a thought

নেতি না ইতি

আমাদের সমাজের কতকগুলো ধারণা আছে যেগুলো আমরা ছোট থেকেই শুনে আসছি আর শুনতে শুনতে নিজেরাও সেটিকে প্রায় সত্য বলে মেনে নিয়ে থাকি । কিন্তু একটু বিচার করলে বোঝা যাবে যে ঠিক এগুলো কতটা সত্যি ? অবশ্য বিচার না করে মেনে নিলে আমাদের মনের নেতিবাচক দিকটাই বেশি জোরদার হয়ে ওঠে ।

১) বিয়ে মাত্রেই একটা ফাঁদ

আমরা সামাজিক , সামাজিকভাবে থাকতেই ভালোবাসি । আর এই সামাজিকতার শুদ্ধ দিকটি হলো বিবাহ নামের প্রতিষ্ঠান । আসলে বিয়ে জিনিসটি এক-দুই দিনের জন্য না , এর সুফল পাওয়া যায় যত একসাথে সময় কাটানো যায় ।তার জন্য দরকার ধৈৰ্য , একে অন্যের যত্ন নেয়া আর কিছুটা করে ত্যাগ স্বীকার ও । এটা শুধুমাত্র তখনি একটা “ফাঁদ ” হবে যখন আমরা শুধুমাত্র নিজেদের জন্যই ভাববো । তাই এই সময়ে আমাদের ও দায়িত্ব আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এর সুফল নিয়ে ওয়াকিবহাল করানো যাতে তারাও বিয়ের ব্যাপারে সচেতন হয় ।

২) ছেলে-মেয়েরা শুধু নেবার বেলায়

তাদের জন্ম থেকেই আমরা তাদের অকৃত্রিম সাহচর্য পাই , ভালোবাসা পাই আবার মনে বল ও পাই যে কেউ হয়তো থাকবে আমাদের বুড়ো বয়সে দেখার জন্য । আসলে আমরা ভুলে যাই যে আমরা ও কখনো ছোট ছিলাম । আমাদের বাবা-মায়েরা আমাদের যেমন ভালোবেসেছেন , যত্ন নিয়েছেন , আমাদের ও উচিত কোনো রিটার্ন আশা না করেই ছেলে-মেয়েদের জন্য করা । আর এভাবে তারাও শিখবে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের দেখভাল করা । এটাই জীবনের চাকা , গ্রহণ করতে হবে হৃদয় খুলে ।

৩) সবাই আমার কাছে চায় , দেবার বেলায় নেই

এইভাবে যদি সবসময় ভাব তবে নিজের অজান্তেই নিজেকে তুমি সকলের থেকে উপরে তুলে রাখছো আর যার ক্ষতিকর ফল হলো অহংকার । আসলে সকলের ই নিজের নিজের সমস্যা আছে , নিজের নিজের গল্প আছে যা অন্যের থেকে একেবারে আলাদা । এক্ষেত্রে এটি ভাবা যে সবাই তোমার থেকে সুবিধা পেতে চায় ,সেটা মূর্খতা । হয়তো তাদের এই ব্যাপারটি নিয়ে ভাবার ও সময় নেই আর তুমি মনটাকে করে ফেলছো নেতিবাচক । এখুনি বন্ধ করো এই চিন্তা ।

৪) সব সময় খারাপের জন্য তৈরী থেকো

এইরকমটি ভাবতে থাকলে তুমি পরে থাকবে আশাহত হয়ে । জীবন ভালো-মন্দের মিশ্রণ আর সেগুলোর প্রায় অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে । সর্বদা খারাপটা চিন্তা করতে থাকলে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা হয়ে যাবে । বদলে খারাপের মধ্যে ও ভালো দিকটা খুঁজে নিজেকে উৎসাহী করতে হবে । এতে ভালো তো হবেই আবার জীবনের প্রতি ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে ।

৫) অমার্জিত হওয়াটাই আসল আমি

আমাদের একটা ধারণা হয়ে গেছে কারোর উপর চোটপাট করে কথা বলে দিলেই আমাদের সাহসিকতার পরিচয় দেয়া যায় । নিজেকে অকৃত্রিম প্রমান করতে কাউকে অশ্রদ্ধা করা,রূঢ ভাবে কথা বলাটা আসলে নিজের বোকামির ই পরিচায়ক । সকলের সাথে বন্ধুতার দরকার নেই কিন্তু তাবলে অন্যের প্রতি সহানুভূতি থাকবে না সেটাও ঠিক না । আবার যারা ভদ্র ভাবে কথা বলে তারাও যে সর্বদা কৃত্রিম তাও না । এই ভদ্র ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে আশেপাশে , পৃথিবীতে শান্তি রাখা যায় যার মূল্য অনেক ।

৬) সরলতা মানেই নির্বুদ্ধিতা

কাউকে দেখে সরল বা কারোর ব্যবহারে বেশ সহজতা মেশানো দেখে যদি আমরা মানুষটিকে বোকা বলে ভাবি তবে আমাদেরই সমস্যা , সবজান্তা ভাবি নিজেদের । প্রতি চিন্তা-ভাবনারই একটা আলাদা দিক আছে । কেউ যদি জীবনের ভালো দিক গুলো নিয়ে নিজেকে সহজ করে রাখতে পারে তবে তাকে কুর্নিশ জানানো উচিত , তার সমালোচনা না । আর বাইরের চেহারায় যা আপত সত্যি বলে মনে হয় , অনেক সময় ই তা হয়তো আসল নয় ।

৭) প্রেম-ভালোবাসা গল্পের বইয়ের

এটা কিছুটা হলেও সত্যি যে গল্পের বই পরে আমাদের মনকে খুব বেশি কল্পনা প্রবণ না করে তোলা প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে । কিন্তু তাবলে এগুলোর যে অস্তিত্বই নেই সে ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ থাকা উচিত না । সত্যি করে প্রেম হতে সময় লাগে , ধৈর্য্য ধরতে হয় কিন্তু যদি হয় তবে তা খুবই সুন্দর অনুভূতি । তবে সাথে সাথে এটা ও মনে রাখতে হবে যে এই দুনিয়ায় অনেক রকমের ভালোবাসা আছে । যার মধ্যে পরে বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্ক , আত্মীয় স্বজনদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক , গুরুজনদের সাথে শ্রদ্ধার সম্পর্ক ইত্যাদি । আর সব সম্পর্কই আমরা নষ্ট করে ফেলবো যদি না আমরা নিজেদের কর্তব্য নিয়ে সৎ থাকি । তখন নিজেকেও ভালোবাসতে পারবো যেটা খুব খুব গুরুত্বের ।

৮) অপমান শুধু মুখেই হয়

কাউকে কিছু রূঢ কথা বলে দেয়া যেমন বাজে , ঠিক তেমনি কাউকে স্পষ্টভাবে কিছু সত্যি কথা বলে দেয়াটাও কষ্টের । কিরকম ? যেমন একজন মোটা মানুষ জানে সে মোটা , একজন শান্ত -চুপচাপ থাকা মানুষ ও জানে সে ঠিক কেমন , এখন তাদেরকে যদি তুমি এইগুলো বলে খোঁচাও তবে তাদের অপমান হবে । আসলে তারা তাদের স্বভাব- চেহারা , এইসব তো রাতারাতি পাল্টাতে পারবে না । তারা হয়তো একটু অন্যরকম থেকে নিজেদের দুর্বলদিকটা সরিয়ে রাখছে , এক্ষেত্রে তাদেরকে সত্যি কথাটা বলে দেয়াটা কিছুটা অমানবিক । তাই নিজের ব্যবহার ও ঠিক রাখা দরকার ।

৯) মানুষ পাল্টায় না কোনোদিন

জন্মগতভাবে কেউ ই খুব ভালো বা মন্দ না , বরং মিশ্রণ থাকে । জীবনের পথে চলার সময় আমরা কেমন চিন্তা ভাবনা করছি , কেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটার মাধ্যমে এই ভালো-খারাপের দিকটা বেরিয়ে আসে । যারা কম ভুল করে থাকে তারাই সাধারণত ভালো হয়ে থাকে । এখন এই ব্যাপারটা মানুষ যত পরিণত হয় তত ঠিক করে । তাই সেক্ষেত্রে এটা একেবারেই ধরে নেয়া উচিত না যে কেউ পাল্টায় না । আবার কেউ যদি খুব চিৎকার-চেঁচামেচি করে বলে যে ” আমি পাল্টেছি ” সেটাও খুব বিশ্বাস না করে তার ব্যবহারকে লক্ষ্য করো ।

১০ ) দোষী মানুষদের ই নিজেদের নির্দোষ প্রমান করতে হবে

” বেনিফিট অফ ডাউট ” বলে ইংরেজিতে একটা কথা আছে যা খুব দামি আর সকলের জন্যই । অনেকসময় আমরা মানুষজনকে দোষী করে ফেলি যে দোষটা আসলে তারা করেই নি । ইতিহাস সাক্ষী , এইভাবেই মানুষকে বিনা বিচারে ডাইনি বানিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় । সাদা-কালোর দুনিয়ায় যারা খুব খারাপ কাজ করে তাদের ও অতীত হয়তো খুব কষ্টের । তাই নিজেদের বিচার বুদ্ধিকে একটু বুঝেশুনে প্রয়োগ করে ভালো ।

তাহলে এখন অন্তত আমরা এই উপসংহার করতে পারি যে আমাদের শুধু সমালোচক হলেই হবে না , আশাবাদী ও হতে হবে । তবে সবকিছুর ই বাড়াবাড়ি ভালো না কারণ খুব বেশি আশাবাদিতা আমাদের সচেতনতা কমিয়ে দেয় । আবার খুব বেশি সমালোচনা আমাদের অবুঝ করে দেয় এই ব্যাপারে যে খারাপের ও একটা ভালো দিক আছে যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে । তাই এস আমরা বাস্তববাদী হই ।

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply