my experience

স্মৃতিগুলো

আমরা যখন বড়ো হয়ে যাই প্রায় ই একটা কথা ভুলে যাই যে ছোটবেলায় কত ছোট ছোট জিনিসে আমরা খুশি হয়ে যেতাম । কিন্তু বেড়ে ওঠার গুঁতোয় এই ছোট জিনিস গুলো ভুলতে বসি , ভুলে যাই আমরাও কত সৃজনশীল ছিলাম আনন্দ তৈরিতে । আমিও এসব বলতাম না , যদি না একটা সাত মিনিটের ছোট্ট মুভি আমাকে মনে করিয়ে দিতো ।

ছোট এনিমেটেড মুভি ” আলাইক” একটু ছোটবেলার অলীক স্বপ্নগুলো নিয়েই জাল বুনেছে । পুরো মুভিতে কোনো কথা নেই কিন্তু বার্তায় ভরপুর আর এতেই জিতে নিয়েছে অনেক পুরস্কার । মুভিতে আসলে যেটা দেখিয়েছে সেটা হলো বাচ্ছাদের যখন শেখানো হয় যে সৃষ্টিশীল কাজ না করে গতানুগতিক জীবনকে মেনে নাও , তখন তাদের কি হয় ।

আসলে আমাদের শেখানো উচিত জীবনের প্রতি কাজে কেমন করে সৃজনশীলতার প্রকাশ করা যায় । মুভিটিতে চরিত্রগুলোর মুড্ বা মনের অবস্থা বোঝানো হয়েছে রং দিয়ে । যে যত বিবর্ণ সে তত অসুখী আর এর পিছনে আধুনিক সভ্যতার কেমন হাত রয়েছে সেটাও দেখানো হয়েছে ।

তবে এটাও শেখানো হয়েছে যে কেমন করে আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারি । ছোট ঘটনায় খুশি হয়ে , অন্তত কিছুটা সময়ের জন্য ও নিজেকে শিশুসুলভ রেখে নিজেদের রং পরিবর্তন করে নিতে পারি । এই জন্য নানা জনের কাছে শোনা তাদের ছোট বেলার কিছু গুপ্ত কথা রইলো তোমাদের জন্য , দেখতো মজা পাও কি না ।

# ছুটি-ছুটি

ছুটিতে একবার দাদু-দিদার কাছে বেড়াতে গিয়েছিলাম । এমনিতে তো কুকুর-বেড়াল নিয়ে খেলতাম কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রথম একজনের বাড়িতে লেখা দেখলাম , ” কুকুর হইতে সাবধান ” । কারণটা প্রথমে না বুঝতে পারলে ও দাদুকে জিজ্ঞাসা করায় বুঝিয়ে বললো । পরে ঐসময় কোনো কারণে দাদুর সাথে ঝগড়া হওয়ায় দরোজার সামনে লিখে দিয়েছিলাম , ” দাদু হইতে সাবধান ।”

# পুতুল 

একবার আমার এক বন্ধু ছোট্ট পুতুল বেবি নিয়ে আমাদের বাড়ি খেলতে এসেছিলো । পুতুলটি এতো সুন্দর ছিল যে প্রায় সকলেরই ভালো লেগেছিলো । আমি তো ছাড়তেই চাইছিলাম না পরে তার সাথে টানাটানিতে পুতুলটি ছিঁড়ে যায় আর বন্ধুটি খুব কাঁদতে থাকে । আমার ও মন খারাপ হয়ে যায় । জন্মদিনের সময় নিজের জন্যও উপহার না কিনে , মা-বাবাকে বলে ঠিক ওই রকমই একটি পুতুল কিনে সেই বন্ধুকে রিটার্ন গিফট দিই । তখন তার সেই আনন্দ আমার চোখে এখনো ভাসে । পরে অবশ্য মা-বাবা আমাকে পছন্দমতো উপহার কিনে দিয়েছিলো আর খুব ভালোবেসেছিলো ।

#উইল

মৃত্যু সম্পর্কে তেমন কোনো চিন্তাই ছিল না আমার আট বছর বয়স পর্যন্ত । ঠাকুমার মৃত্যু অনেককিছু জানিয়ে দেয় , জানিয়ে দেয় উইল বলে একটা বিষয় আছে । একদিন খাতা-পেন্সিল নিয়ে অপটু হাতে সেইসময় নিজের কাছে থাকা যাবতীয় সম্পত্তি , পেন্সিল বাক্স , ড্রইং বুক , স্টোরি বুক সব একে একে লিখে , কাকে কোনটা দিতে হবে সেটাও জানিয়ে নিজের নাম লিখে উইল বানিয়েছিলাম ।মজার কথা , যাদেরকে সেইসময় ওই জিনিসগুলো স্পর্শ করতে দিতাম না ঠিক তাদেরকেই উইলে ওই সম্পত্তি সব দান করেছিলাম । বাড়ির সকলের এতো মজা লেগেছিলো যে সেটা বাঁধিয়ে বসার জায়গায় রেখে দিয়েছিলো ।

#রোমান্টিক

কিন্ডারগার্টেনে খেলতে খেলতে একটা বাচ্ছা ছেলে , আমারি ক্লাসের , আমার হাত ধরে ” আই লাভ ইউ ” বলেছিলো , গালে ছোট কিস ও করেছিল । জানিনা তখন সে কোথায় শিখেছিল কিন্তু আমি এর মানে জানতাম না তখন । তবে দৃশ্যটা এখনো মনে আছে , ছেলেটার জামার রং ও মনে আছে । এর থেকে রোমান্টিক কিছু এখনো পর্যন্ত আমার জীবনে আর কিছু হয়নি ।

#মেয়ে না ছেলে

ছোটবেলায় বেশ গোলগাল দেখতে ছিলাম , হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ছেলে বলতো । এতে আমার বেশ রাগ হতো , কি করবো খুঁজে পেতাম না । এমনি , একদিন ঠাম্মির সাথে আর এক ঠাম্মির বাড়িতে গেছি , তিনিও যথারীতি বলতে থাকেন , ” নাতি তো বেশ হয়েছে ” এইসব । আমার মাথায় উপায় বের হলো কারণ আমি তখন নতুন জেনেছিলাম যে ছেলে আর মেয়ে কি করে বোঝা যায় । তাই প্যান্ট নামিয়ে চেঁচিয়ে বলতে থাকি , আমি নাতি না ।

#মেসেজ

বন্ধুর বাড়ির পাশেই ছিল আমার বাড়ি , তবে বালকনিগুলো একটু দূরে ছিল । ছোটবেলায় একটা নতুন খেলা বের করেছিলাম , তা হলো মেসেজ পাঠানো । একটা দড়ি ঝুলিয়ে রেখেছিলাম দুই রেলিঙে , এরপর একটা চিরকুটে বার্তা লিখে ওই দড়ি ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে অন্য প্রান্তে পাঠানোই ছিল মেসেজ পাঠানোর আনন্দ । মেসেজটা যে যাচ্ছে সেটা দেখতে পাওয়াই খুব ভাগ্যের বলে মনে হতো । সকালে উঠেই শুরু হতো ছুটির দিন , ” গুড মর্নিং ” বলে ।

#মেট্রো

মাটির নিচ দিয়ে চলা মেট্রো রেল যখন প্রথম দেখি ছোটবেলায় , এতটাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম যে খেতেও ভুলে গিয়েছিলাম । পরে মাঠে খেলতে গিয়ে যখন বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম , এক দাদা আমাকে গম্ভীর ভাবে বলে যে মাঠের মধ্যে গর্ত খুঁড়তে থাকলে মেট্রো রেল দেখা যাবে , ওর নিচ দিয়েই নাকি গেছে । আমিও উৎসাহী হয়ে খুঁড়তে থাকি, মা এসে হাত ধরে টানতে থাকলেও আমি যাচ্ছিলাম না কিছুতেই , শুধু মেট্রো রেল দেখতে পাবার লোভে ।

#স্ট্যাচু

পার্কে গিয়ে একটা মূর্তি দেখি যার মুখ দিয়ে জল বের হয় , দারুন মজা লেগেছিলো । বাড়িতে এসে মুখে জল ভরে বিশেষ করে স্নানের সময় কতবার যে সেই স্ট্যাচুর মতো হবার চেষ্টা করেছি , গোনা যাবে না । এমনকি যখন সবাই বলতো যে বড়ো হয়ে শিক্ষক হবে , ডাক্তার হবে তখন আমি বলতাম স্ট্যাচু হবো ।

#ছাপ

বাড়ির মেঝে যখন রং করা হয় , আমি তখন না জেনেই তার উপর দিয়ে হেঁটে চলে গেছি আর পায়ের ছাপ পরে গিয়েছিলো । মা-বাবা আর ইচ্ছা করেই তার উপর রং করায় নি । এখন এই ছোট্ট ছাপ দেখতে আমার ও মজা লাগে …………

কেমন লাগলো ছোটবেলা ? তোমাদের ও নিশ্চয় এমন সব ঘটনা আছে , পারলে জানিয়ো । আর ” আলাইক” মুভির লিংকটা ও রইলো তোমাদের জন্য……………………

https://vimeo.com/194276412

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply