knowledge

শিক্ষার্থীর খাওয়া

বিশ্বের সব দেশে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের যে ধরণের খাবার দেয়া হয় তা সব সময় এক হয় না | এর কিছুটা নির্ভর করে সেই দেশের খাদ্যাভ্যাসের জন্য আবার কিছুটা নির্ভর করে সেখানে কি ধরণের খাদ্যের যোগান রয়েছে তার উপর | স্কুল গুলি যে সব সময় নিজেরাই লাঞ্চ দেয় তা নয় , অনেক স্কুল খাবারের চার্ট বানিয়ে দেয় যা খেলে শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ভালো হয়ে উঠবে আর সাথে মন ও | তবে রিসার্চে জানা গেছে সব স্কুলেই জনপ্রিয় খাবার হলো ভাত, আলু আর স্যালাড | দুধ আর ফলের রস ও পানীয় হিসাবে এগিয়ে থাকে সব সময় | এবার জানা যাক কোন দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা কি ধরণের খাবার খায় …

জাপান – খুবই স্বাস্থ্য সচেতন এখানের স্কুলে স্টুডেন্টরা পছন্দ করে গরম স্যুপ, মাছ কিংবা চিকেন সেদ্ধ , ভাত , স্যালাড আর দুধ | হাই স্কুল যাবার আগে পর্যন্ত স্টুডেন্টরা নিজেদের খাবার স্কুলে আন্তে পারে না | এমনকি ভেন্ডিং মেশিন থেকে নিয়ে তারা ক্যান্টিনেও খেতে পারে না , তাদের খেতে হয় ক্লাস রুমে বসে | সাদা জ্যাকেট পরে লাঞ্চ বাক্স নিয়ে তাদের নিজের ডেস্কে বসে খেতে হয় |

ইংল্যান্ড- ভাজা আলু , গাজর, রাইস পুডিং, চকোলেট ওফেল , স্যালাড আর নানা ধরণের ফল থাকে তাদের লাঞ্চবক্সে | তবে এই দেশে খাবারের দাম বেশি তাই অনেক সময় ফাস্ট ফুড ও দেয় অনেক স্কুল তাদের বাজেট অনুযায়ী |

সাউথ কোরিয়া- বিশ্বের মধ্যে সবথেকে ভালোভাবে স্টুডেন্টদের খাবার দেবার ব্যাপারে এই দেশ এগিয়ে | তাদের দেয়া খাবারের মধ্যে দুটি ভাগ বেশি থাকে , স্যুপ আর ভাত | এই দুটির সাথে স্যালাড, সিফুড, সবজি আর ফল | বাচ্ছাদের আবার এক চামচ মাপের ” ফিশ অয়েল ” ও খাওয়ানো হয় | জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো অক্টোপাস, কুমড়ো আর আলুর সূপ , পেঁয়াজ কলি দিয়ে প্যানকেক, হানি সস আর তিলের বীজ দিয়ে ভাত , শসা আর গাজরের স্যালাড |

আমেরিকা- এখানে প্রতিটি রাজ্যে বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায় ভেন্ডিং মেশিন থেকে | পেরেন্টসরা বাড়ি থেকেও খাবার দিতে পারে আবার দরকার পড়লে ভেন্ডিং মেশিন থেকেও খাবার কিনে খেতে পারে | ফল, চিকেন, পিজা, স্যালাড , কর্ন এইসব খুবই কমন স্কুলের খাবার হিসাবে | তবে স্টুডেন্টসরা বেশির ভাগ সময় ফাস্ট ফুড ই পছন্দ করে , নাগেটস, বার্গার , ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তাদের মধ্যে অন্যতম |

তুর্কি – এখানে সাধারণত বাড়ি থেকেই বাচ্ছারা নিজেদের লাঞ্চবক্স নিয়ে আসে | রাই ব্রেড, গ্রেপ, ওয়ালনাট, আপেল, বেদনা , দুধ এই ধরণের খাদ্য যেগুলো মস্তিষ্কের কার্য্য করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় সেই সব থাকে বক্সে |

ফ্রান্স- মাছ, পালং শাক, আলু সেদ্ধ, চীজ, ব্রেড এইসব থাকে খাদ্য তালিকায় | লাঞ্চের খাবারটাকে প্রধান খাবার হিসাবে দেখা হয় এখানে তাই স্কুলে থাকে ২ ঘন্টার বিরতি সেই সময় | স্টুডেন্টরা অনেক সময় বাড়ি গিয়েও খাবার খেয়ে আসে এই সময় |

ফিনল্যাণ্ড- এই দেশে ছাত্র-ছাত্রীদের খাবারের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় | প্রতিজনকেই স্কুল থেকে সকালে আর বিকালে স্নক্স দেয়া হয় আর লাঞ্চ তো আছেই| স্টুডেন্টরা ক্যান্টিনে বসে লাঞ্চ খায় নিজেদের পছন্দ সই খাবারের পদ নিয়ে | স্টুডেন্টদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সেখানে স্কুলে বেশি করে যে গুলি দেয়া হয় তা হলো মিটবল আর সস , স্যুপ ,মুসেলি , স্যালাড আর আলু |

রাশিয়া- রাশিয়ার স্কুলে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত খাবার ফ্রি থাকে কিন্তু তারপর দেরি করলে তখন কিনে খেতে হয় | তাই এই ধরণের খাবারকে লাঞ্চ আর ব্রেকফাস্ট মিলিয়ে ” ব্রাঞ্চ ” বলা যেতে পারে আর এতে সাধারণত থাকে চা, গমের তৈরী কোনো ডিশ আর সসেজ |

হাঙ্গেরি – এখানেও স্টুডেন্টদের বেশ ই বড়োসড়ো লাঞ্চ দেয়া হয় | নুডল স্যুপ , বেকড বিন উইথ চিকেন আর নানা ধরণের বাদাম , এগুলি অনেকটা পরিমানে থাকে |

ইজরায়েল – এখানেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য লাঞ্চের ব্যবস্থা বেশ সুন্দর | জনপ্রিয় খাবার হলো ফল, গ্যানোলা বার, ফ্লাট ব্রেড স্যান্ডউইচ আর মিষ্টি |

থাইল্যান্ড- এখানে সুইট এন্ড সাওর সসে রান্না করা চিকেন, মাছ আর পর্ক খুবই লোভনীয় খাদ্য স্টুডেন্টদের কাছে | সাথে থাকে ভাত কলাপাতায় মোরা ভাতের পায়েস |

ইন্ডিয়া – এখানে ” মিডডে মিল ” হিসাবে রান্না করা খাবার স্টুডেন্টদের দেয়া হয় বিশেষত যেখানে নিম্নবিত্ত মানুষদের বাস সেখানে | খিচুড়ি, ভাত , ডিমের ঝোল , ইডলি, রুটি এই ধরণের নানান খাবার থাকে রাজ্য অনুযায়ী | তবে শহরের স্কুলে বাচ্ছারা নিজেদের মতো করে টিফিন নিয়ে আসে থেকে বাড়ি থেকে |

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →