useful things

উপস্থিত বুদ্ধি

জীবনে চলার পথে আমরা এই ব্যাপারটা ভালোই বুঝতে পারি যে পড়াশুনা করার বুদ্ধি থাকুক আর নাই বা থাকুক উপস্থিত বুদ্ধি যা অন্যভাবে সাধারণ বুদ্ধি নামে ও পরিচিত , তার গুরুত্ব ঠিক কতখানি । বিপদে পরলে তখন বোঝা যায় আর ভালোভাবে , তখন হয় ভুল কাজ করি নয়তো খুব ভীত হয়ে পরি আবার কখনো পরিস্থিতি সম্পর্কে ঠিক ধারণাই করতে পারি না ।আর এর বেশিরভাগটাই হয় আমাদের জ্ঞানের অভাবের জন্য , আগে থাকতে জেনে রাখলে একটু হয়তো কার্যক্ষেত্রে আমরা সুবিধা পেয়ে যাবো । বলছি সেরকম কিছু টুকরো জ্ঞানের কথা……………………….

১) তাওয়ায় আগুন – ফ্রাইং প্যানে তেল দিয়ে খুব গরম হয়ে আগুন লেগে গেলে তাতে যেন ভুলেও জল দিয়ো না তাতে আগুন আরো বেড়ে উঠবে । বেকিং সোডা ঢেলে দাও আগুনের উপর আর একটা শক্ত ঢাকনা দিয়ে প্যান টা ঢেকে দাও । এর জন্য রান্নাঘরে হাতের কাছে অবশ্যই বেকিং সোডা রাখা উচিত ।

২) জলের তলায় – আনন্দে জলে নামলে আমরা তার গভীরতা নিয়ে ভাবতে ভুলে যাই আর বিপদে পরি । এইরকম সময়ে জলের উপরিতল সম্পর্কে ধারণা করতে মুখ দিয়ে কিছু বাবল ছাড়ো আর দেখতে থাকো সেগুলো কোন দিকে যাচ্ছে । যেদিকে যাচ্ছে সেদিকটা ঠান্ডা মাথায় অনুসরণ করলেই আর ডুবে যাওয়ার ভয় থাকবে না ।

৩) ঘর পরিষ্কার – বাথরুম -কিচেন পরিষ্কার করতে আমরা অনেক সময় ব্লিচ ব্যবহার করি । কিন্তু অন্য যেসব পরিষ্কার করার লিকুইড বাজারে পাওয়া যায় তার সাথে ব্লিচ একসাথে ব্যবহার করো না । ওই সব ক্লিনজিং লিকুইডে থাকে এমোনিয়া যা ব্লিচের সাথে মিশে এমন এক বিষাক্ত গ্যাস তৈরী করে যাতে তোমার শরীর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে ।

৪) বিপদ সংকেত – পুলিশ আর এম্বুলেন্সে কল করলে প্রথমেই নিজের ঠিকানাটা জানিয়ে দাও ,পরে ফোন করার কারণটা বোলো । অন্যসময় আমরা উত্তেজিত হয়ে কারণটা বলে রেখে দিই আর তাতে তাদের আসতে , আমাদের ঠিকানা খুঁজে পেতে সমস্যা হয় ।

৫ ) পশুর কামড়ানো – কোথাও গেলে কিংবা বাড়ির কাছাকাছি যেখানেই তোমাকে কোনো পশু কামড়াবে -আঁচড়াবে তবে ডাক্তারের কাছে যেতে একেবারেই দেরি করো না । ১০-১৫ দিনের মধ্যে আঘাত পাওয়া জায়গাটা সরিয়ে তুলতে হবে । ডাক্তারের কাছে যেতে যত বেশি দেরি করবে তত বেশি তোমার বাঁচার আশা কম হতে থাকে কারণ এই ধরণের ইনফেকশন দেরি হয়ে গেলে চিকিৎসা করা মুশকিল ।

৬) তড়িৎ সংকেত – তোমার যদি সন্দেহ হয়ে থাকে যে কোথাও তড়িদাহত হতে পারো বা স্থির তড়িতের ঝটকা খাবে তবে সেক্ষেত্রে সেই বস্তুটিকে হাতের তালু দিয়ে নয় , বাইরের দিক দিয়ে স্পর্শ করে দেখো প্রথমে । এতে সহজেই হাত সরিয়ে দূরে চলে যেতে পারবে , হাতের তালু দিয়ে ধরলে ছাড়ানো মুশকিল ।

৭ ) রাস্তা পার – রাস্তা ক্রস করার সময় যদি তুমি গাড়ির সামনের কাঁচে সূর্যের আলোর প্রতিফলন দেখতে পাও তবে নিশ্চিত যেন ড্রাইভার তোমাকে দেখতে পাবে না । সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করো আর নিশ্চিত হয়ে তবেই রাস্তা পার হয়ো ।

৮) বজ্রাঘাত – ঘরের বাইরে থাকলে বিদ্যুৎ চমকানোর সময় বেশ ভালোভাবেই সাবধানে থাকতে হয় । সাধারণত উঁচু জায়গাতেই বজ্রাঘাত বেশি হয় তাই নিচু জায়গায় থাকার চেষ্টা করো । তবে লক্ষ্য রেখে কাছাকাছি যেন কোনো ধাতু না থাকে । তাই নিজের ফোন ও দূরে রাখো , পারলে মাথা নিচু করে বসে থাকো । দুই পা যেন জুড়ে থাকে , হাত জোড়া কোলে রাখো ।

৯) জঙ্গলে হারানো – জলন্গলে বেড়াতে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা একই রকম গাছ দেখতে দেখতে অনেক দূর চলে যাই আবার কখনো এইভাবে রাস্তা ও হারিয়ে ফেলি । এইসময় রাস্তা খুঁজে পেতে হলে আমাদের খুঁজতে হয় জলের জায়গা । আকাশে তাকিয়ে পাখি দেখতে থাকো , যদি পাখি উঁচুতে উড়ছে তবে জানবে জলে জায়গা দূরে আছে কিন্তু নিচুতে থাকা পাখি বুঝিয়ে দে জলের জায়গা কাছেই । আর জলের কাছে পৌঁছালো রাস্তা পেয়ে যাবে সহজেই ।

১০ ) গাড়ির বিপদ– যদি ফাঁকা রাস্তায় গাড়ির কোনো বিপদ হয় মানে টায়ার সংক্রান্ত কিংবা ইঞ্জিন সংক্রান্ত তবে রাস্তায় নেমে সাহায্যের জন্য কাপড় নাড়তে থাকো । লাল রঙের কাপড় হলে বেশি ভালো তাই গাড়িতে অবশ্যই লাল রঙের কিছু রেখে দিয়ো । কখনোই গাড়ি ছেড়ে দূরে চলে যেয়ো না কারণ গাড়ি ই আগে চোখে পরে অন্যদের তার পর মানুষকে ।

১১) মাছের গন্ধ – বাড়িতে মাছ রান্না না করা হলেও যদি মাছের গন্ধ পাও অথবা প্রসাবের মতো দুর্গন্ধ ছাড়ে তবে সতর্ক হয়ে যায় । বৈদ্যুতিক তারে কোনো গন্ডগোল হতে পারে , শর্ট-সার্কিট হয়ে পুড়ে গেলে অনেকসময় এইরকম গন্ধ ছড়ায় । তাই বড়ো কোনো বিপদ হবার আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে দাও ।

১২ ) বদ্ধ গাড়ি – গাড়ির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পরলে , বের হতে না পারলে সহজ উপায় হলো কাঁচ ভেঙে বেরিয়ে আসা । তবে আছে মাঝখানে ঘা দিলে সেটি ভাঙে না , চেষ্টা করো একেবারে ধারের দিকে আঘাত করতে । হাতের কাছে তেমন কিছু না থাকলে সিটের উপরে থাকা মাথার জন্য জায়গাটা খুলে কাঁচে আঘাত করো । এই জিনিসটা বিভিন্ন গাড়িতে বিভিন্ন থাকে তাই একটু আগে-ভাগে দেখে রাখা ভালো ।

১৩ ) সমুদ্র তীর – সমুদ্র সৈকতে গেলে জলের জায়গাটি ঠিক কোনখানে সে ব্যাপারে খেয়াল রেখো । যদি দেখো জল , বেলাভূমি থেকে অনেক দূরে চলে গেছে তবে ঢেউয়ের উচ্চতা বেশি হবে তাই সাবধানে থেকো । আর জলের অবস্থান কাছাকাছি থাকলে কম উচ্চতার ঢেউ হয় । জল , সৈকত থেকে অনেক দূরে চলে গেলে সুনামি ও হতে পারে ।

Tagged ,

About Antara Samanta

Myself is Antara Samanta, a wanna be writer in homemaking style with an idea to embrace the indifference in a classy dynamic way. Antara is passionate about reading,singing and writing-in that way.
View all posts by Antara Samanta →

Leave a Reply