story

কোন কাননের ফুল …

দীপন বরাবরই ক্লাসের ফার্স্ট বয়| দেখতেও ঠিকঠাক|পড়াশুনায় তো ভালোই, খেলাধুলাতেও কম যায় না| টিউশন ক্লাস গুলোতেও টিচাররা তাকে খুবই ভালোবাসে| আর এসব নিয়ে তার ইগো কম নেই| মেয়েরা বন্ধু হতে চেয়ে সহজে তার নাগাল পায়না| একটু খারাপ দেখতে হলে তো তাকে ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেয়না| আজকে জয়ন্ত স্যারের ক্লাসটায় ঢুকতে যাবে, কেমন একটা বিশ্রী খোনা গলা শুনলো সে|” জয়ন্ত স্যারের বাড়ি কি এটা”| ” হ্যাঁ, এটাই “, দীপন মুখ টিপে উত্তর দিলো| আবারো ওই বিরক্তিকর গলায় প্রশ্ন,” আচ্ছা, আমি কি স্কুটিটা এখানে রাখতে পারি?” দীপন পাশের একটা জায়গা দেখিয়ে দিলো পার্কিঙের জন্য| তারপর টুক করে ঢুকে পড়লো স্যারের বাড়িতে| কি অসভ্য মেয়ে রে বাবা| “এক্সকিউজ মি”বলে তারপর কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে হয় সেই ম্যানার্সটাও জানে না| দীপনের চোখেমুখে বিরক্তি, আর দেখতেও কেমন যেন একটা| ঝাঁকড়া চুল,দাঁতগুলো এলোমেলো, গায়ের রংটাও ময়লা মতো| আবার তার সাথে কি ভীষণ রোগা| খুব জোর হলে একে দশে পাঁচ দেবে সে| একি স্যারের নতুন ছাত্রী? ভাবতে ভাবতে ক্লাস এ ঢুকে পড়লো| হাঁ, ঠিক ভেবেছে, মেয়েটিও তাদের ক্লাসেই বসলো| কেমিস্ট্রির স্যার আজকে কি একটা শক্ত বিষয় পরাচ্ছিলো| দীপন ঠিক মন দিতে পারছে না, কেন কে জানে? এখনই স্যার কি একটা প্রশ্নও করলো, আর দীপন অবাক হয়ে দেখলো সেই কুশ্রী মেয়েটা ঠিক আনসার দিয়ে দিলো| ছদিন পর স্যার টেস্ট নিলো আর দীপনকে অবাক করে সেই মেয়েটা, নাম মিতা, ফার্স্ট হয়ে গেলো যেটাতে শুধু দীপনেরই অধিকার ছিল এতদিন| “যাকগে শুধু তো একটা টেস্ট, তও আবার টিউশনে| কে মনে রাখবে? স্কুলে তো হতে পারবে না” নিজেকে এইবলে সান্ত্বনা দিয়ে মেয়েটার কথা ভুলে গেলো সে|
*****
উফফ যা কদিন ধকল গেলো| কিসের?পরীক্ষার আবার কি? ক্লাস টুয়েলভ শেষ করা কি মুখের কথা! দীপন যদিও পড়াশুনাটা এনজয় করে তবু পরীক্ষার পর এই রেস্ট পিরিয়ডটাও বেশ এনজয় করছে সে| এখনো জয়েন্ট টা বাকি আছে| ফোনটা নিয়ে নাড়তে ছাড়তে হোয়াটসাপ এ কেমিস্ট্রি স্যারের গ্রূপে গেলো| হঠাৎ কি মনে হওয়াতে মিতার নম্বরটা চেক করলো|ওর পরীক্ষা কেমন হয়েছে জানতে ইচ্ছা করলো তার| ঠিক তখনি ওকে অবাক করে স্ক্রিনে একটা মেসেজ এলো,”আমাদের গ্রূপে শনিবার একটা আউটিং আছে, আসবি?” আর সেটা করেছে মিতা|দীপন হাঁ বলে দিলো| কিছুক্ষন পরীক্ষা নিয়েও চ্যাট করলো| আর এই সমাপতন ঘটনাটায় অবাক হয়ে গেলো|
*****
এক মাসের জন্য একটা ট্রেনিঙ নিতে দিল্লি এসেছে সে| কলেজ থেকেই পাঠিয়েছে| আজকে ল্যাবে এক পরিচিত মুখ দেখে চমকে উঠেছে দীপন|মুখটা যেন চিনতে পেরেও চিনতে পারছিলো না | কাছাকাছি হতেই কথা শুরু হলো| সেই কুশ্রী দেখতে মেয়েটা| মিতা জানালো ইঞ্জিনারিং পড়তে ও এখন বেঙ্গালুরুতে থাকে|ওদের কলেজ থেকে ট্রেনিং এর জন্য পাঠিয়েছে| এরপর প্রতিদিনই দেখা হতে থাকে আর শুধুমাত্র ওরা দুজনেই বাঙালি হওয়াতে গল্পের সেশনটা একটু বেশি করেই চলতে থাকে| মিতা এখন একটু মোটা হয়েছে,চোখে চশমা,আগের থেকেও বেশি আত্মবিশ্বাসী, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক বেশি ফোকাস্ড আর খুব খুব খাঁটি মনের | দীপনের ওর সাথে কথা বলতে এতো ভালো লাগে, সময় কোনদিকে কেটে যায় বুঝতেই পারে না| সারাদিনে না কথা বলতে পারলে মনটা খুব ছটফট করে| দুদিন কি একটা কারণে আসতে পারেনি আর দীপনের মনে হচ্ছে ওকে যেন কতদিন দেখেনি| সেইসঙ্গে মিতাকে নিয়ে মনের অনুভূতিও পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে নিজের কাছে|আজকে মিতা মেসেজ করেছে আসবে| দীপন ঠিক ইনস্টিটিউটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে উৎকণ্ঠা নিয়ে, কখন সেই “কুশ্রী” মেয়েটাকে দেখবে| আর ঠিক করেছে আজই তাকে জানিয়ে দেবে এই মেয়েটার সাথেই সে সারা জীবন চলতে চায়|সারাজীবন|

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →