kids

ইউরোপের বাচ্চা

প্রতিটি সভ্যতার আর সংস্কৃতির নিজস্ব কিছু উপায় থাকে বাচ্ছাদের বড়ো করার ক্ষেত্রে আর যারা বুদ্ধিমান তারা সব কিছু থেকেই ভালো গুলো নিয়ে নিজেরা ব্যবহার করে থাকেন । তবে সব জায়গার থেকে এগিয়ে থাকে ইউরোপের স্কান্ডিনেভিয়ান সভ্যতার নিয়ম কানুন । এই জায়গায় বাচ্ছারা খুবই বাধ্য আর পিতামাতারা নিশ্চিন্ত । আসলে পেরেন্টসরা সুন্দর করে বাচ্ছাদের গাইড করে কিভাবে জীবনকে উপভোগ করা যায়, তাই এই ফলাফল । এবার দেখি তাদের পদ্ধতিগুলো ঠিক কি কি……

১ ) বেশি খেলনা না

স্কান্ডেনিভিয়ান পিতা-মাতার ধারণা , বাড়িতে যদি বাচাদের জন্য বেশি পুতুল , খেলনা কার এইসব থাকে তবে বাচ্ছাদের মনোযোগ কমে যায় । তাই ওনারা অল্প কিছু খেলনা কিনে দিয়ে তাদের কল্পনা শক্তি যাতে বাড়ে তার সাহায্য করে থাকেন । আর এই ভাবে বাচ্ছারা শিখে যায় , যা খেলনা তাদের আছে , সেগুলোর ঠিকঠাক কদর করতে ।

২ ) নিজের প্রকাশ

এই স্কান্ডিনেভিয়ান মায়েদের মুখ থেকে কখনো শুনতে পাবে না , ” ওই বালিতে খেলবি না মাথায় ধুলো লাগবে , ওই কাদায় খেলবি না জামায় কাদা লাগবে ” এইসব । বদলে তারা বাচ্ছাদের উৎসাহ দেন , খেলার মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করতে । এইভাবে বাচ্ছাগুলো বন্ধুদের সাথে উৎসাহ নিয়ে খেলে , নিজেদের বন্ধুত্ব -ভালোবাসা- হাসি সবকিছু ভরপুর ভাবে উপভোগ করে । খেলতে গিয়ে যদি বাচ্ছারা জামায় নোংরা না লাগিয়ে বাড়ি ফেরে তবে বাবা-মা রা ভাবে তারা খেলেনি ।

৩) খারাপ আবহাওয়ায় খাপ খাওয়ানো

সাধারণত সব পিতা-মাতা রাই খারাপ আবহাওয়ায় বাচ্ছাদের বাড়ির বাইরে যেতে মানা করেন কারণ শরীর খারাপের ভয় । কিন্তু স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পেরেন্টসরা বাচ্ছাদের প্রতিদিন ই বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য করেন টাটকা বাতাস নিতে । এতে তারা খারাপ আবহাওয়ার সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে । এখনকার মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন , এতে বাচ্ছাদের স্ট্রেস কম হয় , হ্যাপি-হরমোন ক্ষরিত হয় বেশি বেশি আর পিতা মাতাদের সাথে সম্পর্কের উন্নতি হয় ।
আসলে এই স্কান্ডেনিভিয়ান দেশে ভালো আবহাওয়া কমই হয় , তাই খারাপ আবহাওয়ায় ছেলেরা গরম জামাকাপড় পরেই বাইরে বেরোয় । এতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে , খারাপ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে বাঁচায় ।

৪) বাবার দায়িত্ব

বাচ্ছাদের সব কাজের দায়িত্ব বাবাকেও সমান ভাবে পালন করতে হবে । এর জন্য সরকারের তরফ থেকে ও তাদের উৎসাহ দেয়া হয় ” প্যাটার্নিটি লিভ ” দিয়ে । স্কান্ডিনেভিয়ান দেশগুলির মধ্যে , নরওয়েতে থাকে ৬ মাস , সুইডেনে ৩ মাস আর ডেনমার্কে থাকে ৪ মাস ছুটি বাবাদের জন্য আর সাথে পুরো স্যালারি । বাবারা যাতে বাচ্ছাদের সাথে সময় কাটান ভালো করে তাই তাদের এই ছুটি দেয়া হয় । এরফলে বাচ্ছারা ও বাবাদের সাথে নিজেদের বন্ধন ঠিক করে গড়ে তুলতে পারে ।

৫) খেলো খুব কিন্তু শুধু জিততে না

পিতা-মাতারা বাচ্ছাদের খুব করে উৎসাহ দেন ছেলেবেলাতেই নানা ধরণের খেলা তারা যাতে শিখে যায় যার জন্য । কিন্তু পেরেন্টসরা কখনোই তাদের ভুল-ঠিক বিচার করেন না , তাদের মেডেল জিততে ও বাধ্য করেন না । তাই স্থুলকায় কেউ যদি জিমন্যাস্টিক্স শিখতে যায় তবে তার বাবা-মা কখনো মানা করেন না , এমনকি গেম টিচার ও তাকে উৎসাহ দেন ।

৬) মারধরের শাস্তি না

১৯৭৯ সালে , বিশ্বের মধ্যে প্রথম , সুইডেন দেশটি বাচ্ছাদের মারধর করে শাস্তি দিতে মানা করেন , স্কুলেও না , বাড়িতেও না আর এর জন্য আইন ও করেন ।সমস্ত ঝগড়া আলোচনা করে মিটিয়ে নেয়া যায় , এই তাদের মত । বাচ্ছাদের মারধর করলে , তারা পুলিশ ডাকতে পারে আর বাবা-মায়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে , তাদের দেড় বছর জেল ও হতে পারে ।

৭) জেন্ডার নিয়ে ভাবেন না

অনেক জায়গার মতো , বাচ্চা জন্মানোর আগেই তার জন্য ছেলে হলে নীল রঙের জামা আর মেয়ে হলে গোলাপি রঙের জামা কেনেন না এই স্কান্ডিনেভিয়ান জায়গার লোকেরা । বরং তারা কেনে , নিউট্রাল রঙের জামা-কাপড় , যে জেন্ডারেরের ই বাচ্চা হোক না কেন । এটা একটা বাস্তব বুদ্ধি ও বটে কারণ বাচ্চার জামা ছোট হয়ে গেলে অন্যজন সহজেই পরতে পারে ।
এমনকি খেলনা কেনার সময় ও ছেলেদের কোনটা আর কোনটা মেয়েদের এ ব্যাপারে কোনো ভেদাভেদ নেই , পুরানো চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত । এমনকি স্কুলেও বাচ্ছারা এক সাথেই বসে , ছেলে-মেয়ে আলাদা আলাদা দিকে নয় ।

৮ ) নিজের শরীরটাকে পছন্দ করো

মা-বাবারা বাচ্ছাদের এটাই শেখান যে নিজের শরীর নিয়ে যেন কেউ হীনমন্যতায় না ভোগে । তাই তারা ঘরে এমনকি বাইরে ও বাচ্ছাদের কম জামা- কাপড় পরতে দেন । সুইমিং পুল – সি বিচে , বাচ্ছারা যাতে সহজেই স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠতে পারে তাই এই অবস্থা ।

৯ ) স্বনির্ভর হওয়া

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলির পেরেন্টসরা বাচ্ছাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে অনুমোদন করে আর সেটা যাতে ফ্রি ভাবে করে তাও লক্ষ্য রাখে । বাচ্ছাদের ঘরের কাজ কর্ম ও শেখায় , ডিশ ধোয়া , জামা কাছে এইসব । তারা যেমন পারে তেমন করে , ভুল করতে করতে শেখে কিন্তু বাবা-মারা সমালোচনা করেন না । এতে বাচ্ছারা ও স্বাধীন হয় আবার মা-বাবাকে বিশ্বাস ও করে ।

১০ ) দাঁতের যত্ন

এমনিতেই পাশ্চাত্য দেশে দাঁতের জন্য ডাক্তার দেখতে গেলে বিল বেশ বড়োসড়ো হয় । তাই সুইডেনের মতো দেশে বাচ্ছাদের দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাবার ফীজ অনেক সময় সরকার দেন । ডাক্তারের কাছে ভয় থেকে বাঁচাতে অনেকভাবে মানসিক সাহায্য ও করে থাকেন । আর পেরেন্টস রা তো রয়েছেন , বাচাদের দাঁতের যত্নের ব্যাপারে সচেতন করে তোলার জন্য ।

১১ ) নিরুদ্বেগ থাকা

স্ক্যান্ডিনিভিয়ান পেরেন্টস রা হলেন আসলে ” চিন্তামুক্ত থাকা বাবা – মা ” । তারা বাচ্ছাদের একই সাথে ভাষা শেখা , সাঁতার শেখা , গিটার শেখা , এইসব নিয়ে ব্যস্ত করে তুলতে চান না । তারা নিজেরা বাচ্ছাদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসেন । আর চান বাচ্ছারা নিজেদের ফাঁকা সময়গুলো সুন্দর করে উপভোগ করুক । এতে বাচ্ছারা নিজেদের কল্পনা শক্তি বাড়াতে পারবে , আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে আর যে কোনো কাজে ও তাড়াতাড়ি দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে ।

Tagged , ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →