my experience

সোশ্যাল মিডিয়া

আমরা এখন যত না সামাজিকভাবে সোশ্যাল তার থেকে অনেক বেশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে । অনেকের এর উপর এতো অনুরাগ যে বাকি সমস্ত দুনিয়া ভুলে এতেই ডুবে থাকে আবার এমন কেউ ও আছে যে নামটা শুনলেই নাক সিঁটকায় । কিন্তু আসলে আমরা প্রায় সবাই ই ইন্টারনেটের কব্জায় এসে গেছি তা সে যে ভাবেই হোক না কেন । এর মাধ্যমে কেউ কাগজ পড়ছে , প্রতি মিনিটের আপডেট চাই আবার কেউ নিজের ফটোতে কটা লাইক পড়লো তাই গুনে চলেছে । তবে জানো কি , দুনিয়ায় এই ইন্টারনেটের মধ্য দিয়ে আরো কি কি ঘটনা ঘটে চলেছে , যা শুনতে ছোট্ট কিন্তু প্রভাব খুব । চলো এইরকম কিছু চমকদার গল্প তোমাদের ও জানাই……………………….

১) একটি কুকুর

একটি কুকুর , নাম ডেইজি , তার মালিক ইন্টারনেট এ জানায় যে কুকুরটির সাতটি বাচ্চা আগুনে পুড়ে মারা যায় আর তার পর থেকে ডেইজি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে । খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই , একজন যার কাছে ৮ টি অনাথ কুকুরের বাচ্চা ছিলো সে যোগাযোগ করে আর ডেইজিকে দিয়ে যায় । ডেইজি ও দুঃখ ভুলে তাদের নিজের বাচ্চার মতোই যত্ন নিতে থাকে যদিও বাচ্ছাগুলি দেখতে একেবারেই অন্যরকম ।

২ ) ডোনাট চাই

টেক্সাসে একজন নতুন দোকান দেয় শুধুমাত্র ডোনাট বিক্রি করতে , আর তার শখ ও হলো নানা রকমের ডোনাট বানানো । কিন্তু , দোকানে খদ্দের হচ্ছিলো ই না । তখন তাঁর ছেলে , বাবাকে নিয়ে লেখে আর তার দোকান না চলায় দুঃখী মুখের ছবি সহ টুইটার এ পোস্ট করে , ৭৫০,০০০ লাইক পায় । এরপর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি , ” বিলিস ডোনাট ” শপে এখন লম্বা লাইন থাকে ।

৩) ইনস্টাগ্রাম ফটো

ইনস্টাগ্রামে একটা ফটোতে দেখা যায় এক বাবা তার কোলে ছোট শিশুকে নিয়ে , বেশ কষ্ট করে ডায়পার পাল্টাচ্ছে কারণ ছেলেদের বাথরুমে ডায়পার পাল্টানোর টেবিল নেই । হয়তো অনেক সিঙ্গেল বাবাকেই এই অসুবিধায় পরতে হতো । যাই হোক , এই ফটো পোস্ট পাম্পার কোম্পানির চোখে পরে আর তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে আমেরিকার প্রায় ৫০০০ টি ছেলেদের বাথরুমে ডায়পার পাল্টানোর টেবিল লাগায় ।

৪ )অপেরা গায়ক

মেনজি মঙ্গমা , সাউথ আফ্রিকার এক ট্যাক্সি ড্রাইভার , এক যাত্রীকে নিয়ে যেতে যেতে আপন মনে গান গাইছিলেন । যাত্রীটির ভালো লাগে আর ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করে । এরপর ওই ট্যাক্সি ড্রাইভারটি কেপটাউন অপেরা থেকে গাইবার জন্য অফার পান । শুধু তাই নয় , লস এঞ্জেলস , ক্যালিফোর্নিয়ার এক ট্যালেন্ট শোতে ও অংশ নেন । মেনজি এখন গায়ক হিসাবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন ।

৫ ) নিঃসঙ্গ বালক

ছয় বছরের বালকের জন্মদিন , কেউ ই হাজির হতে পারেনি । ছেলেটির মা পুরো ঘটনা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে আর অবাক করার মতো ব্যাপারটা হলো কিছুক্ষনের মধ্যেই ।প্রায় ৪০ জন নানা জায়গা থেকে ওদের বাড়িতে হাজির হন শুধুমাত্র ছেলেটিকে অভিনন্দন জানাতে যাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ আর ফায়ার ফাইটাররাও ।

৬ ) ভালোবাসার জয়

চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে এক দোকানে সাভানা ক্যাম্পবেল নামের মেয়েটির একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয় আর তাকে ভালো ও লাগে । কিন্তু সে তার নাম ও জানতো না , ফোন নম্বর ও জানতো না , শুধু শুনেছিলো তার কুকুরের নাম , রোজি । এরপর জায়গা আর এই কুকুরের নাম দিয়ে নিজের কথাটি ফেসবুকে পোস্ট করে । অনেকেই উদ্যোগী হয়ে তাকে ছেলেটির আড্রেস জানিয়ে দেয় আর এখন তারা প্রেমিক-প্রেমিকা ।

৭ ) বিকলাঙ্গের গল্প

এক ভদ্রলোক নিজের গল্প লেখেন ফটো সহ , ” আর এক ঘন্টার মধ্যে আমার একটা বড়ো অপারেশন হবে আর তাতে আমি আমার পা দুটো হারাতে চলেছি । আসলে মোটরসাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসতাম আর তার অক্সিডেন্টেই এই ঘটনা । বেশ অসহায় লাগছে ।” এর পর পরই তার গল্পে প্রায় ১০০০ জন মন্তব্য করেন , তাকে খুব সাহস দেন , পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল বাড়াতে সাহায্য করেন আর নিজেদের ওই ধরণের গল্প ও তাকে বলেন । ফলে ভদ্রলোক নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা পান আর সকলে ধন্যবাদ জানান ।

৮ ) চুরি না

চ্যারিটিতে দেবার জন্য , এক নয় বছরের স্কুল গার্ল নাম আলিজা , একটা জুসের কাউন্টার করেছিল । বিস্কুট-জুস্ বিক্রি করে নয় দলের হয়ে ও ছিল , এমনি সময় কেউ একজন কাউন্টার থেকে টাকাটা চুরি করে নিয়ে চলে যায় । দুঃখী আলিজার জন্য তার বাবা পুরো ঘটনাটা লিখছে ফেসবুকে পোস্ট করে । পরের দিন যখন এলিজা কৌটার দেয় তখন এক সজ্জন পুলিশ অফিসার এসে পাহারা দেয় আর আরো অনেকে আলিজার কাছে জুস্ খেয়ে তার চ্যারিটিতে দেবার টাকা তুলতে সাহায্য করে । কত টাকা দিয়েছিলো আলিজা , জানো ? তিনশো ডলার ।

৯) চুল যখন অপরাধী

কেয়রন ওয়াশিংটন বেশ মনমরা , তখন তার কারণ জানিয়ে কেয়রণের মা ফেসবুকে পোস্ট করে ঘটনাটা । কেয়রণের নাকি মাথাভর্তি বিনুনি করা চুল আর এই রকম ভাবেই সে একটা থিম পার্কে জবের ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলো । সেখানে এই রকম চুলের জন্য তাকে নেয়া হয়নি । ছবি শুধু পোস্টে অনেকের ই নজর পরে , আর এক মডেল কোম্পানি দেরি না করে কেয়রণের সাথে যোগাযোগ করে তাকে মডেলিংয়ের অফার দেয় । কেয়রন এখন মডেলিং ভালোই করছে ।
১০ ) খোঁজ খোঁজ

এলিসে , ইংল্যান্ডের এক মেয়ে , অটিজম রোগে আক্রান্ত ।কিছু বিশেষ বস্তুর প্রতি তার খুব আকর্ষণ থাকে , এমন ই যে সেটা ছাড়া চলে না । এইরকম ই তার একটা প্রিয় টি-শার্ট সে হারিয়ে ফেলে আর দুঃখে সবকিছু ভুলতে বসেছিল । ফেসবুকে পোস্ট হওয়া তার এই ঘটনায় অনেকেই দুঃখিত হন আর চারিদিকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করেন এলিসের টি শার্ট টি ।

কি , কেমন লাগলো গপ্পোগুলো , আর এগুলো সব সত্যি গল্প । তবে অনেকসময় নানা মিথ্যা গল্পে ও সোশ্যাল মিডিয়া বোঝাই হয় তাই নিজের চোখ-কান খোলা রেখে গল্প পড়তে বসো , আর যাই হোক , ঠকবে না ।

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →