useful things

পরিধেয়

“পরিধেয়” শব্দটি বলতে আমরা বুঝি আমাদের পোশাক, অলংকার, জুতো এইসব আর কি যেগুলো আমাদের আরো সুন্দর দেখতে করে তোলে | আসলে আদিম জনজীবন থেকে এদের আবিষ্কার হয়েছে নানারকম পোকামাকড়ের কামড়ের হাত থেকে বাঁচতে , খারাপ আবওহায়া থেকে পরিত্রান পেতে | কিন্তু যতদিন গেছে তত এদের পরিবর্তন ঘটেছে আর তা হওয়ার কারণ হিসাবে যোগ হয়েছে ব্যক্তিত্ব , পেশা, জলবায়ু , সংস্কৃতি এমনকি জেন্ডার ও | তবে পোশাক-পরিচ্ছদে যতই পরিবর্তন ঘটতে থাকুক , প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটা জিনিষকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় তা হলো এর আরামপ্রিয়তা | কোন পোশাক পরে কতটা আরাম আর কোনটায় নয় তা দেখতে গিয়ে দেখা যাবে কোনো পোশাক হয়তো জন্মের মতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে আবার কোনোটা হয়তো অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষৎ প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয় | এইরকমই কতকগুলো জনপ্রিয় পোশাকের গল্প জানা যাক, হ্যাঁ , গল্প , কারণ প্রতিটি পোশাকের পিছনেই একটা করে সুন্দর গল্প থেকে থাকে | দেখা যাক –

হাই হীল বা উঁচু জুতো – মেয়েরাতো জুতো নিয়ে ফ্যাশন করতে গেলে দোকানে গিয়ে নানান ধরণের হীল জুতোরই খোঁজ করে কিন্তু অবাক হতে হয় জানলে যে এটা আসলে তৈরী হয়েছিল ছেলেদের জন্য | তৈরী করেওছিলো ছেলেরাই | ইতিহাসে জানা যায় যে পারস্যের ঘোড়সোয়াররা এই জুতো তৈরী করে নিজেদের সুবিধার্থে যাতে ঘোড়ায় চড়ার সময় যে পা-দান থাকে তাতে আরো সাপোর্ট পাওয়া যায় | এটা ছিল নবম শতাব্দীর ইতিহাস | তখন একে বলা হতো ” রাইডার্স হীল “, পরে ইউরোপের মেয়েরা প্রথম হীল জুতো পরা শুরু করে ১৬শো শতাব্দীতে | এখন তো নানা ধরণের পোশাকের সাথে নানান ধরণের হীল জুতো পরা হয় , তাদের নাম ও বিভিন্ন |

জিন্স আর ছোট্ট পকেট – জিন্স প্যান্ট প্রথম ব্যবহার শুরু করে গোপালকরা | আমেরিকার গোপালকদের ১৮০০ শতক থেকে জিন্স ব্যবহারের কথা জানা যায় | তারা এই প্যান্ট ব্যবহার করতো বনেজঙ্গলে ঘোরার সময় যাতে চট করে ছিঁড়ে না যায় তার জন্য | প্যান্টের উপরের দিকে একটা ছোট্ট পকেট রাখা থাকে, এখনো থাকে , আমরা হয়তো ভাবি ওটাও ফ্যাশন কিন্তু না , আসলে গোপালকরা ওটা ব্যবহার করতো পকেট ঘড়ি রাখতে | সেই সময় হাত ঘড়ি ব্যবহার হতো না তাই পকেটে ঘড়ি রাখতে হতো যাতে চলার সময় বা ঘোড়ায় চড়ে যাবার সময় তা পরে না যায় তার জন্য| ওই ছোট্ট পকেট আমরা হয়তো কখনো কখনো কয়েন রাখতে, টিকিট রাখতে ব্যবহার করেও থাকি |

জিন্স কাফ- জিন্স প্যান্ট সময়ের সাথে সাথে নরম আর আরো আরামদায়ক হতে থাকে | ১৮৭০ সালের এদিক-ওদিক সময়ে আরো একটা পরিবর্তন হয় | সুতি কাপড়ের তৈরী জিন্স প্যান্টের সমস্যা ছিল যে কাচতে কাচতে তার সাইজ ছোট হয়ে যায় | মানুষ ও বুদ্ধিমান , তারা এর উপায় হিসাবে করলো কি বড়ো সাইজের প্যান্ট কিনে তা নিচের দিক থেকে গুটিয়ে পরতে শুরু করলো | একে দেখে ও , ওকে দেখে সে এইভাবে ব্যাপারটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেলো | তার উপর আবার ওই প্যান্টের গোটানো জায়গাটায় ছেলেরা সিগারেট,ক্যান্ডি এমনি নানা কিছু লুকিয়ে রাখতে শুরু করলো | জন্মালো জিনসের একটা নতুন ধরণ, ” ক্যাফেড জিন্স “|

সাগ্গিং প্যান্ট – প্রায় ঝুলে পরা , বড়োসড়ো প্যান্ট , কাউকে পরতে দেখলে হয়তো মনে হবে এই বুঝি খুলে পরেই যাবে | এর ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক আছে | এর জন্ম সম্ভবত জেলে , তাও আবার আমেরিকার | লস এঞ্জেলসের জেলের কয়েদিদের এমনিতেই বড়ো পোশাক দেয়া হতো আর বেল্ট ও ব্যবহার করতে দেয়া হতো না তাতে তারা বিরক্ত হয়ে তারা প্যান্টগুলো নিচু করে পরা শুরু করলো |১৯৮০ সালের সময়ের ঘটনা | কিন্তু এই প্যান্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আরো দশ বছর পর যখন আমেরিকায় হিপি সংস্কৃতির আমদানি হয় | সাথে আসে হিপ-হপ নাচ আর তারা এই প্যান্ট পরা শুরু করে যাতে তাদের স্বাধীনতা-প্রিয় মনের ভাব সকলে বুঝতে পারে | জীবনযাত্রার গোঁড়া নীতিবোধ থেকে তারা সমাজকে মুক্ত হতে শেখায় |

টি-শার্ট – ১৯ শতকে মার্কিন নেভি সৈন্যরা প্রথম ব্যবহার শুরু করে এই পোশাকটির | স্প্যানিশ-আমেরিকার যুদ্ধের সময় জামার তলায় তারা পরতে থাকে | ১৯০৪ সালে একটা কোম্পানি নাম, ” কুপার আন্ডারওয়ার কোম্পানি ” বাজারে আনে সাধারণ মানুষদের ব্যবহারের জন্য বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের জন্য |এমনকি তখন এই পোশাকটি জনপ্রিয় করতে তারা একটা ট্যাগলাইন ও দিয়েছিলো যেটা মনে রাখার মতো , ” নো বাটন, নো সেফটিপিন , নো নিডল , নো থ্রেড ” মানে সাদা বাংলায় বলা চলে পোশাকটি পরা শুরু করলে বোতাম,সেফটিপিন,ছুঁচ-সুতো কেনার খরচ আর সেসব নিয়ে ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবে |

সোয়েট শার্ট – এই শার্ট সাধারণত ব্যবহার করে খেলোয়াড়রা | অনেকসময় এক্সারসাইজ করার সময় ও মানুষ এই পোশাকটি পরতে পছন্দ করে | গোল গলা আর গলার নিচে বেশ মোটা মতো ত্রিভুজ আকারের সেলাই করা থাকে স্পঞ্জ দিয়ে | আসলে পরিশ্রমের পর যে ঘাম হয় তা গলা দিয়ে নেমে যাতে ওই জায়গায় শোষিত হয়ে যায় তাই এই ব্যবস্থা | তাছাড়া এই ” ভি সেলাই ” টি পোশাকটি মাথা গলিয়ে পরার সময় সম্প্রসারণে সাহায্য করে |

পোলো কলার- ” বাটন-ডাউন কলার ” ও নাম এর | ১৯ শতকে পোলো খেলোয়াড়দের সুন্দর করে জামা পরতে হতো | কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে খেলার সময় জামার কলার যেত উল্টে | এতে তাদের অস্বস্তি হতো আর খেলার প্রতি মনোযোগ কম হয়ে যেত | তাই জামার কলারে বোতাম লাগিয়ে সেটাকে উল্টে যাওয়া থেকে আটকানো শুরু করা হয় | আর তাতে এই নাম দেয়া হয় | আজকাল অফিসের পোশাক হিসাবেও এই ধরণের জামাই পরা হয় |

জামার বোতাম ডাইনে-বাঁয়ে – লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ছেলেদের জামার বোতামগুলো থাকে ডানদিকে আর মেয়েদের বোতামগুলো থাকে বামদিকে | এর কারণ যে ঠিক কি তেমন জানা যায় না তবে মেয়েদের নানারকমের পোশাক পরা শুরু হয় ইউরোপ এ ভিক্টোরিয়ান এইজ থেকে | এই সময় শার্ট পরতো সমাজের উচ্চ বংশীয় মেয়েরা আর তাদের পোশাক পরানোর জন্য থাকতো চাকরানিরা | ডানহাতি চাকরানিদের সুবিধার জন্যই মেয়েদের শার্টের বোতাম বামদিকে করা হয়ে থাকে আর পরে এটাই নিয়ম হয়ে যায় |

সোর্স : গুগুল

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →