করিসনি , তো দৌড়ালাম |

যতই হোক ভোজনবিলাসী বাঙালি তো | কিন্তু এই স্থানীয় ব্যাপারে নাক গলিয়ে যদি আরো একটু বড়োসড়ো মানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভ্রমণ করি তো কেমন হয় ? না , এখুনি টিকিট বুক করতে বলছি না , শুধু জানাতে চাই আর জানতে চাই কেউ কি রাজি আছো এই রকম ভ্রমণের জন্য … খাবার গুলোর শব্দকোষ ও একটু জানা হয়ে যাবে সাথে , কি রাজি ?

১) খাবারের জন্য প্রথম দেশ আর প্রিয় দেশ হিসাবে আমার মাতৃভূমি ছাড়া আর কাউকে রাখতেই পারছি না , ইন্ডিয়া -ভারত | বিদেশে বাস করেও দেখছি এখানকার মানুষদের কেমন ঝোঁক ” ইন্ডিয়ান ফুড ” নিয়ে | তবে ঠিক নানের সাথে কোনটা খেলে ভালো লাগবে আর গোলগাপ্পা কেমন করে খায় সেগুলো ঠিক করে তারা অনেকে এখনো আয়ত্তে আনতে পারে নি | সেখানে একজন বাঙালি হয়ে সবাইকেই সাজেশন দেব,” চলো ভারত , খাবার খেতে |”

প্রথমেই স্বাদ নাও এখানে পাওয়া সুন্দর থালির , যা নানা রাজ্যের স্বাদ অনুযায়ী নানা রকম | সাথে মিষ্টির রকমারি,নোনতা স্বাদের জন্য আছে সামোসা , যে কোনো রোল | আছে ইডলি ,ধোসা, পেটুকদের জন্য বাড়ি ফেরা মুশকিল হয়ে যাবে |

ভারতের খাবারে নিরামিষ পদের সাথে আমিষ পদের ও সমান সমান প্রতিযোগিতা চলে | আবার তেমন ই রাইস আর রুটি ও চলে সমান তালে | আসুন দেখা যাক এখানের কিছু পদ …

পানির বাটার মশলা- সব রাজ্যেই এটা পাওয়া যায় , বলা যায় খুবই জনপ্রিয় | টমেটো পুরি , ক্রিম আর পনির দিয়ে তৈরী ডিশ , সাথে থাকে ভারতীয় মশলা |

আলু গোবি – আলু, ফুল কপি আর মাসালা সহযোগে তৈরী রান্না |

বিরিয়ানি – চিকেন , ভাত দিয়ে তৈরী রান্না যেটা ইসলাম আমল থেকে জনপ্রিয় হয় | অনেক ক্ষণ ধরে নরম আঁচে রান্নার জন্য এর স্বাদ হয় অতুলনীয় |

মিষ্টি- গোলাপ জামুন, রসগোল্লা , হালুয়া অবশ্যই খেয়ে দেখতে হবে |

পানীয়- মসলা চা , লস্যি

২) পরের দেশ হিসাবে বলা যায় ইতালিকে | সেখানকার পিজা হয়তো অনেকেই জানে কিন্তু সেটা ছাড়াও নানা জিনিসের মধ্যে রয়েছে নানা লোভনীয় সালাদ | স্ট্রওবেরি, টমেটো আর মোজারেলা চিজের সালাদ বেশ জনপ্রিয় |
ভেনিস নামের জায়গায় ” চিকেটি ” নামের এক স্নাক্স পাওয়া যায় যার লোভে অনেক টুরিস্ট হাজির হয় |

এই দেশের খাবারের সম্পর্কে বলার থেকে চেখে দেখা ভালো | লাল, হলুদ,সবুজ অনেক রকমের রং ভর্তি প্লেটে হাত না দিয়ে থাকা যাবে না | ব্রেড, অলিভ তেল আর টমেটো প্রায় সব পদেই থাকে |

পিজা- মাৰ্ঘেৰিটা , কোয়াতত্র ফরমাগ্গি , স্পেক এ মাস্কার্পনে এই সব নানা ধরণের পিৎজা পাওয়া যায় এখানে |

পাস্তা- কার্বনের , পেস্ট , ক্যাসিও এ পেঁপে আর অম্যাট্রিসিয়ানা এই গুলো অন্যতম জনপ্রিয় |

মিষ্টি – নামটি হলো ” পান্না কোটা ” , একটা সুস্বাদু ক্রিমি মিষ্টি যেটা রেড বেরির জ্যামের সাথে পরিবেশিত হয় |

পানীয়- রেড ওয়াইন , (বারবারেসকো , বাড়লো , ব্রুনেল ড মোন্তালিসিন ), হোয়াইট ওয়াইন ( মুল্লের থুরগাঁও , চরদোনায় , ভার্মেন্টইন , আর্নেই ) এই সব নামের যা টেস্ট তো করতেই হবে |

৩) মেক্সিকো ,এই দেশটার নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে রৌদ্র ঝলমলে সি বিচ | খাবারের মধ্যে অবশ্যই থাকে কর্ন, বিন্স, টমেটো আর চিলি পিপার |

চিলি কোন কারনে – খুব স্পাইসি , টমেটো আর মাংসের সুপ্

টাকোস – মুচমুচে কর্ন চিপস |

কোয়েসাদিল্লা – আভাকাডো , মিট , চিল্লি পেপের আর বিন্স দিয়ে তৈরী রোল |

গুয়াক্যামলে – আভাকাডো দিয়ে তৈরী ডিপ সালাদ |

এনচিল্লাদাস – মেক্সিকান লাসাগনা |

এমপানদাস – ভাজা প্যাস্ট্রি যাতে চিকেন , বীফ আর চীজ দিয়ে পুর দেয়া থাকে |

মিষ্টি – ফ্ল্যান , ম্যাংগো পুডিং

পানীয় -মার্গারিটা আর টেকিলা অবশ্যই |

৪) জাপানিজ খাবার আবার বেশ স্বাস্থ্যকর তবে খেতেও মন্দ নয় | এখানে সুশি অন্যতম জনপ্রিয় খাবার | জাপানিজরা আসলে অনেক কিছুই খায় কিন্তু খুবই কম পরিমানে আর মশালাও কম থাকে | তাই এই ভিন্ন ধরণের খাবার যেমন ওচাজুকে ,তামাগো কাকে গহন এইসবের স্বাদ নিয়ে দেখা যেতে পারে |

এখানে খাবারের সাথে কালচার ও মিশে আছে | এদের খাবারের স্বাদেই মানুষ জন হাত, কাঁটা-চামচ ছেড়ে চপ-স্টিক দিয়ে ও খেতে শিখে যায় |

টেম্পুরা- ডিপ ফ্রাইড ডিশ

তংকাৎসু- পর্ক কাটলেট

সোবা আর উদান – নুডুলস এর নানা পদ

মিষ্টি – ওআগাসী , রাজমার তৈরী মিষ্টি ডিশ |

পানীয় – যাকিটোরি বিয়ার , গ্রীন টি |

৫) ফিলিপাইনস

আমেরিকা, চাইনা, ইন্ডিয়া, আর গ্রিসের নানা খাবারের সংমিশ্রণ বলা চলে এখানকার কুজিনকে |

এডোব – চিকেন ডিশ যাতে বেশি পরিমানে রসুন থাকে |

তরটা – ডিমের ওমলেট একটু ভিন্ন স্বাদের |

পান্সিত- এক ধরণের নুডুল

লুমপীয়া- স্প্রিং রোল

পুচ্ছেরও- বিফ রান্না টমেটো সহযোগে |

মিষ্টি – হলো হলো মানে নানা জিনিসের মিক্স করে তৈরী মিষ্টি | সেখানে থাকে আইস , কোকো , বিন্স , সাগু , জেলি , কলা , মিষ্টি আলু , কোকোনাট , জ্যাম , গুঁড়ো দুধ , লিচু , আইস ক্রিম , জ্যাকফ্রুইট এইসব |

পানীয়- তাল গাছের রসের তৈরী ওয়াইন , জিন |

তোমাদের জানানো এই পাঁচটি দেশ অবশ্যই আমার পছন্দের | তবে এটাও সত্যি দেশগুলিতে যাওয়া অনেক সময় ই সম্ভব হয়ে ওঠে না | তাই নিজেদের শহরের মধ্যে যদি এই দেশের রেস্টুরেন্ট থেকে থাকে তবে দেরি না করে ” ঢুঁ ” মেরে ফেলুন | জিভের ও একটু স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাবে |বাকি কিছু দেশের খবর পরে জানাবো |

ফটো : গুগুল

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →