way of living

পায়ের জন্য

এতদিন আমরা ক্লান্ত হয়ে পরলে বা খুব উত্তেজিত হয়ে পরলে “মাথা “ জিনিসটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছি । কিন্তু এখনকার নানা বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন , আসলে শরীরকে খুব তাড়াতাড়ি আরাম দিতে পারে “পা” , মাথা নয় । তাই দৈন্যদিন কাজের চাপ থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের উচিত ” পা ” বেশি গুরুত্ব দেয়া ।
প্রথমেই আমরা পায়ের যত্ন নিয়ে ভাবি ,পায়ের যত্ন যদি আমরা ঠিক ভাবে নিতে পারি তবে আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে , বেশ কিছু রোগ সহজেই নিরাময় হবে আর মন ও ফুরফুরে খাবে ।এর থেকেও আনন্দের কথা হলো বাড়িতে থাকা হাতের কাছের কিছু উপাদান নিয়েই পা কে বন্ধু করে নেয়া যায় ।কিভাবে সেটা সম্ভব সে বিষয়ে জানাচ্ছি , দেখো ……………………..

১) বিভিন্ন তাপমাত্রা

পা ডোবানোর জন্য দুটো জায়গা নাও , একটায় বেশ একটু গরম জল ভর্তি করো আর অন্যটায় ঠান্ডা জল । এবার ১০-১২ মিনিট প্রথমে গরম জলে পা ডুবিয়ে বস , পরে ১০ মিনিট ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে রাখো । শেষে আবার ৫ মিনিট গরম জলে পা ডুবিয়ে নাও । সপ্তাহে ৩-৪ দিন করলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবে ।

২) লেবু জল

অনেকেরই পা থেকে বেশ দুর্গন্ধ বের হয় , সারাদিন জুতো-মোজা পরে ঘাম বসে থাকা এর অন্যতম কারণ । এরজন্য গামলায় হালকা গরম জল ভরে তাতে একটা লেবুর রস, টি-ট্রি অয়েল ৪ ফোঁটা আর বেকিং সোডা ৩ চামচ গুলি নিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে আধ ঘন্টা বসে থাকো । লেবুর বদলে ভিনেগার বা আপেল সিডার ভিনেগার ও ব্যবহার করতে পারো ।

৩ ) ইউক্যালিপ্টাস তেল

স্পা তে গিয়ে পায়ের ম্যাসাজ করলে আমাদের যেমন স্ট্রেস মুক্ত লাগে আর আরাম লাগে ঠিক তেমন বাড়িতেও সহজেই পা কে সাথে নিজেকে চাঙ্গা করতে এইরকম করতে পারো – একটা গামলায় হালকা গরম জলে এপসম সল্ট আর ইউক্যালিপ্টাস তেল ১০-১২ ফোঁটা ভালো করে মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে থাকো ২০-৩০ মিনিট । মনের সব উত্তেজনা চলে গিয়ে বেশ আরাম পাবে ।

৪) হারবাল জল

সারাদিন এক নাগাড়ে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করে বাড়ি ফেরার পর নিজেকে যখন বেশ ক্লান্ত লাগে তখন পা কে এইরকম করে যত্ন নিয়ে দেখো – গামলায় হালকা গরম জলে এপসম সল্ট , ৩ চামচ বেকিং সোডা , ২ চামচ অলিভ তেল আর হাতের কাছে থাকা যে কোনো হার্বস যেমন পুদিনা বা মিন্ট, পার্সলে কিংবা রোজমেরি দিয়ে দাও আর তাতে পা ডুবিয়ে ৩০ মিনিট বসে থাকো । সমস্ত কান্তি দূর হয়ে যাবে আর পায়ের পাতার চামড়া ও ঝকঝকে হয়ে যাবে ।

৫) ল্যাভেন্ডার তেল

এই তেলের সুগন্ধেই মন চাঙ্গা হয়ে ওঠে আর সেই কথা খাটে পায়ের ক্ষেত্রেও । পায়ে যদি ব্যাথা হয় কিংবা কোনো মাসলে চোট লাগে তবে ল্যাভেন্ডার তেল খুব উপযুক্ত । গামলায় হালকা গরম জলে ১/২ কাপ এপসম সল্ট , ২ চামচ বেকিং সোডা আর ৬ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে তাতে ১৫ -৩০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে খুবই আরাম পাবে ।

পায়ের যত্ন নেবার কথা সাথে আরো কিছু সমস্যার সমাধান ও রয়েছে এই উপাদান গুলোর মধ্যেই । দেখে নিই কি সমস্যা আর আর কি সমাধান ………………………..

১) হলুদ নখ

পায়ে অনেক সময় ঘাম জমে জমে নখের রং হলুদ হয়ে যায় । এক্ষেত্রে লেবুর খোসা ঘষে নিলে হলদেটে ভাব কেটে যায় । লেবুর রস জলের মধ্যে গুলি পা ডুবিয়ে থাকলেও সমস্যা চলে যাবে ।

২) পা ফোলা

এক নাগাড়ে অনেক্ষন বসে বা দাঁড়িয়ে থেকে যদি পা ফলে তবে এপসম সল্ট খুব কাজ দেয় । সাথে এটি ২-৩ চামচ জলে গুলে পা ডুবিয়ে বসে থাকলে নিজের একাগ্রতা ও বাড়ে ।তবে বেশি ব্যবহারে চামড়া শুস্ক হয়ে যায় তাই পা মুছে ভালো করে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নেয়া দরকার ।

৩) পা ফাটা

পায়ের শুকনো চামড়া যদি তুলে ফেলতে চাও তবে বেকিং সোডা দারুন ওষুধ । হালকা গরম জলে ২-৩ চামচ বেকিং সোডা গুলে নিয়ে পা ডুবিয়ে ১৫-২০ মিনিট বসে থেকে পরে হালকা স্ক্যাব্বার দিয়ে ঘষে নিলেই পা থেকে শুকনো চামড়া উঠে যাবে । তবে এক্ষেত্রেও পা শুকনো হয়ে যেতে পারে তাই ময়শ্চারাইজার অবশ্যই লাগবে ।

৪) প্রায় সব রোগ

ভিনেগার বা আপেল সিডার ভিনেগার পায়ের সমস্ত রোগের ওষুধ । পায়ের দুর্গন্ধ দূর করে এতে থাকে আন্টি – ব্যাকটেরিয়াল উপাদান । সাথে পায়ের অন্য কোনো সমস্যাতেও এটি সহজেই কাজ দেয় । তবে শরীরের অন্য কোনো সমস্যার জন্য যদি পায়ে কোনো সমস্যা হয় তবে সেক্ষেত্রে এটি কাজ দেবে না । তখন ডাক্তার দেখানোই দরকার ।

এগুলোতো গেলো পায়ের ব্যাপারে নানা কথা । তবে পায়ের সমস্যার অন্যতম কারণ হলো জুতো । তাই জুতো পরার সময় বেশ কিছু সতর্কতা আমাদের পায়ের যত্ন নিতে সাহায্য করে । সেইরকম কিছু পা নিয়ে মাথাব্যথার কারণ হলো

১) সরুমুখের জুতো পরার সময় নিজের পায়ের আঙুলের তৃতীয় আর চতুর্থ আঙ্গুল দুটি টেপ দিয়ে বেঁধে নিলে চাপ কম লাগে ,জুতো পরে অস্বস্তি হয় না ।

২) নতুন জুতোর পরার আগে ফোস্কা হওয়া আটকাতে লিপ বাম ঘষে নাও পায়ের পাতায় যেখানে ফোস্কা পরে । দরকারে ভেসলিন ও ব্যবহার করতে পারো ।

৩) জুতো অনেক্ষন পরে থাকলে পায়ে ঘাম হয় আর তাতে অনেকসময় স্লিপিং ও হয় আর সেটা আটকাতে পায়ে একটু ড্ৰাই শ্যাম্পু ঘষে নাও ।

৪) ঘামযুক্ত পা ব্যাক্টেরিরিয়ার জন্ম দিতে আদর্শ জায়গা । তার জন্য জুতোর মধ্যে স্প্রে করো ভিনেগার আর জল সমান ভাবে মিশিয়ে ।

৫) যদি নতুন জুতো কিনতে যাও তবে সন্ধ্যের সময় যাও কারণ সারাদিনের ধকলে পা ফুলে থাকে আর এতে সঠিক মাপ নিতে পারবে । নাহলে অন্যসময় কেনা জুতোয় পা ফোলা নিয়ে সমস্যা হয় ।

৬) হিল জুতো কেনার সময় একটু জুতোর তলাটা বাঁকিয়ে দেখে নাও কতটা বাঁকে । নরম থাকলে কিনে নাও আর শক্ত হলে সারাদিন পরার পরে পায়ের ব্যাথা হওয়ার জন্য তৈরী থেকো ।

৭) হিল দেয়া জুতো এমন কিনো যা বেশ মজবুত থাকে মানে হিলটা যেন পায়ের সাথে বাঁধা থাকে অথবা অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকে ।

৮ ) সবথেকে ভালো হয় যদি আমরা অর্থোপেডিক সোলের জুতো কিনি তাতে পায়ের আরাম হয় ,চলার সময় শরীর ও ভালো সাপোর্ট পায় ।

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →