a thought

মেরা ভারত মহান

স্বাধীনতা দিবস বছরের পর বছর আসছে -যাচ্ছে আমাদের দেশের ।কিন্তু যখন ই কাছাকাছি সময় হয় তখন দূরে – দেশ থেকে দূরে থেকে , দেশের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রায়ই । মনে করিয়ে দেয় , স্বাধীনতা দিবসের সকালে করা ছোটবেলার সেই প্রভাতফেরিগুলো । দেশাত্ম বোধক গান গাইতে গাইতে শ্রাবনের সকালে পথ চলা , ফুল-মালায় সাজানো নেতাজি-গান্ধীজিকে স্যালুট জানিয়ে বীর হৃদয়ে কিছু আবৃত্তি করা সাথে শিক্ষক মহাশয়দের কাছ থেকে উপহার পাওয়া । এই সব স্মৃতিগুলো এখন হীরের টুকরোর থেকে কম কিছু মনে হয় না ।

নানা জায়গা ঘুরে ঘুরে একটা সত্যি কথা বলতে পারি , নিজের দেশ নিয়ে খানিকটা হলেও যে হিনমন্যতাবোধ ছিল তা একেবারেই দূর হয়ে গেছে । শুধু চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে এর সুন্দর বৈশিষ্ট্যগুলি । চলো সেগুলো এখন তোমাদের ও জানাই …………………………

১)ছয় ঋতু : বাকি সব জায়গায় প্রধানত ৪টি ঋতু দেখেছি , বসন্ত -গ্রীষ্ম-হেমন্ত আর শীত । কিন্তু ভারতে উপভোগ করেছি ছয়টি ঋতু , বসন্ত-গ্রীষ্ম-বর্ষা -শরৎ- হেমন্ত আর শীত ।

ফেব্রূয়ারি র মাঝমাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি – বসন্ত

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি – গ্রীষ্ম

জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি – বর্ষা

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর – শরৎ

নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি – হেমন্ত

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত – শীত

২) ১৬০০ ভাষা : পুরো বিশ্বে আছে ৮০০০ টি ভাষা আর আমাদের ভারতে আছে ১৬০০ টি ভাষা । অন্য সব দেশে সাধারণত ২টি বা ৩টি ভাষা সেখানে আমাদের দেশে যে কেউ ই ২টি বা ৩টি ভাষা অনায়াসে বলতে পারে । তবে ১৬০০ টি ভাষার মধ্যে বেশি প্রচলিত ১২২ টি ভাষা আর বাকি গুলো উপজাতি বা খুবই অল্প সংখ্যার লোকে বলে থাকে । আবার ১২২ টি ভাষার মধ্যে ৩০ টি ভাষা সবথেকে বেশি লোকজন বলে থাকে আর সবথেকে বেশি জনপ্রিয় ভাষা হিন্দি আর তারপর বাংলা । তবে অন্য যে ভাষাটিতে সবথেকে বেশি লোকজন কথা বলতে পারে তাহলো ইংরাজি । আমেরিকার পরে ভারত এই ভাষাটিতে কথা বলার লোকজনের সংখ্যায় দ্বিতীয় ।

৩) হর্ন ওকে প্লিজ : রাস্তায় বের হলে দেখা যায় বেশির ভাগ ট্রাকের গায়েই এটি লেখা । ” হর্ন ওকে প্লিজ “, ” ব্লো হর্ন ” এইসব লেখাগুলো জানিয়ে দেয় যে যদি ওই গাড়িকে পাশ করতে চাও কিংবা ওভারটেক , তবে অবশ্যই হর্ন দিয়ে সতর্ক করতে হবে । শহরগুলোয় যেখানে রাস্তায় লোকজনের আর গাড়ির সংখ্যা খুব বেশি সেখানে এই অভ্যাস অনেক জনের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় । যদিও নানা রকমের হর্নের উৎপাতে শব্দদূষণ হয় তবুও এটি পথচারীদের জন্য খুবই উপযোগী ।

৪) বন্ধু তোমায় : আমাদের ভারতে বন্ধুত্বের ভাষ্য বেশ জোরদার । মেয়েরা তো বটেই এমনকি ছেলেরা ও যারা বন্ধু তারা হাত ধরাধরি করে – বন্ধুকে গলা জড়িয়ে ধরে যা আর অন্য কোনো দেশে দেখাই যায় না ।

৫ ) রেলওয়ে : আমরা সবাই জানি , ভারতের জনসংখ্যা খুব বেশি , চীনের পরে এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাই । এটা অন্য চোখে দেখি এবার , জানো , আমাদের দেশে একদিনে যত রেলযাত্রী হয় – লোকাল-এক্সপ্রেস -সব মিলিয়ে , তা অস্ট্রেলিয়ার পুরো দেশের জনসংখ্যার সমান ।

৬ ) ভালো সস্তা : যদি তুমি সাধারণ জীবন পছন্দ করো আর উপভোগ করতে চাও তবে ভারতে জীবনযাত্রা বেশ কম খরচে হয়ে যাবে । এখানে পেটভরে একটা বেলার খাবার খরচ ডলারে পাঁচ ডলার আর এক কাপ কফি ২০ সেন্টস । হোটেলে এক রাত কাটানোর জন্য ১৫ ডলার খরচ করলেই ভালো ব্যবস্থা পাওয়া যায় । এক শহর থেকে অন্য শহরের যাবার খরচ পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের থেকে সস্তা তাই তোমায় কখনো খালি পার্স দেখে মন খারাপ করতে হবে না ।

৭) খাবার : প্রতি রাজ্যের বিশেষ বিশেষ খাবার তো আছেই তবে সব থেকে বেশি যেটা ভালো তা হলো নিরামিষ খাবারের নানা রকম -সকম । পৃথিবীর অন্য সব দেশে এতদিনে নিরামিষ খাবার জনপ্রিয় হওয়া শুরু হয়েছে কিন্তু ভারতে তা অনেকদিন আগে থেকেই ছিল । এই দেশের প্রায় ৭০% মানুষজন নিরামিষাশী তাই নানা জায়গায় নিরামিষ খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে । আর এই জনপ্রিয়তার ছোঁয়া পেয়ে আমাদের দেশের ম্যাক ডোনাল্ডস ও বিক্রি শুরু করেছে ” আলু টিক্কি ” , মন্দ কি !! আর আমিষ খাবারের জন্য ও অনেক রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায় , তাই খাবার নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই শুধু একটু ভোজনরসিক হতে হবে , এই যা ।

৮ ) ক্রিকেট -ক্রিকেট : যখন থেকে বড়ো হয়েছি তখন থেকেই এই খেলাটা যেন ধর্ম হয়ে গেছে । এটা শুধু আমার দোষ না , যারা ওই দেশের তারাই জানে ক্রিকেট ওখানে কেমনভাবে সেলিব্রেট করা হয় । খেলা তো আছেই , এমনকি দেখাটাও , বয়স্ক থেকে বাচ্চা সবাই ডুবে থাকে । সাথে থাকে জিতলে খুশি আর হারলে দুঃখ । রাস্তায় রাস্তায় বাচ্ছাদের গলি-ক্রিকেট তো ভারতে খুব জনপ্রিয় ।

৯ ) জলের ব্যবহার : আমরা ছোট থেকেই জানি টয়লেটের জন্য আমাদের দেশে জল ব্যবহার করা হয় , টিসু পেপার না । কারণ টিসু পেপার তৈরিতে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হয় তার থেকে জল ব্যবহার করলে তা পরিবেশের জন্য ভালো । ধীরে ধীরে বৈজ্ঞানিকরাও এর উপযোগিতা নিয়ে আমাদের সচেতন করছেন ।

১০ ) ভগবানে বিশ্বাস : আমাদের দেশের লোকজন বেশ ধর্ম নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসেন । জ্ঞানে-অজ্ঞানে তারা ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে থাকেন আর খুব বিশ্বাস ও করেন । একটা উদাহরণ দিই , মহারাষ্ট্রে ” শনি সিঙ্গাপুর ” নামে এক শহর আছে যেখানে লোকজন দের ঘরে কোনো দরজা থাকে না কারণ তাদের বিশ্বাস ভগবান তাদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করবেন । আরো আশ্চর্যের হলো , ২০১১ সালে সেখানে এক ব্যাঙ্ক খোলা হয় আর এই ব্যাংকটির ও কোনো দরজা নেই যা চাবি দিয়ে রাখা যায় ।

১১ ) দাবা আর লুডো : ছোট থেকেই এই দুটি খেলা খেলেনি এমন কেউ ভারতে নেই । আসলে এই দুটি খেলা ভারতেই শুরু হয় পরে অন্য সব জায়গায় জনপ্রিয় হয় । দাবার আসলে নাম ছিল , ” চতুরঙ্গ ” যা তৈরী হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে । আর লুডোর নাম ছিল , ” মোক্ষ পথ ” যা প্রচলিত ছিল প্রাচীনযুগ থেকে । আসলে এটি আমাদের হিন্দু ধর্মের দর্শনকে সহজভাবে বুঝিয়ে দেয় , কর্ম আর কামনার জয়-পরাজয় ।

১২ ) উৎসবমুখর : ধর্মীয় দেশ আমাদের ভারত তাই উৎসবের শেষ নেই আর সাথে রয়েছে নানা দেবদেবী তাই উৎসব মানেই তাদের পূজার জন্য নানা খাওয়া-দাওয়া , নতুন বস্ত্র পরিধান করা , নাচ-গান করা ইত্যাদি ।
তবে সব থেকে বেশি রঙিন আর দেশে-বিদেশে জনপ্রিয় হলো হোলি আর দেয়ালি । প্রথমটি জানায় ভালোবাসার উদযাপন আর দ্বিতীয়টি জানায় মন্দের উপর ভালোর জয় । এই দুটি উৎসবে পুরো দেশ মেতে ওঠে , ধর্মের ভেদাভেদ ও মুছে যায় ।

১৩ )মজার জিনিস : সত্যি যদি মজা খুঁজে পেতে চাও তবে আমাদের ভারতে খুব বেশি দৌড়ঝাঁপ করতে হয় না । চারিদিকে একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই তুমি হেঁসে গড়িয়ে পরবে । এমন ই একটা মজার জিনিস যা প্রায় ই ঘটে আর বুঝতে চেষ্টা করি তাহলো মাথা নেড়ে হ্যাঁ আর না বোঝানো । কারণ দেশের মধ্যে নানা জায়গায় নানা ভাবে ঘাড় নেড়ে এটি বোঝানো হয় তাই কোনো এক জায়গার নিয়ম অন্য জায়গায় খাটে না । তবে হঠাৎ করে দেখলে মাথা নাড়ানো ব্যাপারটা মজা লাগে যা বাইরের দেশে নেই ই । সাবধান, কারণ সব কাজেই মুখের উত্তর নিয়েই এগুনো উচিত ।

১৪ ) সুন্দরের পূজারী : তুমি যদি সত্যি ই সুন্দর জিনিস খুঁজতে চাও , সুন্দরকে উপভোগ করতে চাও তবে ভারতের পরিসংখ্যান বলছে , ভারত ই সেই দেশ । সুন্দর দেখতে জায়গা , মানুষের হাতে তৈরী নানা সুন্দর জিনিস আর আমাদের বলিউড সিনেমার সুন্দর লোকজনরা তো আছেই প্রমান স্বরূপ | সাথে যেটা লক্ষ্যণীয় তাহলো বিশ্ব – সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশ বেশি জিতেছে , মোট ছয় বার ।

১৫ ) নতুন যোগ : নাসা জানিয়েছেন , গত ২০ বছরে যেখানে বিশ্বের অন্যসব দেশে সবুজের পরিমান কমছে সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে আমাদের ভারতে সবুজের সমারোহ বাড়ছে । আসলে ২০১৭ সাল থেকে নানা ভাবে লোকজনদের উৎসাহিত করা হচ্ছে চারাগাছ বসানোর জন্য আর তার ফলে উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্রে আমাদের ভারত এখন অনেক সবুজ ।

জানলে তো , আচ্ছা , বোলো , এর পর ও কি আর মাতৃভূমি নিয়ে গর্ব না করে থাকতে পারি ? তাই বলছি , বলেই চলেছি , ” মেরা ভারত মহান “।

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →