knowledge

খোঁজার ধরণ

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় একটা নতুন শব্দ আর একটা নতুন কাজ আমরা প্রায় প্রতি মিনিটেই করে থাকি , খোঁজা মানে সোজা কথায় ” গুগুল ” করা । এই শব্দটি একটি ভার্ব মানে ক্রিয়া শব্দ হয়ে গেছে শুধুমাত্র আমাদের জন্য । মনের মধ্যে কোনো প্রশ্ন , জানার দরকার পরলেই আমরা গুগুল খুলি । তা এগুলো তো তোমরা জানোই , এখন যেগুলো জানলে তোমাদের উপকার হবে ঠিক সেগুলো জানাবো বলে ভাবছি । ঠিক কিরকম করে , কি লিখে খুঁজলে তোমার জানতে চাওয়ার বিষয়টি কম সময়ে আর কম খুঁজে পেয়ে যাবে সেগুলো জানাচ্ছি ……………….

১) এটা অথবা ওটা

অনেকসময় আমরা ঠিক নিচিত থাকি না যে কাকে খুঁজছি , তাই সেখানে অথবা কথাটা মানে “অর” শব্দটি লিখে দিলে আমরা যাকে খুঁজছি তার তথ্য তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবো । যেমন সুমন দে ” অর ” ঘোষ লিখলে তোমার বিষয়টি তাড়াতাড়ি চোখে পরবে ।

২) প্রতিশব্দ

আমাদের ভাষা-ভান্ডার প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দে ভরপুর । তাই নিজের বিষয়টি বা সেই বিষয়ের কোনো ওয়েবসাইট খুঁজতে সমার্থক শব্দ লিখো গুগুল সার্চে । তবে শব্দদুটি লেখার মাঝে “~” এই চিহ্ন দিয়ো । যেমন ” হেলদি ~ ফুড ” এইভাবে সার্চ করলে এর সাথে সম্পর্কিত রেসিপি , খাবার আর ডায়েটের নানা ওয়েবসাইট আসবে খুব তাড়াতাড়ি ।

৩) ওয়েবসাইটের মধ্যে

কখনো আমাদের এমন হয় যে খুব অস্পষ্টভাবে কোনো ওয়েবসাইটের নাম মনে পড়ছে যেখানে কোনো ভালো লেখা পড়েছিলাম কিন্তু ভুলে গেছি । তখন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ওয়েবসাইটের নাম আর যে বিষয়ে জেনেছিলে সেটি লিখে দিলে একেবারে খুব তাড়াতাড়ি তুমি পেয়ে যাবে যেটা চাও সেটা । যেমন , “হোমকুক ডট কম : সালাদ ” এইভাবে লিখলে প্রথমেই তোমার লিংকটি পেয়ে যাবে ।

৪) এস্টেরিক

আমাদের স্মৃতি আমাদের বেশ ভোগায় বিশেষ করে যখন দরকার পরে । তাই কোনো ফ্রেজ , নাম্বার, অথবা অন্য কিছু জরুরি শব্দ যদি ভুলে যাই তবে আমরা এস্টেরিকের সাহায্য নিতে পারি । যেটা মনে পরছে সেটা লিখে , যেটা মনে পরছে না সেটার জায়গায় “*” এই চিহ্ন ব্যবহার করে দেখো , তুমি যা চাইছো চোখের সামনেই হয়তো পেয়ে যাবে । যেমন , “১২-১২ * ” এমনি করে লিখে দেখো , সাল অথবা অন্য কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা সব পেয়ে যাবে ।

৫) অনেক শব্দের জন্য

কোনো গানের লাইন , কবিতার লাইন বা উক্তি সম্পর্কে যদি মনে না পরে তবে আমরা সার্চ করি অনেক্ষন ধরে । সহজভাবে করার উপায় হলো যে শব্দ গুলো মনে পরছে তার আগে ” আরাউন্ড ” লিখে দেয়া । আরো ভালো হবে কটি শব্দ মনে পরছে না তার সংখ্যাটি ব্রাকেটে লিখে দেয়া । বোঝা গেলো কি ? দেখো তুমি মনে করতে চাও এই লাইনটি , ” ওগো নদী আপন বেগে পাগল পারা ” , এখানে নদী লিখে তারপর আরাউন্ড (২) লিখে পাগল পারা লিখলেই তোমার বাক্যটি চলে আসবে ।

৬) সময়ের ব্যবধান

কখন হয়তো আমাদের সঠিক বছরটি মনে নেই অথচ বিষয়টি মনে আছে । তখন সেই বছরটি খুঁজতে আনুমানিক দুটি বছর আর তার মাঝে তিনটি ডট দিলেই তোমার খোঁজার বছরটি পেয়ে যাবে ।যেমন ” ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ১৯৯৫…১৯৯৯ ” এটি লিখে দিলে তোমার খোঁজা বিষয়টি তাড়াতাড়ি চলে আসবে সামনে ।

৭) এটা লেখো

যখন কোনো আর্টিকেল খুঁজছো বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ শব্দ খুঁজছো কোনো লেখায় তখন যে শব্দটি খুঁজছো তার আগে ” ইনটাইটেল ” লিখে দাও ইংরেজিতে । যেমন খুঁজছেন ” হাস্কি ” এই শব্দটা , তাই এখন লেখো ” ইনটাইটেল : হাস্কি ” এইরকমভাৱে ।

৮) একইরকম

কোনো একটা জিনিস কিনতে চাও বা দেখতে চাও আবার সেই সাথে আরো একই রকমের জিনিসের সাথে তুলনা করতে চাও তবে তোমাকে ” রিলেটেড ” লিখে সার্চ করতে হবে । বোঝা গেলো কি ? ধরো নাইক এর জুতো কিনতে চাও , এখন অন্য ব্রান্ডের জুতোর সাথে তুলনা করতে ও চাও তবে গুগুলে ” রিলেটেড : নাইক কম ” লিখে খোঁজ , তোমার প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটগুলো চোখের সামনে চলে আসবে ।
৯) অবশ্যই কোটেশন

যখন অনেক কিছু মনে আসছে অথচ ঠিক কোথায় পড়েছেন মনে পরছে না তখন সেই শব্দ বা বাক্য বন্ধটা কোটেশন মার্ক এর মধ্যে লিখে সার্চ করো । যেখানে যেখানে ওই বাক্যটি , শব্দগুলি আছে সেই সবকিছু হাতের নাগালে চলে আসবে ।

১০ ) কম গুরুত্বের

যখন তুমি কিছু জিনিস খুঁজছো অথচ সেই জিনিসগুলো অন্য কারণে খুঁজছো তখন কম গুরুত্বের কারণটা বিয়োগ চিহ্ন দিয়ে সার্চ করার সময় লিখে দাও । উদাহরণ দিয়ে জানাই , যখন কোনো বই দেখতে চাও অথচ কিনতে চাও না তখন এমনি লেখো , ” ডিকশনারি বুক -বাই ” , এতেই তোমাকে ফ্রি তে কোথাও কি বই রয়েছে সব জানিয়ে দেবে গুগুল ।

এতক্ষন তো গেলো কেমন করে খুঁজবে তার কথা , এবার বলি কি কি খুঁজবে না তার কথা ।

১) শরীর খারাপ করলে রোগের সিম্পটমস নিয়ে খুঁজতে যেয়ো না , আরো রুগী হয়ে যাবে ।

২) অপরাধ আর অপরাধী বিষয়ে বেশি কিছু জানতে যেয়ো না , ভবিষ্যতে সমস্যায় পরতে পারো ।

৩) ক্যান্সার নিয়ে বেশি সার্চ করো না , সকলের ধরণ আলাদা , ঘুম উড়ে যাবে রাতের ।

৪) চর্মরোগ ঘটিত কিছু সার্চ করার আগে ডাক্তার দেখিয়ে নাও , ভুল কিছু বুঝে নিজের চিন্তা বাড়িও না ।

৫) ক্ষতিকারক পোকামাকড় নিয়ে খুঁজো না , এতো কিছু জেনে যাবে যে তুমি ভীতু হয়ে যাবে ।

এই খোঁজা-খুঁজির পর্বের মধ্যে একটা শেষকথা লিখে তোমাদের জানাই যে খোঁজার মধ্যে ও মজা আছে । বেশি কিছু না , গুগুলে শুধুমাত্র ” হোয়াই” , ” হাও ” আর ” ডু ” এই তিনটি শব্দ আলাদা করে লিখে দেখো , এতো রকমের সাজেসন তোমার কাছে আসবে যে হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply