kids

শেখান কৃতজ্ঞতা

খুব ছোট থেকেই যদি আমরা এই “কৃতজ্ঞতা” নামের ভারী অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়ে যাই তবে বাচ্চারা অন্যদের প্রতি খুবই দরদী হয়ে উঠবে | বাচ্ছাদের নরম মন কৃতজ্ঞতায় ভরা থাকলে তারা অন্যের প্রতি আরো সহানুভূতিশীল হবে যা তাদের জীবনে পরবর্তীকালে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে | ভাগ্যক্রমে এই কৃতজ্ঞতাবোধ শেখানো খুব একটা শক্ত কাজ নয় , বাবা-মা, গুরুজনেরা একটু চেষ্টা করলেই বাচ্ছাকে এই ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে পারেন | তার মধ্যে কিছু উপায় সহজেই করে নিতে পারেন , যেমন….

১) ব্যবহার- ভালো ব্যবহার সর্বদা কৃতজ্ঞতা বোধ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে | ” থ্যাংক ইউ “, ” ধন্যবাদ” বলার অভ্যাস গুলো ছোট থেকেই করে দিতে পারলে ভালো | তাদের শেখান যেন মন থেকে তারা ” থ্যাংক ইউ ” দেয় শুধুমাত্র উপর উপর না | নিজেও উদাহরণ হয়ে উঠুন | বাছা যদি কোনো ভালো চিন্তা করে ,কারোর ছোট করে যত্ন নেয়, দেখভাল করে তবে অবশ্যই “ধন্যবাদ” দিয়ে তার মধ্যে উদারতা বোধ জাগিয়ে তুলুন | বড়ো হয়ে সত্যি করেই তারা তখন আরো দয়াবান হয়ে উঠবে |

২) দৈনিক রুটিন- কোনো কাজ শুধু একদিন করে ছেড়ে দিলে তার প্রভাব কম হয় , তাই ভালো জিনিস মনে গেঁথে দিতে একটা রুটিন করে নিয়ে চলা খুব দরকার | তাই কৃতজ্ঞতাবোধ শেখাতে একসাথে পরিবারের সবাই যখন আছে,তার থেকে ভালো সময় হয় না আর সেই সময় হলো রাতের খাবার টেবিল | বড়োরা , বাচ্ছাদের সামনে বলতে থাকুন সারাদিন কি কি ভালো জিনিস আপনার জিবনে হয়েছে আর সেগুলোর জন্য আপনি কার কার কাছে কৃতজ্ঞ | প্রতিদিন এইভাবে করতে থাকলে দু-তিন মাসের মধ্যেই বাচ্চার পরিবর্তন চোখে পরবে|

৩) বস্তু না অবস্তু- বাস্তব জীবনে আমরা সবাই কম-বেশি বস্তুবাদী কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায় আর আপনার বাচ্চার উপর তার নেগেটিভ প্রভাব না পরে তারজন্য আপনাকেই খেয়াল রাখতে হবে | ধরুন আপনি বাচ্চার কাছে জানতে চাইলেন যে সে কি ভালোবাসে ? উত্তরে সে হয়তো কোনো গেম , খেলনা কিংবা জুতোর কথা বললো | সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাজ হলো তার এই চিন্তাভাবনার পজিটিভ পরিবর্তন ঘটানো | আপনাকে তখন বাচ্ছাকে সচেতন করতে বলতে হবে কে , কেন সেই জিনিষটা তাকে কিনে দিয়েছে | সেটা কোনো বন্ধু হতেও পারে , আবার দাদু-দিদাও হতে পারে | বলতে হবে ” দেখেছো ওই জন কত ভালো, তোমাকে কত ভালোবাসে বলে ওই জিনিষটা তোমাকে দিয়েছে “, এইভাবে তার মনের মধ্যে সত্যিকারের কৃতজ্ঞতাবোধ জাগিয়ে দিতে হবে | আসলে দিনের শেষে বাচ্চা সেই মূল্যবান মনটাকে নিয়েই ঘুমাতে যাবে, তাই না ?

৪ )অংশগ্রহণ করা- বাচ্চা খাবার খেতে চাইছে না , বেশিরভাগ সময়েই অসাবধানে জামা-কাপড়ে দাগ লাগাচ্ছে , উপায় হিসাবে তাদের মাঝে মাঝেই ঘরের কাজকর্মে অংশ নিতে চেষ্টা করান | রান্না ঘরে মাকে কত কষ্ট করে তার জন্য রান্না করতে হয়ে সেটা তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বোঝাতে থাকুন | দরকারে জামা-কাপড় কাচানোর ও চেষ্টা করুন | দেখুন কিছু দিনের মধ্যেই বুঝে যাবে তার যত্ন নেয়ার পিছনে বাবা-মাকে কত পরিশ্রম করতে হয় আর তখন সে সহজেই কৃতজ্ঞ হয়ে উঠবে আপনাদের প্রতি আর কাজগুলোর প্রতি ও |

৫ ) প্রতিদান করা- ছোট থেকেই বাচ্ছাদের ” পিগি ব্যাঙ্ক ” করে দিন , এতে তারা সঞ্চয় করতে শিখবে | আবার মাঝে মাঝে তাদের সেই সঞ্চিত অর্থ থেকে কারোর জন্য কিছু কিনে দিতে বলুন উপহার হিসাবে | হয়তো রাস্তার ধারে কোনো ভিখারিকে কিনে দিলো একটা টুথব্রাশ , কোনো বাচ্চা ভিখারিকে এক বাক্স ক্রেয়ণ | এতে তারা সহজেই বুঝতে পারবে যে শুধু উপহার পাওয়া নয় , দেয়াটাও অনেক আনন্দের | পরে উপহার পাবার পর তাদের মনে কৃতজ্ঞতা বোধ আরো শক্ত-পোক্ত হয়ে উঠবে |

Tagged , , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →