kids

প্রিটেন্ড প্লে

ছোট্ট বাচ্ছাদের বইয়ের পাতা খুললেই চোখে পরবে নানা বেবি এনিমালের ছবি , নানা কুকুর ছানার মুখ বিয়ারের মুখ আরো কত কি | কখনো ভেবে দেখেছেন কি কারণ কি ? বাছাদের আধো -আধো কথায় নানা জীব-জন্তু-পাখির নাম শুনতে বেশ মিষ্টি লাগে | আর লক্ষ্য করে দেখবেন , তারা অনেক আবেগ নিয়ে , ভালোবাসা নিয়ে নামগুলো উচ্চারণ করছে | আসলে খুব সহজেই দয়া, ভালোবাসা , যত্ন , বাচ্ছাদের এইসব অনুভূতিগুলো বিকশিত হয় যখন তারা কোনো আনিমালের কাছাকাছি থাকে | তাই এই গুণগুলো শেখাতে আমরা যদি ” প্রিটেন্ড প্লে ” করি তবে মজার সাথে সাথে সেটা শিক্ষণীয় ও হয়ে উঠবে |

এর জন্য লাগবে নানা এনিমালের কিছু সফ্ট টয় , কিছু ব্যান্ডেজ , স্টেথিস্কপ্ আর একটা ল্যাব কোট | বাচ্ছারা ডাক্তার হয়ে আহত আর অসুস্থ জীবজন্তুর চিকিৎসা করবে এই হবে ” প্লে ” | বাচ্ছারা জেনে যাবে যে আমাদের মতোই আনিমালরাও অসুস্থ হয় , তাদের ও নানা প্রয়োজন আছে আর আমরা , মানুষরাই একমাত্র সেইসব প্রয়োজনের খেয়াল রাখতে পারি |

এই ধরণের খেলার মাধ্যমে বাচ্ছারা আরো কল্পনা প্রবন হয়ে উঠবে | রোজকার দিনে যে নানা সম্পর্ক তারা দেখে থাকে , সেগুলোর ব্যাপারেও যত্নশীল হয়ে উঠবে |বন্ধুদের সাথে কমুনিকেশন বাড়বে , বাড়বে সহযোগিতা করার অভ্যাস ও | এগুলোতো গেলো ” সোশ্যাল -ইমোশনাল ” দিক | এর সাথে সাথে যেটা গড়ে উঠবে তাহলো ,” এক্সিকিউটিভ -ফাঙ্কশন ” স্কিল , যার অন্যতম হলো ” সেলফ-রেগুলেশন ” |সব বাচ্ছারা মিলে একসাথে যখন নাটকের প্র্যাক্টিস করে তখন তাদের মধ্যে নিজেদের আবেগ, ঝোঁক গুলোকে কট্রোল করে রাখার অভ্যাস ও তৈরী হয় |

তবে শুধু মাত্র স্কুলে না , বাড়িতেও বাচ্ছারা এই ধরণের খেলা খেলতেই পারে | আর যদি বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে খেলে তো আরোই মজা | সেরকম ই কিছু আইডিয়া দিলাম , সাথে সাথে এটাও জানালাম যে বাচ্ছাদের একেবারে একা ছেড়ে দেবেন না ,নিজেও তত্ববধান করতে থাকুন কোনো বিপদ থেকে বাঁচতে ..

১) কার্ডবোর্ড বাক্স – একটা বড়ো বাক্স কে কেটে একটা ছোট জাহাজের মতো বানিয়ে দিন | আর বাচ্ছাকে বলুন সে ওই জাহাজের নাবিক | ছোট্ট ক্যাপ্টেনকে কথায় কথায় কল্পনা করতে সাহায্য করুন যে সে সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে ভেসে কোনো আইল্যান্ডে চলে গেছে | সেখানে গিয়ে নানা জীবজন্তুদের দেখতে পেয়েছে | এবার সেরকম ই কিছু বাচ্ছা প্রাণী সে জাহাজে চাপিয়ে আবার ফিরে আসছে | এই ধরণের খেলা খেলতে খেলতে দেখুন আপনার বাচ্ছা কেমন এডভেঞ্চার প্রিয় হয়ে উঠেছে |

২) বিছানার চাদর – কতকগুলো আসবাবপত্র জড়ো করুন যেমন চেয়ার , টেবিল এইসব | এরপর এদের উপর বিছানার চাদর ঢেকে দিয়ে নিচের জায়গাটাকে বেশ অন্ধকারময় করে দিন | কিছু ছোট্ট ছোট্ট আনিমাল লুকিয়ে রাখুন এখানে | বাচ্ছাকে বলুন এই জায়গাটা একটা গুহা , এখানে অনেক প্রাণী লুকিয়ে থাকে আর সেগুলো তাকেই খুঁজে বের করতে হবে | তার হাতে ধরিয়ে দিন একটা টর্চ লাইট | এই ধরণের খেলা বাচ্ছাকে সাহসী করে তুলবে |

৩) খালি প্লাস্টিকের বোতল – বিজ্ঞান মানেই আবিষ্কার আর বাচ্ছারা নিত্য-নতুন আবিষ্কার করতে পারলে বেশ খুশি ই থাকে | আমাদের কাছে থাকা না ব্যবহার করা কিছু প্লাস্টিকের বোতল খুদে বিজ্ঞানীর হাতে ধরিয়ে দিন | তারা সেগুলো টেলিস্কোপ হিসাবেও ব্যবহার করতে পারে | এরপর বাড়িতে জল ভরার কোনো বড়ো জায়গা থাকলে তাতে জল ভরে নানা নুড়ি পাথর, বাবল এইসব দিয়ে ভর্তি করে দিতে পারেন | এখন সেই বিজ্ঞানীকে বলুন টেলিস্কোপ দিয়ে কি কি দেখছে তা বলতে | তারা অজানাকে জানার আগ্রহ কেমন বেড়ে যাবে দেখুন |

৪) লাঠি – বাচ্ছাদের হাতে লাঠি থাকলে তা কখনো তলোয়ার হয়ে ওঠে আবার কখনো হাঁটার সাহায্যকারী হয়ে ওঠে | কাছাকাছি কোনো পার্ক থাকলে তাকে নিয়ে যান আর হাতে একটা লাঠি দিয়ে ছেড়ে দিন | দেখতে থাকুন তার কল্পনা শক্তি কেমন রাঙিয়ে উঠছে , সঙ্গে আপনিও কিছু সাথ দিন |

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →